সোনার অতিরিক্ত দামে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চিন্তায়
বাংলাদেশের সোনার বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা। মাত্র ৩৪ দিনে দাম উঠানামা করেছে ২৫ বার। রেকর্ড দামে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪২ পিএমআপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
গত এক বছর ধরেই অস্থির বাংলাদেশের সোনার বাজার, দাম বাড়া-কমা এখন শুধু সকাল-বিকালে নয়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে।
এই দোলাচলে চলতি বছরের প্রথম ৩৪ দিনেই ২৫ বার সোনার দাম ওঠা নামা করেছে বাংলাদেশের বাজারে।
স্থানীয়ভাবে সোনার দাম কত হবে তা ঠিক করে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস।
নতুন বছরের প্রথম ৩৪ দিনে, মানে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১৭ বার দাম বাড়িয়েছে বাজুস। আর এতে একের পর এক ভেঙেছে রেকর্ড, দামের উল্লম্ফনে দেখা গেছে নতুন নতুন উচ্চতা।
দামবৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয় গত ২৯এ জানুয়ারি। প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম পৌঁছে গিয়েছিল রেকর্ড ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বছরের শুরুর দিন পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৯ দিনে দাম বাড়ে ৬২ হাজার টাকার বেশি।
‘অস্বাভাবিক’ এই দাম বৃদ্ধিতে মূল্যবান ধাতুটি এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুমে বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘিরে গহনা বিক্রি আগে বাড়লেও এবার তা পড়তির দিকে।
অতিরিক্ত দামে ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ’বিপাকে’ পড়েছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।
সোনার দাম নির্ধারণে তেলেসমাতি
সকাল-বিকেল নয়, বরং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের সোনার বাজারে চলছে তেলেসমাতি চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এক দিনেই দেখা যাচ্ছে তিন রকমের দাম।
মঙ্গলবার সকালে দোকান খোলার সময় সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই দাম নির্ধারণ করা আগের দিন। সকাল সাড়ে ১০টায় আবার বাড়িয়ে করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
বিকেল ৪টায় আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ফের ১১ হাজার টাকা বাড়িয়ে বাজুস সোনার দাম নির্ধারণ করে ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
এক দিনেই তিন ধরনের দামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভরি প্রতি সোনার দাম বেড়েছে ১৬ হাজার টাকার বেশি।
বাজুসের একজন নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সোনার স্বর্ণের দাম ওঠানামার পেছনে কোনো রহস্য নয়, এর পেছনে কাজ করছে ‘অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সামাজিক বিশ্বাস ও রীতি পরিবর্তনের প্রভাব’।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন আলাপ-কে বলেন, “বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণে আমরা সাধারণ দুটি বিষয়কে সমন্বয় করি। প্রথমত বুলিয়ান মার্কেট। দ্বিতীয়ত, দেশের সোনার বাজার।”
বুলিয়ান মার্কেট হলো সোনা, রূপা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর (বার বা কয়েন আকারে) পাইকারি কেনা-বেচার আন্তর্জাতিক বাজার।
এটি একটি বিকেন্দ্রীভূত বা ওভার দ্য কাউন্টার বাজার–যা মূলত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে মানদণ্ড ও মূল্য নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের বাজারে কত সোনা রয়েছে তার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই বাজুসের কাছে।
তাহলে এ ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচনা করা হয় যে বাংলাদেশে দাম কত হবে?
“এটা সাধারণত দেশের মার্কেটে পুরানো বা সনাতনী সোনা কেনা-বেচার ওপর নির্ভর করে,” বলেন শাহীন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সোনার বাজারে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও মনে করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে অস্থিরতা চলছে। প্রাইসগোল্ড ডট নেট তথ্য বলছে, গত এক মাসে আউন্স প্রতি সর্বোচ্চ ৫,৫৬০ ডলার থেকে সর্বনিম্ন ৪,৩৩২ ডলার পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।
তার মানে বিশ্ব মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দামে এই অস্থিরতার গ্রাফ ছিল ১,২২৮ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের সোনার বাজার খুবই ছোট। ধারণা করা হয়, বছরে ২০ থেকে ৪০ টন সোনার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পুরোনো অলংকার দিয়ে।
বাকিটা পূরণ হয় ব্যাগেজ রুলের আওতায় ও অবৈধ পথে বিদেশ থেকে আসা সোনা দিয়ে।
সম্প্রতি পরিবর্তন হওয়া ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, একজন যাত্রী বিদেশ থেকে একবারে শুল্ক ছাড়া সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা) সোনার অলংকার আনতে পারেন।
ব্যাগেজ রুল ছাড়াও সোনার দামে প্রভাব ফেলেছে আরও কিছু কারণ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ট্রাম্পের যুদ্ধ মনোভাব, মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমে আসা, বিনিয়োগ অস্থিরতার মতো বিশ্ববাজারের প্রভাবের পাশাপাশি নতুন এই ব্যাগেজ রুলে বিদেশ থেকে সোনা আনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ।
আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, “যুদ্ধ বা অশান্তি শুরু হলেই স্বর্ণের দাম বাড়ে। এর প্রভাব তো রয়েছেই, এছাড়া ব্যাগেজ রুলও একটা বড় কারণ। আগের মতো এই পথে (যাত্রীরা) আর সোনা আসছে না।”
ব্যাগেজ রুলে বছরে অন্তত দুইবার বিনা শুল্কে সোনা আনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।
নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সোনা এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জুয়েলারি দোকানগুলোতে গহনা বিক্রি কার্যত বন্ধের মুখে।
অলংকার নিকেতনের স্বত্বাধিকারী এমএ হান্নান আজাদ মনে করেন, দেশের স্বর্ণবাজার ভয়াবহ সংকটে রয়েছে। দাম বেশি, অন্য পণ্যের দামও চড়া, আবার মানুষের হাতেও টাকা নেই। ফলে দেশের অর্থনীতির মতো সোনার বাজারও রয়েছে স্থবির অবস্থায়।
“ব্যাবহারিক প্রয়োজনে মানুষ সেভাবে আর স্বর্ণ কিনছেন না। যার প্রভাব পড়ছে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর,” বলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক এই সহসভাপতি।
তার ভাষায়, “বাজুসের প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানির এক সোনা ব্যবসায়ী আলাপকে বলেন, “সোনার দাম এত ওঠা-নামা করছে যে, এখন সেভাবে ক্রেতারা আসছেন না। অথচ শীতে বিয়ের মৌসুম এবং ঈদে আমাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হতো।”
এই ব্যবসায়ীর ধারণা, বিয়েতেও এখন আর সেভাবে সোনা ব্যবহার হচ্ছে না। বরং অনেকেই আসল সোনার পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে সিটি গোল্ড বেছে নিচ্ছেন।
শিগগিরই সোনার দামের এই অস্থিরতা কমছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সোনার অতিরিক্ত দামে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চিন্তায়
বাংলাদেশের সোনার বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা। মাত্র ৩৪ দিনে দাম উঠানামা করেছে ২৫ বার। রেকর্ড দামে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
গত এক বছর ধরেই অস্থির বাংলাদেশের সোনার বাজার, দাম বাড়া-কমা এখন শুধু সকাল-বিকালে নয়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে।
এই দোলাচলে চলতি বছরের প্রথম ৩৪ দিনেই ২৫ বার সোনার দাম ওঠা নামা করেছে বাংলাদেশের বাজারে।
স্থানীয়ভাবে সোনার দাম কত হবে তা ঠিক করে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস।
নতুন বছরের প্রথম ৩৪ দিনে, মানে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ১৭ বার দাম বাড়িয়েছে বাজুস। আর এতে একের পর এক ভেঙেছে রেকর্ড, দামের উল্লম্ফনে দেখা গেছে নতুন নতুন উচ্চতা।
দামবৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয় গত ২৯এ জানুয়ারি। প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম পৌঁছে গিয়েছিল রেকর্ড ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। বছরের শুরুর দিন পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৯ দিনে দাম বাড়ে ৬২ হাজার টাকার বেশি।
‘অস্বাভাবিক’ এই দাম বৃদ্ধিতে মূল্যবান ধাতুটি এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুমে বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘিরে গহনা বিক্রি আগে বাড়লেও এবার তা পড়তির দিকে।
অতিরিক্ত দামে ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ’বিপাকে’ পড়েছেন বলে জানাচ্ছেন তারা।
সোনার দাম নির্ধারণে তেলেসমাতি
সকাল-বিকেল নয়, বরং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের সোনার বাজারে চলছে তেলেসমাতি চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এক দিনেই দেখা যাচ্ছে তিন রকমের দাম।
মঙ্গলবার সকালে দোকান খোলার সময় সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই দাম নির্ধারণ করা আগের দিন। সকাল সাড়ে ১০টায় আবার বাড়িয়ে করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
বিকেল ৪টায় আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ফের ১১ হাজার টাকা বাড়িয়ে বাজুস সোনার দাম নির্ধারণ করে ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
এক দিনেই তিন ধরনের দামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভরি প্রতি সোনার দাম বেড়েছে ১৬ হাজার টাকার বেশি।
বাজুসের একজন নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সোনার স্বর্ণের দাম ওঠানামার পেছনে কোনো রহস্য নয়, এর পেছনে কাজ করছে ‘অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সামাজিক বিশ্বাস ও রীতি পরিবর্তনের প্রভাব’।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন আলাপ-কে বলেন, “বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণে আমরা সাধারণ দুটি বিষয়কে সমন্বয় করি। প্রথমত বুলিয়ান মার্কেট। দ্বিতীয়ত, দেশের সোনার বাজার।”
বুলিয়ান মার্কেট হলো সোনা, রূপা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর (বার বা কয়েন আকারে) পাইকারি কেনা-বেচার আন্তর্জাতিক বাজার।
এটি একটি বিকেন্দ্রীভূত বা ওভার দ্য কাউন্টার বাজার–যা মূলত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে মানদণ্ড ও মূল্য নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের বাজারে কত সোনা রয়েছে তার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই বাজুসের কাছে।
তাহলে এ ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচনা করা হয় যে বাংলাদেশে দাম কত হবে?
“এটা সাধারণত দেশের মার্কেটে পুরানো বা সনাতনী সোনা কেনা-বেচার ওপর নির্ভর করে,” বলেন শাহীন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সোনার বাজারে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও মনে করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে অস্থিরতা চলছে। প্রাইসগোল্ড ডট নেট তথ্য বলছে, গত এক মাসে আউন্স প্রতি সর্বোচ্চ ৫,৫৬০ ডলার থেকে সর্বনিম্ন ৪,৩৩২ ডলার পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।
তার মানে বিশ্ব মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দামে এই অস্থিরতার গ্রাফ ছিল ১,২২৮ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
সোনার দামে ব্যাগেজ রুলের প্রভাব
বাংলাদেশের সোনার বাজার খুবই ছোট। ধারণা করা হয়, বছরে ২০ থেকে ৪০ টন সোনার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পুরোনো অলংকার দিয়ে।
বাকিটা পূরণ হয় ব্যাগেজ রুলের আওতায় ও অবৈধ পথে বিদেশ থেকে আসা সোনা দিয়ে।
সম্প্রতি পরিবর্তন হওয়া ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, একজন যাত্রী বিদেশ থেকে একবারে শুল্ক ছাড়া সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা) সোনার অলংকার আনতে পারেন।
ব্যাগেজ রুল ছাড়াও সোনার দামে প্রভাব ফেলেছে আরও কিছু কারণ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ট্রাম্পের যুদ্ধ মনোভাব, মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমে আসা, বিনিয়োগ অস্থিরতার মতো বিশ্ববাজারের প্রভাবের পাশাপাশি নতুন এই ব্যাগেজ রুলে বিদেশ থেকে সোনা আনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ।
আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, “যুদ্ধ বা অশান্তি শুরু হলেই স্বর্ণের দাম বাড়ে। এর প্রভাব তো রয়েছেই, এছাড়া ব্যাগেজ রুলও একটা বড় কারণ। আগের মতো এই পথে (যাত্রীরা) আর সোনা আসছে না।”
ব্যাগেজ রুলে বছরে অন্তত দুইবার বিনা শুল্কে সোনা আনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।
অস্থিরতায় হতাশ ছোট ব্যবসায়ীরা
নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সোনা এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জুয়েলারি দোকানগুলোতে গহনা বিক্রি কার্যত বন্ধের মুখে।
অলংকার নিকেতনের স্বত্বাধিকারী এমএ হান্নান আজাদ মনে করেন, দেশের স্বর্ণবাজার ভয়াবহ সংকটে রয়েছে। দাম বেশি, অন্য পণ্যের দামও চড়া, আবার মানুষের হাতেও টাকা নেই। ফলে দেশের অর্থনীতির মতো সোনার বাজারও রয়েছে স্থবির অবস্থায়।
“ব্যাবহারিক প্রয়োজনে মানুষ সেভাবে আর স্বর্ণ কিনছেন না। যার প্রভাব পড়ছে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর,” বলেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক এই সহসভাপতি।
তার ভাষায়, “বাজুসের প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানির এক সোনা ব্যবসায়ী আলাপকে বলেন, “সোনার দাম এত ওঠা-নামা করছে যে, এখন সেভাবে ক্রেতারা আসছেন না। অথচ শীতে বিয়ের মৌসুম এবং ঈদে আমাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হতো।”
এই ব্যবসায়ীর ধারণা, বিয়েতেও এখন আর সেভাবে সোনা ব্যবহার হচ্ছে না। বরং অনেকেই আসল সোনার পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে সিটি গোল্ড বেছে নিচ্ছেন।
শিগগিরই সোনার দামের এই অস্থিরতা কমছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।