মেসি-রোনালদোর ছায়া পেরিয়ে নতুন লড়াই, শর্টলিস্টে এমবাপে, কেইন, ইয়ামাল।
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএমআপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফা এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তখন এটি পরিচিত ছিল ফিফা ব্যালন ডি'অর নামে। পরে ফিফা নিজস্ব আলাদা পুরস্কার ফিফা বেস্ট প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড চালু করলেও দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ব্যালন ডি'অরকেই এখনো সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হয়।
ফুটবল দুনিয়ায় বছরের সবচেয়ে আলোচিত রাতটার জন্য আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। আসছে ২৬এ অক্টোবর লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি'অরের ৭০তম আসর। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের হাত ধরে ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া এই পুরস্কার এখন ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠান বসছে ইংল্যান্ডের রাজধানীতে আর এর পেছনে আছে এক আবেগঘন কারণ।
কেন লন্ডন?
ব্যালন ডি'অরের প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউজ। উয়েফা জানিয়েছে, সত্তর বছর আগের সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই এবার লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে আয়োজক শহর হিসেবে। এটাই প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে বসছে এই জমকালো অনুষ্ঠান।
কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী
ব্যালন ডি'অরের ভোটিং পদ্ধতি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। প্রথমে ফ্রান্স ফুটবল ও এল ইকিপ পত্রিকার সাংবাদিকেরা মিলে আগের মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি করেন ৩০ জনের একটি চূড়ান্ত শর্টলিস্ট। এরপর ফিফার শীর্ষ ১০০ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে সাংবাদিক তাদের পছন্দের সেরা দশ ফুটবলারের তালিকা জমা দেন। প্রথম স্থান থেকে দশম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে ১৫, ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।
সব ভোট গণনার পর যিনি সর্বোচ্চ পয়েন্ট পান, তিনিই হন বিজয়ী। পয়েন্টে সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে কার কতগুলো প্রথম স্থানের ভোট আছে, তারপরও সমতা থাকলে দ্বিতীয় স্থানের ভোট গণনা করা হয়।
ভোট দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে বলা হয়; খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা, দলগত সাফল্য এবং খেলার মাঠে সৌজন্যবোধ ও ফেয়ার প্লে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুরস্কারের নিয়মেও এসেছে বড় বদল। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত শুধু ইউরোপীয় ফুটবলাররাই এই পুরস্কারের যোগ্য ছিলেন। পরের ১২ বছর ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের খেলোয়াড় সুযোগ পেতেন। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবলারই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন।
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফা এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তখন এটি পরিচিত ছিল ফিফা ব্যালন ডি'অর নামে। পরে ফিফা নিজস্ব আলাদা পুরস্কার ফিফা বেস্ট প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড চালু করলেও দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ব্যালন ডি'অরকেই এখনো সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হয়।
মেসির রেকর্ড, রোনালদোর পিছু ছুটে চলা
ব্যালন ডি'অরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি। এরপরই আছেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পাঁচবার নিয়ে। ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন জিতেছেন তিনবার করে। আলফ্রেদো দি স্তেফানো, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, কেভিন কিগান, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে ও রোনালদো নাজারিও—এই পাঁচজন জিতেছেন দুইবার করে।
এমবাপের স্বপ্ন
রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে মনে করছেন, এবারের বছরটা হতে পারে তার জন্য প্রথমবার ব্যালন ডি'অর জেতার সেরা সুযোগ। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন তিনি, যদিও দল কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট, যা তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা নিয়ে গেছে রেকর্ড ২২-এ। তবে ফ্রান্স বিশ্বকাপে হয়েছে চতুর্থ স্থান অধিকারী। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এমবাপে বলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে খেললে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই পুরস্কারের সঙ্গে খেলোয়াড়কে জুড়ে দেখে।
৩০ জনের লড়াই
এবারের পুরুষদের শর্টলিস্টে জায়গা পেয়েছেন ৩০ জন খেলোয়াড়। ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। তার সঙ্গে ইংল্যান্ড থেকে আরও আছেন রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম এবং আর্সেনালের ডেক্লান রাইস।
নবম ব্যালন ডি'অরের খোঁজে আছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে আটটি গোল করেও স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, আর তার পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসর নেন মেসি।
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল থেকে ছয়জন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন শর্টলিস্টে, যাদের মধ্যে আছেন বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল। আর ফাইনালে জয়সূচক গোলদাতা ফেরান তোরেস, যিনি এই গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে, তিনিও জায়গা পেয়েছেন তালিকায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগ টানা দুবার জেতা পিএসজি থেকে শর্টলিস্টে আছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়—তোরেসকে বাদ দিয়েই ৯ জন, যার মধ্যে আছেন গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এমবাপের সঙ্গে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। আর্সেনালের রক্ষণভাগ থেকে জায়গা পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল ও উইলিয়াম সালিবা।
নারীদের ব্যালন ডি'অর
২০১৮ সালে চালু হওয়া নারীদের ব্যালন ডি'অর ফেমিনিন এখন পর্যন্ত তিনবার জিতেছেন স্পেনের আইতানা বনমাতি, দুইবার জিতেছেন তারই সতীর্থ আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ ছাড়া একবার করে জিতেছেন নরওয়ের আদা হেগারবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেগান রাপিনো।
এবারের নারী শর্টলিস্টেও আছেন ৩০ জন খেলোয়াড়। তবে চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে থাকায় তালিকায় নেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বনমাতি। টানা চতুর্থবার জিতলে তিনি মেসির সঙ্গে পরপর সবচেয়ে বেশিবার জেতার রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন।
নারীদের ভোটিং পদ্ধতি পুরুষদের মতোই, তবে এখানে ভোট দেন শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর ৫০ জন সাংবাদিক, পুরুষদের ক্ষেত্রে যা ১০০ জন।
সমালোচনার মুখেও ব্যালন ডি'অর
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নেই ব্যালন ডি'অরকে ঘিরে।
ঐতিহাসিকভাবে এই পুরস্কার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের পক্ষেই বেশি ঝুঁকেছে বলে অভিযোগ আছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন সেন্টারব্যাক—বেকেনবাওয়ার ও ফাবিও কানাভারো এবং একজন গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিন এই পুরস্কার জিততে পেরেছেন।
দলগত সাফল্যের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। অনেকের মতে, একজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর পরও শুধু দল ততটা সফল না হওয়ায় পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়।
এছাড়া খেলোয়াড়, কোচ কিংবা সাবেক ফুটবলারদের বদলে মূলত সাংবাদিকদের ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হওয়া নিয়েও আছে দ্বিমত। আর কারও কারও কাছে দলগত খেলায় ব্যক্তিগত পুরস্কারের ধারণাটাই গুরুত্বহীন মনে হয়।
মূল আসরের পাশাপাশি আরও যেসব পুরস্কার
মূল অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি'অরের পাশাপাশি দেওয়া হয় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।
একুশ বছরের কম বয়সী সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় কোপা ট্রফি, যেখানে ১০ জনের শর্টলিস্ট থেকে ভোট দেন সাবেক ব্যালন ডি'অর পুরস্কারজয়ীরা। সেরা গোলরক্ষকের জন্য আছে ইয়াশিন ট্রফি, আর সেরা কোচ ও সেরা ক্লাবের জন্য আলাদা দুটি পুরস্কার, এসবের ভোটও দেন সাংবাদিকেরা।
সব মিলিয়ে আসছে ২৬এ অক্টোবরের রাতটা শুধু একটা পুরস্কার ঘোষণার অনুষ্ঠান নয়, এটা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সন্ধ্যাগুলোর একটি, যেখানে ইতিহাস আর বর্তমান একসঙ্গে মিলে যাবে লন্ডনের মঞ্চে।
ব্যালন ডি’অর কে জিতবে ঠিক করেন কারা
মেসি-রোনালদোর ছায়া পেরিয়ে নতুন লড়াই, শর্টলিস্টে এমবাপে, কেইন, ইয়ামাল।
ফুটবল দুনিয়ায় বছরের সবচেয়ে আলোচিত রাতটার জন্য আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। আসছে ২৬এ অক্টোবর লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি'অরের ৭০তম আসর। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের হাত ধরে ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া এই পুরস্কার এখন ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠান বসছে ইংল্যান্ডের রাজধানীতে আর এর পেছনে আছে এক আবেগঘন কারণ।
কেন লন্ডন?
ব্যালন ডি'অরের প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউজ। উয়েফা জানিয়েছে, সত্তর বছর আগের সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই এবার লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে আয়োজক শহর হিসেবে। এটাই প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে বসছে এই জমকালো অনুষ্ঠান।
কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী
ব্যালন ডি'অরের ভোটিং পদ্ধতি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। প্রথমে ফ্রান্স ফুটবল ও এল ইকিপ পত্রিকার সাংবাদিকেরা মিলে আগের মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি করেন ৩০ জনের একটি চূড়ান্ত শর্টলিস্ট। এরপর ফিফার শীর্ষ ১০০ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা প্রতিটি দেশ থেকে একজন করে সাংবাদিক তাদের পছন্দের সেরা দশ ফুটবলারের তালিকা জমা দেন। প্রথম স্থান থেকে দশম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে ১৫, ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।
সব ভোট গণনার পর যিনি সর্বোচ্চ পয়েন্ট পান, তিনিই হন বিজয়ী। পয়েন্টে সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে কার কতগুলো প্রথম স্থানের ভোট আছে, তারপরও সমতা থাকলে দ্বিতীয় স্থানের ভোট গণনা করা হয়।
ভোট দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে বলা হয়; খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা, দলগত সাফল্য এবং খেলার মাঠে সৌজন্যবোধ ও ফেয়ার প্লে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুরস্কারের নিয়মেও এসেছে বড় বদল। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত শুধু ইউরোপীয় ফুটবলাররাই এই পুরস্কারের যোগ্য ছিলেন। পরের ১২ বছর ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের খেলোয়াড় সুযোগ পেতেন। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবলারই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন।
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফা এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তখন এটি পরিচিত ছিল ফিফা ব্যালন ডি'অর নামে। পরে ফিফা নিজস্ব আলাদা পুরস্কার ফিফা বেস্ট প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড চালু করলেও দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ব্যালন ডি'অরকেই এখনো সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হয়।
মেসির রেকর্ড, রোনালদোর পিছু ছুটে চলা
ব্যালন ডি'অরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি। এরপরই আছেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পাঁচবার নিয়ে। ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন জিতেছেন তিনবার করে। আলফ্রেদো দি স্তেফানো, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, কেভিন কিগান, কার্ল-হাইঞ্জ রুমেনিগে ও রোনালদো নাজারিও—এই পাঁচজন জিতেছেন দুইবার করে।
এমবাপের স্বপ্ন
রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে মনে করছেন, এবারের বছরটা হতে পারে তার জন্য প্রথমবার ব্যালন ডি'অর জেতার সেরা সুযোগ। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন তিনি, যদিও দল কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট, যা তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা নিয়ে গেছে রেকর্ড ২২-এ। তবে ফ্রান্স বিশ্বকাপে হয়েছে চতুর্থ স্থান অধিকারী। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এমবাপে বলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে খেললে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই পুরস্কারের সঙ্গে খেলোয়াড়কে জুড়ে দেখে।
৩০ জনের লড়াই
এবারের পুরুষদের শর্টলিস্টে জায়গা পেয়েছেন ৩০ জন খেলোয়াড়। ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। তার সঙ্গে ইংল্যান্ড থেকে আরও আছেন রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম এবং আর্সেনালের ডেক্লান রাইস।
নবম ব্যালন ডি'অরের খোঁজে আছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে আটটি গোল করেও স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, আর তার পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসর নেন মেসি।
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল থেকে ছয়জন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন শর্টলিস্টে, যাদের মধ্যে আছেন বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল। আর ফাইনালে জয়সূচক গোলদাতা ফেরান তোরেস, যিনি এই গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে, তিনিও জায়গা পেয়েছেন তালিকায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগ টানা দুবার জেতা পিএসজি থেকে শর্টলিস্টে আছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়—তোরেসকে বাদ দিয়েই ৯ জন, যার মধ্যে আছেন গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এমবাপের সঙ্গে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। আর্সেনালের রক্ষণভাগ থেকে জায়গা পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল ও উইলিয়াম সালিবা।
নারীদের ব্যালন ডি'অর
২০১৮ সালে চালু হওয়া নারীদের ব্যালন ডি'অর ফেমিনিন এখন পর্যন্ত তিনবার জিতেছেন স্পেনের আইতানা বনমাতি, দুইবার জিতেছেন তারই সতীর্থ আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ ছাড়া একবার করে জিতেছেন নরওয়ের আদা হেগারবার্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেগান রাপিনো।
এবারের নারী শর্টলিস্টেও আছেন ৩০ জন খেলোয়াড়। তবে চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে থাকায় তালিকায় নেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বনমাতি। টানা চতুর্থবার জিতলে তিনি মেসির সঙ্গে পরপর সবচেয়ে বেশিবার জেতার রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারতেন।
নারীদের ভোটিং পদ্ধতি পুরুষদের মতোই, তবে এখানে ভোট দেন শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর ৫০ জন সাংবাদিক, পুরুষদের ক্ষেত্রে যা ১০০ জন।
সমালোচনার মুখেও ব্যালন ডি'অর
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নেই ব্যালন ডি'অরকে ঘিরে।
ঐতিহাসিকভাবে এই পুরস্কার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের পক্ষেই বেশি ঝুঁকেছে বলে অভিযোগ আছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন সেন্টারব্যাক—বেকেনবাওয়ার ও ফাবিও কানাভারো এবং একজন গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিন এই পুরস্কার জিততে পেরেছেন।
দলগত সাফল্যের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। অনেকের মতে, একজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর পরও শুধু দল ততটা সফল না হওয়ায় পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়।
এছাড়া খেলোয়াড়, কোচ কিংবা সাবেক ফুটবলারদের বদলে মূলত সাংবাদিকদের ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হওয়া নিয়েও আছে দ্বিমত। আর কারও কারও কাছে দলগত খেলায় ব্যক্তিগত পুরস্কারের ধারণাটাই গুরুত্বহীন মনে হয়।
মূল আসরের পাশাপাশি আরও যেসব পুরস্কার
মূল অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি'অরের পাশাপাশি দেওয়া হয় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।
একুশ বছরের কম বয়সী সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় কোপা ট্রফি, যেখানে ১০ জনের শর্টলিস্ট থেকে ভোট দেন সাবেক ব্যালন ডি'অর পুরস্কারজয়ীরা। সেরা গোলরক্ষকের জন্য আছে ইয়াশিন ট্রফি, আর সেরা কোচ ও সেরা ক্লাবের জন্য আলাদা দুটি পুরস্কার, এসবের ভোটও দেন সাংবাদিকেরা।
সব মিলিয়ে আসছে ২৬এ অক্টোবরের রাতটা শুধু একটা পুরস্কার ঘোষণার অনুষ্ঠান নয়, এটা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সন্ধ্যাগুলোর একটি, যেখানে ইতিহাস আর বর্তমান একসঙ্গে মিলে যাবে লন্ডনের মঞ্চে।