মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ - হাতে রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহের গ্যাসের মজুত। এর মধ্যেই খুঁজতে হবে বিকল্প পথ - নাহলে স্থবির হয়ে পড়তে পারে অর্থনীতির চাকা।
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:১২ পিএমআপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
বাংলাদেশের হাতে রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ খুঁজতে হবে বিকল্প পথ
“আমাদের যে পরিমাণ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) মজুত রয়েছে এবং যে সব জাহাজ পথে রয়েছে তাতে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের মজুত নিয়ে সমস্যা নেই,” আলাপকে বলেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো: শফিকুল ইসলাম।
এর অর্থ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহর মজুত। এর মধ্যেই খুঁজতে হবে বিকল্প পথ।
নয়তো অন্ধকার হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের বিদ্যুৎসহ পুরো উৎপাদন খাত, সর্বোপরি ঝুঁকিতে পড়বে পুরো অর্থনীতি- এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
এলএনজিতে মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা
কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি প্লাট। যেখানে ইরানের ড্রোন হামলার পর উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতারের অন্যান্য প্লান্টগুলো থেকেও সরবরাহ ব্যাহত রয়েছে যুদ্ধের পর থেকেই।
এর ফলে পুরো বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি’র সরবরাহ আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জন্য কাতারভিত্তিক এলএনজি সংকট আরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। কারণ দুটি দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার থেকেই আমদানি করা হয় মোট এলএনজি আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি।
আরপিজিসিএল এর পরিসংখ্যান বলছে, বছরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১৫টি কার্গোর (জাহাজ) মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। যার মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, ৪০ লাখ টনই এককভাবে সরবরাহ করে কাতার এনার্জি।
এ বছর যে ১১৫টি কার্গো এলএনজি নিয়ে আসার কথা তার মধ্যে কাতারের ৪০টি ছাড়াও আরও ১৬টি আসার কথা ওমান থেকে। যেগুলোও আটকে যাবে হরমুজ সমস্যায়।
দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে কমবেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট।
এই ২৭০ কোটি ঘন ফুটের মধ্যে বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক ১৭১ কোটি ঘনফুট।
আর আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৮৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
যে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে রয়েছে তার মধ্যে ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। যেখানে ভুগতে হচ্ছে শিল্প-কারখানাগুলোকে।
অন্যদিকে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট যাচ্ছে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। যেখানে গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে আমদানি বাড়িয়ে ১০৫ কোটি ঘনফুট করার কথা রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তার এক তৃতীয়াংশই আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।
সরবরাহ সংকটে দুশ্চিন্তা শুরু হবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
“বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা, বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ঠিক রাখতে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় তার ৮০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুটই আসে আমদানি করা গ্যাস থেকে। যার বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। কাতার ও ওমান থেকে সেই এলএনজি না এলে গ্যাস সংকটে পড়বে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি,” আলাপকে বলেছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাস না পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে বিকল্প খুঁজতে হবে স্পট মার্কেট থেকে।
তবে দুঃসংবাদ হলো ইতোমধ্যেই দাম বাড়তে শুরু করেছে সেখানে।
কাতার এনার্জির ঘোষণার পর সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের ভিত্তিমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এশিয়ায় এলএনজির ভিত্তিমূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। তবে এলএনজি পরিবহন এক মাস বন্ধ থাকলে এশিয়ার স্পট মার্কেট এলএনজির দাম ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস।
নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি’র পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন আরব নিউজকে বলেছেন, “যদি এলএনজি/গ্যাস বাজার কাতারের এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির আশঙ্কাকে দামে প্রতিফলিত করা শুরু করে, তাহলে টিটিএফের মূল্য সম্ভাব্যভাবে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮০–১০০ ইউরো (প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮–৩৫ ডলার) পর্যন্ত লাফিয়ে উঠতে পারে।”
স্পট মার্কেটের এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে আগে ভাগেই বিকল্প ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম।
তার ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহার করা হলে সেক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে স্পট মার্কেটেও দাম বাড়ছে তাই আগে থেকেই ভাবতে হবে। আর এ জন্য সময় মাত্র ১৫ দিন।”
সেটা করা না গেলে পুরো অর্থনীতিই পড়বে নতুন ঝুঁকিতে।
চৌদ্দ দিন পর বাংলাদেশে অন্ধকার নেমে আসার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ - হাতে রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহের গ্যাসের মজুত। এর মধ্যেই খুঁজতে হবে বিকল্প পথ - নাহলে স্থবির হয়ে পড়তে পারে অর্থনীতির চাকা।
“আমাদের যে পরিমাণ এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) মজুত রয়েছে এবং যে সব জাহাজ পথে রয়েছে তাতে চলতি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমাদের মজুত নিয়ে সমস্যা নেই,” আলাপকে বলেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো: শফিকুল ইসলাম।
এর অর্থ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহর মজুত। এর মধ্যেই খুঁজতে হবে বিকল্প পথ।
নয়তো অন্ধকার হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের বিদ্যুৎসহ পুরো উৎপাদন খাত, সর্বোপরি ঝুঁকিতে পড়বে পুরো অর্থনীতি- এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
এলএনজিতে মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা
কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি প্লাট। যেখানে ইরানের ড্রোন হামলার পর উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার এনার্জি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতারের অন্যান্য প্লান্টগুলো থেকেও সরবরাহ ব্যাহত রয়েছে যুদ্ধের পর থেকেই।
এর ফলে পুরো বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি’র সরবরাহ আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জন্য কাতারভিত্তিক এলএনজি সংকট আরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। কারণ দুটি দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার থেকেই আমদানি করা হয় মোট এলএনজি আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি।
আরপিজিসিএল এর পরিসংখ্যান বলছে, বছরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১৫টি কার্গোর (জাহাজ) মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। যার মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, ৪০ লাখ টনই এককভাবে সরবরাহ করে কাতার এনার্জি।
এ বছর যে ১১৫টি কার্গো এলএনজি নিয়ে আসার কথা তার মধ্যে কাতারের ৪০টি ছাড়াও আরও ১৬টি আসার কথা ওমান থেকে। যেগুলোও আটকে যাবে হরমুজ সমস্যায়।
ঝুঁকিতে বিদ্যুৎসহ উৎপাদন খাত
দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে কমবেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট।
এই ২৭০ কোটি ঘন ফুটের মধ্যে বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক ১৭১ কোটি ঘনফুট।
আর আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৮৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
যে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে রয়েছে তার মধ্যে ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিয়ে শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। যেখানে ভুগতে হচ্ছে শিল্প-কারখানাগুলোকে।
অন্যদিকে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট যাচ্ছে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। যেখানে গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে আমদানি বাড়িয়ে ১০৫ কোটি ঘনফুট করার কথা রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তার এক তৃতীয়াংশই আসে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।
সরবরাহ সংকটে দুশ্চিন্তা শুরু হবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
“বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা, বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ ঠিক রাখতে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় তার ৮০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুটই আসে আমদানি করা গ্যাস থেকে। যার বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। কাতার ও ওমান থেকে সেই এলএনজি না এলে গ্যাস সংকটে পড়বে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি,” আলাপকে বলেছেন তিনি।
স্পট মার্কেটে বাড়ছে দাম
মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাস না পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে বিকল্প খুঁজতে হবে স্পট মার্কেট থেকে।
তবে দুঃসংবাদ হলো ইতোমধ্যেই দাম বাড়তে শুরু করেছে সেখানে।
কাতার এনার্জির ঘোষণার পর সোমবার ডাচ ও ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের ভিত্তিমূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এশিয়ায় এলএনজির ভিত্তিমূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। তবে এলএনজি পরিবহন এক মাস বন্ধ থাকলে এশিয়ার স্পট মার্কেট এলএনজির দাম ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস।
নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি’র পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন আরব নিউজকে বলেছেন, “যদি এলএনজি/গ্যাস বাজার কাতারের এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির আশঙ্কাকে দামে প্রতিফলিত করা শুরু করে, তাহলে টিটিএফের মূল্য সম্ভাব্যভাবে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮০–১০০ ইউরো (প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮–৩৫ ডলার) পর্যন্ত লাফিয়ে উঠতে পারে।”
বিকল্পে বাড়বে খরচ
স্পট মার্কেটের এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে আগে ভাগেই বিকল্প ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম।
তার ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহার করা হলে সেক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে স্পট মার্কেটেও দাম বাড়ছে তাই আগে থেকেই ভাবতে হবে। আর এ জন্য সময় মাত্র ১৫ দিন।”
সেটা করা না গেলে পুরো অর্থনীতিই পড়বে নতুন ঝুঁকিতে।
বিষয়: