অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালি পার হলো পুতিনের বন্ধুর প্রমোদতরি
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ পিএমআপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ উপেক্ষা করেই নৌপথ পাড়ি দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগীর একটি সুপারইয়ট।
বিলাসবহুল এই প্রমোদতরিটির নাম নর্ড। গত সপ্তাহের শেষে প্রায় ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ নর্ড দুবাই থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সে সময় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
হরমুজ অতিক্রম করা হাতেগোনা কয়েকটি নৌযানের মধ্যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা রুশ বিলিয়নিয়ার অ্যালেক্সি মর্দাসভের মালিকানাধীন এই ইয়টটি অন্যতম।
পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মোর্দাসোভ অবশ্য কাগজ-কলমে এই প্রমোদতরির মালিক নন। তবে নর্ড-এর দলিল অনুযায়ী, ২০২২ সালে এটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত করা হয়।
সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যমতে, প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের নর্ড শুক্রবার রাতে দুবাই ত্যাগ করে এবং রবিবার সকালে ওমানের রাজধানী মাসকাটের আল মৌজ মেরিনায় এসে পৌঁছায়।
গত ২৮এ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকার হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। মিত্রদের জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো নৌযান করতে দেওয়া হচ্ছে।
এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ পার হওয়া কোনো জাহাজ তারাও চলাচল করতে দেবেন না। দুই পক্ষের অবরোধে হরমুজ দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নৌযানগুলো এই পথটি এড়িয়ে চললেও, রুশ পতাকাবাহী প্রমোদতরিটির সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়লেও, ইরান রাশিয়ার সাথে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উপস্থিত ছিলেন উক্ত বৈঠকে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের চলমান সংঘাতকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই বলেছেন এবং এই লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে ইরানি জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘সাহসিকতার সাথে লড়াই’ করছে।”
আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত মেলাতে দেখা যায়।
তিনি সেখানে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আমাদের মধ্যকার স্ট্রেটেজিক পার্টনারশিপের গভীরতা ও দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যতই সামনের দিকে আগাচ্ছে, আমরা এই সংহতির জন্য ততই কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সমর্থনকেও আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”
নৌযান বিষয়ক ম্যাগাজিন 'সুপারইয়ট টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুসারে, রুশ এই সুপারইয়াটটিতে সুইমিং পুল ও হেলিপ্যাডের মতো আধুনিক সুবিধার পাশাপাশি নিজস্ব সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ব্যবস্থাও রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মোর্দাসোভ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
পশ্চিমা দেশগুলো মোর্দাসোভের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানালেও হংকং এবং মালদ্বীপ এর আগে এই প্রমোদতরীটি জব্দ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
মোর্দাসোভ বর্তমানে রাশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত ও খনি শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘সেভারস্টল’-এর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বরত।
ফোর্বসের তালিকায় মোর্দাসোভ বর্তমানে রাশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
তবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মোর্দাসোভ ওই প্রমোদতরিটিতে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অবরোধ উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালি পার হলো পুতিনের বন্ধুর প্রমোদতরি
হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ উপেক্ষা করেই নৌপথ পাড়ি দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগীর একটি সুপারইয়ট।
বিলাসবহুল এই প্রমোদতরিটির নাম নর্ড। গত সপ্তাহের শেষে প্রায় ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ নর্ড দুবাই থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সে সময় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
হরমুজ অতিক্রম করা হাতেগোনা কয়েকটি নৌযানের মধ্যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা রুশ বিলিয়নিয়ার অ্যালেক্সি মর্দাসভের মালিকানাধীন এই ইয়টটি অন্যতম।
পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মোর্দাসোভ অবশ্য কাগজ-কলমে এই প্রমোদতরির মালিক নন। তবে নর্ড-এর দলিল অনুযায়ী, ২০২২ সালে এটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত করা হয়।
সামুদ্রিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যমতে, প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের নর্ড শুক্রবার রাতে দুবাই ত্যাগ করে এবং রবিবার সকালে ওমানের রাজধানী মাসকাটের আল মৌজ মেরিনায় এসে পৌঁছায়।
গত ২৮এ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকার হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে ইরান। মিত্রদের জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো নৌযান করতে দেওয়া হচ্ছে।
এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ পার হওয়া কোনো জাহাজ তারাও চলাচল করতে দেবেন না। দুই পক্ষের অবরোধে হরমুজ দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নৌযানগুলো এই পথটি এড়িয়ে চললেও, রুশ পতাকাবাহী প্রমোদতরিটির সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়লেও, ইরান রাশিয়ার সাথে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উপস্থিত ছিলেন উক্ত বৈঠকে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের চলমান সংঘাতকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই বলেছেন এবং এই লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে ইরানি জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘সাহসিকতার সাথে লড়াই’ করছে।”
আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত মেলাতে দেখা যায়।
তিনি সেখানে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আমাদের মধ্যকার স্ট্রেটেজিক পার্টনারশিপের গভীরতা ও দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যতই সামনের দিকে আগাচ্ছে, আমরা এই সংহতির জন্য ততই কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সমর্থনকেও আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”
নৌযান বিষয়ক ম্যাগাজিন 'সুপারইয়ট টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুসারে, রুশ এই সুপারইয়াটটিতে সুইমিং পুল ও হেলিপ্যাডের মতো আধুনিক সুবিধার পাশাপাশি নিজস্ব সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ব্যবস্থাও রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মোর্দাসোভ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
পশ্চিমা দেশগুলো মোর্দাসোভের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানালেও হংকং এবং মালদ্বীপ এর আগে এই প্রমোদতরীটি জব্দ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
মোর্দাসোভ বর্তমানে রাশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত ও খনি শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘সেভারস্টল’-এর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বরত।
ফোর্বসের তালিকায় মোর্দাসোভ বর্তমানে রাশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
তবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মোর্দাসোভ ওই প্রমোদতরিটিতে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
(বিবিসি অবলম্বনে)
বিষয়: