স্মৃতিচারণ

এই একুশে পদক কোনভাবেই ওয়ারফেইজের না!

এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বামবার কনসার্টে নিজেদের বাংলা গান প্রথম পারফর্ম করে। তারপর ১৯৯১ সালে ‘বিচ্ছিন্ন আবেগ’ নামের অ্যালবাম ভুল করে সেলফ টাইটেলড ‘ওয়ারফেইজ’ নামে রিলিজ। তারপর ইতিহাস!

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ এএম

এবারের একুশে পদকটি কিন্তু ’ওয়ারফেইজ’ পায়নি!

ঠিকই শুনেছেন।

এই একুশে পদকের আসল দাবিদার আমরা, মানে নাইন্টিজ কিডসরা। যারা ওই উত্তাল সময়ে ওয়ারফেইজের হার্ডরক শোনার কারণে পরিবারের, সমাজের অনেক গঞ্জনা সয়েছি।

অপসংস্কৃতির ধারক হিসেবে আমাদের কত ক্যাসেট ছুড়ে ফেলা হয়েছে, ফিতা ছিঁড়ে বের করে ফেলা দেয়া হয়েছে! টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে, বাপের পকেট কেটে একেকটা অ্যালবাম কিনতাম।

আবার সনি ক্যাসেটে পছন্দের ব্যান্ডের গান দিয়ে নিজের মতো মিক্সড অ্যালবাম বানাতাম। একবার ফিতে ক্যাসেট প্লেয়ারে জড়িয়ে গেলে,অধিকাংশ সময় টেপ কেটে বের করতে হতো। এরপর পেন্সিল দিয়ে ক্যাসেটের ভেতরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ফিতা ঠিক করা লাগতো।

কোন কারণে নরমালি ঠিক না হলে সার্জারি করা লাগতো। ছোট কাঁচি দিয়ে ফিতা মসৃণ করে কেটে, সাদা স্কচটেপ দিয়ে সুক্ষ্মভাবে জোড়া লাগিয়ে সুন্দর করে অডিও ক্যাসেটের সার্জারি করে ক্যাসেট প্লেয়ারে চালাতাম।

স্কচটেপের কারণে কিছু লাইন বাদ দিয়ে আবার যখন ওয়ারফেইজ শুনতাম, তখন আমিই হতাম সাঞ্জয়, আমিই কমল, আমিই টিপু, আমিই বাবনা, আমিই রাসেল, আমিই মিজান, আমি শামস।

বালিশের উপরে হাওয়ার ড্রামিং, কোল বালিশ দিয়ে প্রত্যেকটা লিড বাজানো। টি-টেবিলের উপরের অদৃশ্য পিয়ানো সবকিছুই একসাথে বাজাচ্ছি আর গাইছি “হিমেল বাতাসেএএএএএএএএএএএএ !!!”

প্রতি সপ্তাহে এই ক্যাসেটগুলি রোদে দিতাম, ভালোবাসা শুকানোর মতো করে আমরা ক্যাসেট শুকাতাম।

 কানের পর্দা ফাটানো শব্দ, হাই পিচে চিৎকার, লম্বা চুল আর ছেঁড়া জিন্স—এই ছিল ব্যান্ড সঙ্গীতের সংজ্ঞা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের কাছে।

ওয়ারফেইজের বেসিক গল্পটা সবাই জানে। ১৯৮৪ সালের ৬ই জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইংরেজি গান কাভার করতো। তারপর ফিডব্যাকের মাকসুদের পরামর্শে বাংলা গান তৈরির চেষ্টা করে।

এরশাদের পতনের পর ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বামবার কনসার্টে নিজেদের বাংলা গান প্রথম পারফর্ম করে। তারপর ১৯৯১ সালে ‘বিচ্ছিন্ন আবেগ’ নামের অ্যালবাম ভুল করে সেলফ টাইটেলড ‘ওয়ারফেইজ’ নামে রিলিজ। তারপর ইতিহাস!

সেই ইতিহাসে অনেক ভাঙা-গড়া, অনেক ক্ষত। তারপর সেই ক্ষত সেরে কপালে সূর্য আঁকা ব্যান্ডের নাম ওয়ারফেইজ। একটার চেয়ে একটা সেরা আটটা স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করা ব্যান্ড ওয়ারফেইজ।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ব্যান্ড হিসেবে বিশ্বখ্যাত জিপ্পো (Zippo) কোম্পানি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ব্যান্ড ওয়ারফেইজের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যান্ডের নামে তাদের নতুন জিপ্পো লাইটার নিয়ে আসছে। এছাড়া এই বছর বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড হিসেবে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে ওয়ারফেইজ। এসব তথ্যও এখন সবার জানা। আমি চলে যাই আমার গল্পে, যেটি আমি ও আমরা ছাড়া কেউ জানে না।

‘অসামাজিক’ অ্যালবামের পর সাঞ্জয় ব্যান্ড ছেড়ে দিলো। “সাঞ্জয় কেন ওয়ারফেইজ ছেড়ে দিলো?”— এটাই তখন টক অফ দ্য কান্ট্রি। অনেকটা 'বাহুবালি' সিনেমায় “কাটাপ্পা বাহুবালিকো কিউ মারা?” এই প্রশ্নের মতো।

বাংলাদেশের সকল পাড়ায় মহল্লায় তরুণদের সবার একই প্রশ্ন, উত্তর নেই। মফস্বলে খুলনা শহরে বড় ক্যাসেটের দোকান থেকে পাকা গুজব এলো ‘নির্বাসন’ গানে শেষের দিকের হাইপিচের চিৎকারটা দিতে গিয়ে সাঞ্জয়ের ভোকাল কর্ড ছিড়ে গেছে। সে আর কোনদিন গান গাইতে পারবে না! আমাদের হৃদয় ভেঙ্গে গেলো। বাংলাদেশের কোন ভোকাল সাঞ্জয়কে রিপ্লেস করবে? ওয়ারফেইজের যাত্রা কি তাহলে এখানেই শেষ?

ওয়ারফেইজের ২৫ বছর পূর্তিতে ঢাকার শাহবাগে তৎকালীন শেরাটন হোটেলে রিইউনিয়ন কনসার্টে এক দশক পর দর্শকদের সামনে মঞ্চে সাঞ্জয় কামরান রহমান। ছবি ফেইসবুক থেকে নেওয়া।
উত্তরটা আপনাদের জানা; ওয়ারফেইজের যাত্রা শেষ হয়নি। বারবার ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

একচল্লিশ বছর পার করে বিয়াল্লিশতম বছরে পা দিয়েছে বাংলাদেশের এই হার্ডরক ব্যান্ডটি। বিশ্বের তাবৎ বিখ্যাত রক, হেভিমেটাল ব্যান্ড আর শিল্পীর কনসার্ট লাইভ দেখা হয়েছে আমার। এর মধ্যে রয়েছে ডেভিড গিলমোর, রজার ওয়াটার্স, ড্রিম থিয়েটার, গানস্ অ্যান্ড রোজেস্, আয়রন মেইডেন, ইউটু, ইনফ্লেমস্।

কিন্তু এখনো আমার সবচেয়ে পছন্দের কনসার্ট ঢাকার শেরাটনে ২০০৮ সালে ওয়ারফেইজের ২৫ বছর রিইউনিয়ন কনসার্ট। ওয়ারফেইজের সব সাবেক লেজেন্ডরা বাজাবেন। ‘দ্য সাঞ্জয় কামরান রহমান’ গাইবে সেখানে! এক দশক পর!

আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জীবনে প্রথম সাঞ্জয়কে লাইভ দেখবো! ওই সময়ের অনেক বাজেট কাটছাট পরে কনসার্টের টিকেট কেটেছিলাম। এই কথা মনে করলে প্রায় ১৮ বছর পর আজও ‘গুজবাম্প’ হয়।

রাসেল আলীর কথা অনেক শুনেছি। এক্স ওয়ারফেইজ সদস্য। ’অবাক ভালোবাসা’ গানটার আইকনিক পিয়ানো ‍ও গিটার পিস দুইটাই উনার বাজানো। সেই সাথে বড় ভাইরা বলছে, “আরে ব্যাটা! রাসেল ভাইরে চিনস না! হলিউডে বাংলার গর্ব। রেড হট চিলি পেপার্স এর সাথে বাজাইছে। লিম্ব বিযকিটের সাথেও বাজাইছে। বিশাল বড় বিগ ডিল। বাপরে রে বাপ!”

পঁচিশ বছর পূর্তির সেই কনসার্ট ওয়ারফেইজ ভক্তদের কাছে যেন ছিল স্বপ্নপূরণ। একই মঞ্চে (বাম থেকে) সাইদুস সালেহীন খালেদ (বেজবাবা) সুমন, রাসেল আলী, সাঞ্জয়, রজার এবং অনি হাসান।

সেই রাসেল আলী আমার সামনে! ’নির্বাসন’ ও ‘অবাক ভালোবাসা’র সেই জাদুকরী পিয়ানিস্ট একটা ফিরোজা রংয়ের গিটার নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে! রাসেল ভাইয়ের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আমার মতো অনেক ভক্তের সম্মান আরো বেড়ে গিয়েছিলো যখন জেনেছিলাম বলিউড অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি দীর্ঘসময় উনার গার্লফ্রেন্ড ছিলেন।

‘দ্যা সাঞ্জয়’ আমার সামনে, সেই নাইন্টিজের ’স্ক্রিম মেশিন’! ‘বসে আছি’ গানে “বাতাসে এএএ” তে সেই লম্বা টান। একদম স্টুডিও রেকর্ডিং এর মতো লাইভ গলা।

সাঞ্জয়ের গান শুনে নিয়ে এক দশকের যে গুজবের ভার বয়ে বেড়াচ্ছিলাম, সেটি থেকে মুক্ত হলাম। দুই তিনটা গান গেয়েই সাঞ্জয় নিজেই বললেন, তার গলা একদম ঠিক আছে। কোন কিছু ছিঁড়ে নাই!

ওইদিন আমি কিচ্ছু শুনি নাই! মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুধু দেখছি! তিনটা বেইজ গিটার, আর তিনটা লিড গিটার বাজছে। পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন শেখ মনিরুল আলম টিপু। স্টেইজের একদিকে বেইস বাজাচ্ছেন বেজবাবা সুমন, রজার, আর বাবনা করিম, মাঝখানে মিজান, সাঞ্জয়, বালাম অপর পাশে মেশিনগানের বুলেটের মতো লিড বাজাচ্ছেন অনি হাসান, রাসেল আলী আর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘গিটার গড’ ইব্রাহিম আহমেদ কমল। রিফ, আর শ্রেডের পাগলামি, বেইস আর ড্রামসের সমন্বয়, পিয়ানোর মূর্চ্ছনার সে রাত!। দুইপাশে কিবোর্ডের পসরা সাজিয়ে বসে ছিলেন শামস মনসুর গনি। উফ! মনে হচ্ছিলো আমি কোথায় আছি জানি না, তবে এটা পৃথিবী না ফর সিওর।

এই ঘোর কাটে নাই আমার। তখনো না, এখনো না।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ওয়ারফেইজ এই পর্যন্ত আটটি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। ৩০ বছর পূর্তিতে ঢাকার আইসিসিবি-তে এই কনসার্টের ছবি তুলেছেন কাজল আব্দুল্লাহ।
ওয়ারফেইজ তো শুধু ভোকালিস্ট না, মিউজিশিয়ান তৈরির কারখানা! কাকে রেখে কার নাম বলবো? মেটাল মেইজ গিটারিস্ট সাজ্জাদ আরেফিন, অর্থহীনের বেসবাবা সুমন, ফুয়াদ ইবনে রাব্বি, রাসেল আলী, রোমেল আলী, আর্টসেলের সেজান, মিজান, অনি হাসান, বালাম, মাইলস ও আর্টসেলের ইকবাল আসিফ জুয়েল। বাংলাদেশের অনেক মিউজিশিয়ানের তারকাজন্ম হয়েছে ওয়ারফেইজের হাতে ধরে। তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো অনেক খ্যাতনামা মিউজিশিয়ানের পরিচয় সে ’এক্স ওয়ারফেইজ’।

ওয়ারফেইজের প্রথম অ্যালবাম সেলফ টাইটেলড। ১৯৯১ সালে, সাঞ্জয়ের কন্ঠে ’একটি ছেলে হাঁটছে একা’ শুনে পুরো বাংলাদেশ থমকে গেলা! এই কন্ঠ কোথায় ছিলো ছিলো এতোদিন? এ যেন তীক্ষ্ণ, সুরেলা তরবারি! সেইসাথে কমলের অতিমানবীয় ডিসটরশন গিটার! টিপুর বোমবাস্টিং ড্রামিং। এরমধ্যে বাবনার ‘বিছিন্ন আবেগ’ গানটি  “অশ্লীল কারাগারে” বন্দি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য “আলোর দরজা” খুলে দিলো।

সান্জয়ের হাইপিচ ভোকাল আর বাবনার মেলোডিতে এক অদ্ভুত মাদকতায় ডুবে গেলো বাংলার তরুণরা। বাংলাদেশের রক আকাশে উঠলো নতুন এক তারা, যার নাম ‘ওয়ারফেইজ’। বাংলাদেশের ব্যান্ড ইতিহাসে ওয়ারফেইজ যুগ শুরু হলো। ওই সময়ের মুরুব্বীদের ভাষায় রক গানই ছিলো অপসংস্কৃতি, সেখানে ওয়ারফেইজ নিয়ে আসলো হার্ডরক। এতো ‘অপ অপ সংস্কৃতি’! যুবসমাজ ধ্বংসের পথে আরো চার পা এগিয়ে গেলো।

ওদিকে ওয়ারফেইজ আরও কয়েক পা এগিয়ে ১৯৯৪ সালে রিলিজ করলো তাদের দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ’অবাক ভালোবাসা’। এই অ্যালবামটি বেশ এক্সপেরিমেন্টাল এবং পুরো অ্যালবামটাই প্রডিজি বাবনা করিমময়। এই অ্যালবামের টাইটেল সংসহ দশটি গানের মধ্যে নয়টিই বাবনার লেখা ও সুর করা।

এই অ্যালবামে ’অবাক ভালোবাসা’, ’নির্বাসন’ ও ’যখন’ -এর মতো মেলোডির পাশাপাশি ’শেখানো বর্ণনা’-এর মতো ডিসটরটেড গিটারের হার্ডরক গান রয়েছে। আর টাইটেল ট্রাক ’অবাক ভালোবাসা’ তো ওয়ারফেইজ প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। বাবা আর ছেলে যখন একসাথে কোক স্টুডিয়োতে পলাশ নূরের কন্ঠে আর সামির হাফিজের গিটারে ‘অবাক ভালোবাসা’ শোনে, তখন প্রায় ৩২ বছর আগে কক্সবাজারে শুভ্র বালির সৈকতে, গিটার হাতে বাবনা করিম নামক এক টিনেজারের আঁকা আল্পনা পূর্ণতা পায়।

আমার ব্যক্তিগত ফেভারিট ’নির্বাসন’ গানটা। সাঞ্জয়ের চিৎকারে অব্যক্ত যন্ত্রণা, রাসেল আলী অতিমানবীয় পিয়ানো, আর বাপ্পী খানের লিরিক। বাপ্পী খান মূলত আইয়ুব বাচ্চুর জন্য গান লিখতেন। তবে ওয়ারফেইজের জন্য এই একটা মাস্টারপিস তিনি লিখেছিলেন।

'অবাক ভালোবাসার' রেশ কাটতে না কাটতে দুই বছর পরে এলো তৃতীয় অ্যালবাম ’জীবনধারা’। এই অ্যালবামের ’ধুপছায়া’ কিংবা ’মৌনতা’। প্রতিটি গানেই কী অদ্ভুত মেলোডি! কী ম্যাচিউর গিটার প্লেয়িং, কী দারুণ বিটস্! তবে এই অ্যালবাম আমাকে অনেক ভুগিয়েছে। ’ধুপছায়া’ গানটির, ”তুমি ভালোবেসো, শুধু আমাকে হৃদয়ে ধরে রেখো” অংশটা হাইপিচে গেয়ে আবার গলা দিয়ে গিটার পার্টটা বাজাতাম, তারপর দুইদিন গলা ব্যাথায় কাহিল থাকতাম! 

তারপর এলো ’অসামাজিক’ (১৯৯৮) অ্যালবাম। আমরা তখন হাইস্কুলে। ’অসামাজিক’ শোনার পরে মনে হলো, আরেহ! এটা তো আমি! আমি তো চাই না তো এ সমাজের আশ্রয়। যখন “বিক্ষোভের ভাষা হারিয়ে উম্মাদ আমার মন”, এই সময়ে বেসবাবা সুমনের (প্রাক্তন ওয়ারফেইজ সদস্য) বেইস গিটারে যে উম্মাদনা ভাসে, তখন সে উম্মাদনা আমার ভেতর বিদ্যুতের লাইনের মতো সঞ্চারিত হতো।

পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আলো’ রিলিজ হলো ২০০০ সালে। ‘হতাশা’, ‘আলো’, ‘বেওয়ারিশ’, ‘মৃত্যূ এলিজির’ মতো গান দিয়েই মিজান শুরুতেই একশতে একশ!  

আর বালাম গায়কের পাশাপাশি ছিলেন ভালো রিদম গিটারিস্ট ও কম্পোজার। এই সময়ের পুতুপুতু, ‘না রে না’ টাইপের বালাম না, পুরো রকস্টার বালাম।

”যত দূরেই থাকো, রবে আমারই“- এর বালাম। “সময়ের ছলনায়, পিছুটান ভুলে যাওয়া” বালাম।

বালাম জাহাঙ্গীর

”হে মহারাআআআআআজ!” বলে রাজার মসনদ কাঁপিয়ে দেয়া বালাম! বালামের প্রাইম ওয়ারফেইজ টাইমে সে ছিল হাইপিচ ও মেলোডির নিখুঁত সমন্বয়।

“হে মহারাজ!”-এর কথায় মনে পড়লো ২০০৩ সালে ‘মহারাজ’ অ্যালবামের কথা। গানটি এই অ্যালবামেরই। আরেক বুয়েট পড়ুয়া শামস মনসুর গনি ম্যাজিকে তৈরি হলো-

 ”হে মহারাজ! এসো আমাদের সমতলে

পাবে জীবন যাকে বহুদূর গেছ ফেলে”

শামসের লেখা ও সুর করা এই জাদুকরি গানটি ঐতিহাসিকভাবেই বারবার ফিরে এসেছে, প্রাসঙ্গিকভাবে। এক-এগারোর সরকারের মসনদে যেমন কাঁপন ধরিয়ে ছিলো, তেমন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বিপ্লবীদের হেডফোনে, রিলসে রিলসে বেজেছে “হে মহারাজ!” তাদের মিউজিক আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে গিটারের ডিস্টোরশন দিয়েও প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করা যায়।

সেই ২০১২ সালেই বিচার বর্হিভূর্ত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে শামসের লিরিকে ও সুরে ওয়ারফেইজই গর্জে উঠেছিল 

”সাধারণের ধিক্কার, সাদা মোড়কে লুন্ঠিত সুবিচার।।”

শামস মনসুর গনি। ছবি ফেইসবুক থেকে নেওয়া।

মহারাজ অ্যালবামের পরে বালাম সলো ক্যারিয়ারের জন্য ব্যান্ড ছেড়ে দেন। ওয়ারফেইজ ভক্তরা এই ঘটনায় দারুণ কষ্ট পায়। এ যেন মেসির রিয়াল মাদ্রিদে খেলার মতো ঘটনা।

সোলো ক্যারিয়ারে বালাম সফল হলেও রকস্টার বালাম চিরতরে হারিয়ে গেছেন। ওয়ারফেইজের রিউইনিয়ন কনসার্টে গেলে ওয়ারফেইজ ফ্যানদের দুয়ো শুনেছেন। মিজান অভিমান ভেঙে আবার ওয়ারফেইজে ফেরত আসেন।

মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড নোকিয়ার সাথে ওয়ারফেইজ কম্পাইলেশন অ্যালবাম ‘পথচলা’ রিলিজ হয় ২০০৯ সালে। এটি বাংলাদেশের কোন ব্যান্ডের প্রথম ডিজিটাল অ্যালবাম।

 

নোকিয়া এক্সপ্রেস মিউজিক সিরিজের দু’টি মডেলের ফোনে ‘পথচলা’-এর গানগুলি ফোনে লোড করে দেয়া হয়। ওয়ারফেইজের কারণে এই ফোনটি বাংলাদেশে সর্বাধিক বিক্রিত ফোনগুলির একটি।

এই অ্যালবামে ‘তোমাকে’ আর ’অমানুষ’ বাদে বাকি ১২টা গানই আগের ছয়টি অ্যালবাম থেকে বাছাই করা গানের রিমেইক, মিজানের কন্ঠে। তাদের ‘পথচলা’ (২০০৯) অ্যালবামের রিমেক গানগুলো যখন নতুন প্রজন্ম শোনে, তখন বোঝা যায় সুরের কোনো এক্সপায়ারি ডেইট নেই।

ঢাকায় ২০২৪ সালে একটি কনসার্টে মিজান এবং অনি হাসান।

’পথচলা’ অ্যালবাম দিয়ে মিজান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। এর আগে ওয়ারফেইজের ইতিহাসের অবিসংবাদিত সেরা ভোকাল ছিলো সাঞ্জয়।

মিজান এই অ্যালবামে সাঞ্জয়ের গানগুলি নতুন করে গেয়ে প্রমাণ করে দেন এই বাংলার বুকে সাঞ্জয়ের মত করে হাইপিচে গাওয়ার জন্য আরও ভোকাল আছে। মিজানের স্ক্রিমিং ও হাস্কি গলার টোনাল কোয়ালিটির একটা আলাদা ফ্যানবেইজ তৈরি হয়।

এরপর ২০১২ সালে রিলিজ পেলো ওয়ারফেইজের সর্বশেষ অ্যালবাম ’সত্য’। অ্যালবামের সবকয়টি গান মিজানের কণ্ঠে অমরত্ব পেলো। ওয়ারফেইজের ‘৩৬০ ডিগ্রী’ অ্যালবাম। হেভিমেটাল ফ্যানদের জন্য যেমন ’না’, রক ফ্যানদের জন্য ‘আগামী’, ‘জনস্রোত’, মেলো রকফ্যানদের জন্য ‘প্রতীক্ষা’, মেলোডি ফ্যানদের জন্য ‘রূপকথা’, ‘যেদিন’ কী ছিলো না এই অ্যালবামে?

গিটারিস্ট হিসেবে তো অনি হাসান বিখ্যাত তো ছিলেনই, শামসের লিরিকে, কম্পোজার হিসেবে অনি হাসান করলেন তারা সেরা সৃষ্টি ‘পূর্ণতা’ ও ‘না’। এই অ্যালবামের চেরি অন দ্যা টপ হলো ‘পূর্ণতা’। জেন-জি, জেন-আলফারা ওয়ারফেইজকে এই গান দিয়েই চেনে। যদিও অ্যালবাম রিলিজ হয়েছিলো এক যুগেরও আগে।

Warfaze Old Guards with Oni Hasan

‘সত্য’ অ্যালবামের পর অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবিতে মিজান ব্যান্ড ছেড়ে দিলেন। এটা নিয়ে ব্যান্ডের ভক্তদের একাংশের মধ্যে একটা গোপন বেদনা রয়েছে। ওয়ারফেইজ (মিজান) অংশ মনে করেছিলো, ওয়ারফেইজ মিজান ছাড়া দাঁড়াতে পারবে না।

কিন্তু প্রতিষ্ঠান যে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী সেটা ওয়ারফেইজ বারবার প্রমাণ করেছে। ওয়ারফেইজে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না, আদর্শকেন্দ্রিক ব্যান্ড।

শুরুতে একটু হোঁচট খেলেও পলাশ ব্যান্ডে ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন। ব্যান্ডের এই শক্তিশালী সাংগঠনিক বেইজের পেছনে আছেন ড্রামার ও দলনেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু। ১৯৮৫ সালে ব্যান্ডে জয়েন করার পর থেকে এখনো ব্যান্ডের হাল ধরে আছেন।

টিপু একজন পরিপূর্ণ ব্যান্ড লিডার ও দারুণ মিউজিশিয়ান। সব ধরনের গানেই স্বচ্ছন্দ্য। আর এর মূল কারণ ছোটবেলায় তবলা বাজানো। এই কারণে তার ড্রামিং সেন্স খুবই দারুণ ও ছন্দময়। কখনোই ওভারপ্লে করেন না, কিন্তু যেটুকু বাজান দারুণ লাগে।

ওয়ারফেইজের ৩০ বছর পূর্তি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। ছবি: কাজল আব্দুল্লাহ

‘স্বাধিকার’ গানের শুরুর দিকে ড্রামিং, ‘মৌনতা’ বা ‘ধূপছায়ায়’ সেই টিপুর ড্রাম একদম অন্যরকম, আবার ’নেই প্রয়োজন’ গানে আরেকরকম। আবার ’বসে আছি’ অথবা ‘না’ গানে টিপুর ডাবল প্যাডেল ড্র্যামিং শুনে মনে হয় দুই হাতে দুইটা মেশিনগান, সমানে গুল্লি করতেছে। ১৯৮৫ সাল থেকে ব্যান্ডকে আঁকড়ে ধরে আছেন টিপু। । টিপুর বিশেষত্ব হলো সবসময় হাসিমুখ। আমার মনে হয় তিনি “জাহান্নামের আগুনে বসিয়া, পুষ্পের হাসি হাসতে পারেন”!

সেইসাথে ‘দ্যা ওল্ড গার্ড’ কমল ও বাবনা তো মাথার উপরে আছেনই। বাবনাকে বলা হয় ওয়ারফেইজের ‘সোউল’। ওয়ারফেইজের যে মেলোডি ও ম্যাজিক, তাতে বাবনার ক্রিয়েটিভ অবদান সবচেয়ে বেশী।

বাবনা করিম।

এরপর আছেন ইব্রাহিম আহমেদ কমল। ওয়ারফেইজ ব্যান্ডে একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ‘দ্যা ওল্ড গার্ড’-দের একজন। আমরা যখন স্কুল ছাত্র তখন ‘কমল সেরা গিটারিস্ট না আইয়ুব বাচ্চু সেরা’ সেটা নিয়ে সারাদিন তর্ক করতাম। আমি সবসময় কমল ভাইয়ের পক্ষ নিতাম। কী স্পিড, কী টাইমিং, কী শ্রেডিং!

ওয়ারফেইজের পিক টাইমে গ্রিক দেবতার মতো কোন এক অভিশাপে তিনি ডান তর্জনির পুরো কার্যক্ষমতা হারালেন। এটি গিটারিস্টদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গুল। এই মধ্যমা দিয়ে কমল স্টেইজে ও অ্যালবামে যা বাজিয়েছেন, অনেক ভালো গিটারিস্ট ১২টা আঙুলেও সেটা পুল অফ করতে পারতো না!

ওয়ারফেইজের শুরুর দিনগুলোতে একটি কনসার্টে (বাম থেকে) বেইজ গিটারে বাবনা করিম, সাঞ্জয় কামরান রহমান এবং ইব্রাহিম আহমেদ কমল। ছবি কমলের ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া।

মাঝখানে ওয়ারফেইজ ছেড়ে অর্থহীন ব্যান্ডের সবচেয়ে চমৎকার দু’টি অ্যালবাম ’অসমাপ্ত ১’ ও ‘অসমাপ্ত ২’ করে এসেছেন। লাইভ কনসার্টে অনিয়মিত হলেও স্টুডিওতে কাজ করছেন।

লাইভে তারই ছাত্র সৌমেন গুরুর হয়ে কাভার দিচ্ছে। ইব্রাহিম আহমেদ কমল এমন একজন মানুষ যিনি মিউজিশিয়ান হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে কোনদিন কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করেন নাই।

ওয়ারফেইজের সবচেয়ে নীরব সদস্য রজার। কমল, বাবনা, সেজান, সুমনের বেইস লেগাসি তিনি ভালোভাবেই বহন করে যাচ্ছেন।

তবে মিউজিক্যালি বর্তমানে ওয়ারফেইজের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শামস মনসুর গনি। এর মূল কারণ ‘মহারাজ’-এর পর থেকে ইনিই এখন ওয়ারফেইজের মূল কম্পোজার। একই সাথে শামস একজন অসাধারণ গীতিকার। ওয়ারফেইজে এতো ভাঙাগড়ার মিছিল, তবুও যে সুরের রাজপ্রাসাদ অটুট আছে এর অন্যতম কারণ শামস।

ছবি আলাপ  (23).jpg

ওয়ারফেইজে এতো প্রতিভার ছড়াছড়ি। তারপরও কারো আলাদা কোন স্টারডম নাই। ওয়ারফেইজ যা করে ব্যান্ড হিসেবে করে। তাই ব্যান্ড হিসেবে ওয়ারফেইজের এই দীর্ঘযাত্রায় এটি কেবল একটি পদক নয়; এটি একটি প্রজন্মের দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি, এক দীর্ঘ লড়াইয়ের রাষ্ট্রীয় সিলমোহর।

ফেব্রুয়ারির পাঁচ তারিখের বিকেলে যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ঘোষণা এল, তখন মনে পড়ে যাচ্ছিল ১৯৯১ সালের সেই দিনটির কথা। যখন সেলফ-টাইটেল্ড অ্যালবাম ‘ওয়ারফেইজ’ দিয়ে এক নতুন উন্মাদনার জন্ম হয়েছিল।

সেই সময় ব্যান্ড সঙ্গীত মানেই ছিল এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। কানের পর্দা ফাটানো শব্দ, হাই পিচে চিৎকার, লম্বা চুল আর ছেঁড়া জিন্স—এই ছিল ব্যান্ড সঙ্গীতের সংজ্ঞা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের কাছে। আমাদের মুরুব্বিরা বলতেন, এগুলো ‘অযথা চিৎকার’। কিন্তু সেই চিৎকারের আড়ালে যে প্রতিবাদের ভাষা ছিল, যে সুনিপুণ শাস্ত্রীয় ও হার্ড রক মিউজিকের সংমিশ্রণ ছিল, তা বুঝতে আমাদের রাষ্ট্রের লেগে গেল চার দশক।

যখন খবরটি এলো—‘ওয়ারফেইজ’ প্রথম বাংলা ব্যান্ড হিসেবে একুশে পদক পেতে যাচ্ছে—তখন আমার মতো আশি বা নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের বুকের ভেতর একটা সূক্ষ্ম কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি ওয়ারফেইজের জয় না, এটি সেই প্রতিটি কিশোরের জয়, যাকে একসময় গিটার হাতে দেখলে পাড়ার মুরুব্বিরা বলতেন, “এসব অপসংস্কৃতি ছেড়ে পড়াশোনায় মন দাও।”

আজ যখন রাষ্ট্র এই ব্যান্ডকে একুশে পদকে ভূষিত করে, তখন আসলে লজ্জিত হয় সেই পুরোনো মানসিকতা। এই পদক প্রমাণ করে যে, আমরা যারা সেই নব্বইয়ের দশকে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ক্যাসেট কিনতাম, আমরা কোনো ‘অপসংস্কৃতি’র অনুসারী ছিলাম না। আমরা ছিলাম মিউজিকের শুদ্ধতম রস আস্বাদনকারী, সময়ের থেকে অগ্রসর শ্রোতা।

আজকে এই স্মৃতিচারণ লিখতে গিয়ে বারবার মনে পড়ছে আমার সমসাময়িক সেইসব কিশোরদের কথা, যারা আজ মধ্যবয়স্ক। যারা একসময় লুকিয়ে ব্যান্ডের গান শুনত। ওয়ারফেইজের এই অর্জন আসলে সেই শ্রোতাদের জয়। যারা চিৎকার বলে ব্যান্ড সঙ্গীতকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তারা কি কোনোদিন খেয়াল করেছিলেন বাংলা রকের সিলভার লাইনিংটা?

অভিনন্দন ওয়ারফেইজ! অভিনন্দন সেই প্রতিটি যোদ্ধাকে যারা গত ৪১ বছর ধরে এই ড্রামসের বিট আর গিটারের রিফকে জীবন্ত রেখেছেন। আপনারা আমাদের রুচিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ওয়ারফেইজ আসলে এমন একটি ব্যান্ড, এবং তাদের যা অবদান, তাতে এই ব্যান্ডকে পদক দিয়ে, পদকই সম্মানিত হলো আসলে।

অন্তর্বতীকালীন সরকার অবশ্যই একটা ধন্যবাদ পাবে, তথাকথিত অপসংস্কৃতির শ্রোতা এই তকমা থেকে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্ত করার জন্য, ব্যান্ড হিসেবে ওয়ারফেইজকে এই সম্মানটি দেয়ার জন্য।

ওয়ারফেইজ ৪০ বছর মহাসমারোহে পার করেছে। ব্যান্ডের পরিকল্পনা ছিলো ২০২৬ এর জানুয়ারিতে ৪০ বছর পূর্তির একটা রিইউনিয়ন কনসার্টের মাধ্যমে ওয়ারফেইজ তার শ্রোতাদের সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নিবে।

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এই সরকারের আমলে একের পর এক কনসার্ট যেভাবে বাতিল বা পণ্ড হয়েছে, ওয়ারফেইজও বাধ্য হয়েছে শ্রোতাদের বহুল প্রতীক্ষিত রিইউনিয়ন কনসার্টটি বাতিল করতে।  এই ঘটনা ওয়ারফেইজের একুশে পদক পাওয়াকেও আসলে ম্লান করে দেয়। ঠিক যেমনি ঘটা করে ‘লালন উৎসব’ ম্লান হয়ে যায় সারাদেশে বাউল নির্যাতনের কাছে। ওয়ারফেইজের গান ধার করেই বলি,

”মোরা রুটির গন্ধে ভূলে অভিভূত ব্রেকফাস্ট,
নাটুকে প্রেম সাধারন্যের সন্ত্রাস,
কোথাও কাঁদছে দেখো সাঁঝের ভাটিয়ালি
ক্লান্ত বাউল ভাবে প্রেম বড় অবিচারী হায়”

একজন শিল্পী বা একজন ব্যান্ড টিকে থাকে আসলে অ্যালবামে বা কনসার্টে। পদক তাদেরকে উদ্বেলিত করে, সম্মানিত করে। কিন্তু, দিন শেষে তার মূল জায়গা দর্শকের ভিড়ে, স্টেইজে অথবা স্টুডিও মাইক্রোফোনের পেছনে।

শিল্পীর এই জায়গাটা নিশ্চিত করাটাই তাকে সবচেয়ে বড় সম্মান দেয়া। এটি সব পদকের ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আগামীতে যারা আসবেন, তারা যেন পদকের পাশাপাশি এই বিষয়টা মাথায় রাখেন।

দেশের সকল শিল্পী যেন নিয়মিত ও নির্বিঘ্নে দেশের যেকোন প্রান্তে পারফর্ম করতে পারবেন এটা যেন হয় তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। এবং নির্বাচনে জিতে সেই ওয়াদা পূরণ করাই হবে একজন শিল্পীকে প্রকৃত সম্মান দেয়া। একুশে বা স্বাধীনতা পদকের চেয়েও বেশি।

ওয়ারফেইজ ফরএভার!!!