ব্যবসায়ীদের এক অংশ বলছে বেড়েছে আমদানি, ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কেউ আবার দাম বাড়ার কারণ হিসাবে তুলে আনছে সিলিন্ডার ঘাটতির বিষয়টি। দাম কমাতে এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বিইআরসির সাথে বৈঠকের পর এলপিজি’র সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে ব্যবসায়ীরা।
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএমআপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
শীতে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে চাহিদা বাড়তে থাকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের। সাধারণত এই সময় আমদানিও বাড়িয়ে দেয় কোম্পানিগুলো।
তথ্য বলছে, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে এলপিজি আমদানি বেড়েছে ২১ শতাংশ।
যথেষ্ট মজুত থাকার পরও গ্রাহকদের জিম্মি করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপিজি’র সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে চলছে তুঘলকি কাণ্ড।
গ্রাহকে এই জিম্মি দশা থেকে বের করতে মাঠে নামে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর।
এর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
তবে দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি’র সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় আলাপকে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি আলাপকে বলেন, “আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিইআরসি সভাপতি। তাই আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।”
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবির হলো বিইআরসি থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয়, প্রশাসন দিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করা এবং পরিবেশক কমিশন বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো।
যদিও সবশেষ ৪ঠা জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করে ছিল কমিশন। সে সময় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অবশ্য এই দামে দেশের কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে ভোক্তাদের।
অনেকেই জানিয়েছিলেন, ২ হাজার টাকায়ও ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে সংকটের কারণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত থাকলেও খুব শিগগিরই এলপিজি গ্যাসের চলমান সংকট সহজেই কাটবে না বলেও মনে করছেন সবাই।
এ ছাড়া এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এলওএবি’র সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক আলাপকে বলেন, ‘শীতের সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকে কিন্তু চাহিদা থাকে বেশি। সুতরাং, এলপি গ্যাসের সংকট নেই বিষয়টি এমন নয়, সংকট আছে। তাই বলে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। কিন্তু বাজারে তা-ই হচ্ছে।”
এলওএবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন।
যা পরের মাস ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে, ২০.৯৫ শতাংশ।
অথচ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাড়তে থাকে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম। যার যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ভাষ্য, ২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে।
তার মানে বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে এলপিজি বাজারজাতে।
যে সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এলপিজি সিলিন্ডার: সংকটের আপাত সমাধান
ব্যবসায়ীদের এক অংশ বলছে বেড়েছে আমদানি, ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কেউ আবার দাম বাড়ার কারণ হিসাবে তুলে আনছে সিলিন্ডার ঘাটতির বিষয়টি। দাম কমাতে এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বিইআরসির সাথে বৈঠকের পর এলপিজি’র সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে ব্যবসায়ীরা।
শীতে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে চাহিদা বাড়তে থাকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের। সাধারণত এই সময় আমদানিও বাড়িয়ে দেয় কোম্পানিগুলো।
তথ্য বলছে, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে এলপিজি আমদানি বেড়েছে ২১ শতাংশ।
যথেষ্ট মজুত থাকার পরও গ্রাহকদের জিম্মি করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপিজি’র সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে চলছে তুঘলকি কাণ্ড।
গ্রাহকে এই জিম্মি দশা থেকে বের করতে মাঠে নামে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর।
এর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
তবে দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি’র সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় আলাপকে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি আলাপকে বলেন, “আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিইআরসি সভাপতি। তাই আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।”
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবির হলো বিইআরসি থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয়, প্রশাসন দিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করা এবং পরিবেশক কমিশন বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো।
যদিও সবশেষ ৪ঠা জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করে ছিল কমিশন। সে সময় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অবশ্য এই দামে দেশের কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে ভোক্তাদের।
অনেকেই জানিয়েছিলেন, ২ হাজার টাকায়ও ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা।
এদিকে সংকটের কারণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত থাকলেও খুব শিগগিরই এলপিজি গ্যাসের চলমান সংকট সহজেই কাটবে না বলেও মনে করছেন সবাই।
এ ছাড়া এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এলওএবি’র সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক আলাপকে বলেন, ‘শীতের সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকে কিন্তু চাহিদা থাকে বেশি। সুতরাং, এলপি গ্যাসের সংকট নেই বিষয়টি এমন নয়, সংকট আছে। তাই বলে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। কিন্তু বাজারে তা-ই হচ্ছে।”
এলওএবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন।
যা পরের মাস ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে, ২০.৯৫ শতাংশ।
অথচ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাড়তে থাকে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম। যার যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ভাষ্য, ২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে।
তার মানে বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে এলপিজি বাজারজাতে।
যে সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।