নির্বাচনের চেনা দৃশ্যপটের বাইরেও এবার আরেক ধরনের অনুষঙ্গ চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মিম, ট্রল, রিলস, এমনকি ভিডিও গেইমও।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০২ পিএমআপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
পোস্টার, মাইকিং কিংবা জনসভা, চেনা এই দৃশ্যপটের বাইরেও এবার আরেক ধরনের নির্বাচনি অনুষঙ্গ চোখে পড়ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মিম, ট্রল, রিলস, এমনকি গেমও। গম্ভীর স্লোগানের জায়গা নিচ্ছে ব্যঙ্গ, রসিকতা আর জেন জি-দের পরিচিত শব্দভাণ্ডার।
ভোটারদের মন জয় করতে রাজনৈতিক স্যাটায়ার কি এখন প্রচারণার নতুন ও কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন প্রচারণা আসলে সম্মতি উৎপাদনের জন্যই করা হচ্ছে।
ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব, রাজনীতির উপস্থিতি এখন সর্বত্র। তবে আগের মতো শুধু বক্তৃতা বা বিবৃতির নয়, জনপ্রিয় মিম টেমপ্লেট, ট্রেন্ডিং অডিও কিংবা হালকা ব্যঙ্গের মধ্য দিয়েই উঠে আসছে রাজনৈতিক বার্তা।
কোনো দলের নেতাকে নিয়ে ট্রল, আবার কোনো ইস্যু নিয়ে ফানি ভিডিও। সব মিলে নির্বাচনি প্রচারণা ঢুকে পড়েছে ডিজিটাল সংস্কৃতির ভেতরে।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
‘ইয়ার্কি’, ‘আনোয়ার টিভি’, ‘যামু না’ টিভিসহ বেশ কিছু পেজ থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক ট্রল ও মিমস প্রকাশ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়। মুহর্তেই প্রচুর রিঅ্যাকশন, কমেন্ট ও শেয়ার হয় পোস্টগুলোতে।
ভোটযুদ্ধে ভিডিও গেইম
সবশেষ এই অনুষঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিডিও গেইম। ছোট আকারের এই ব্রাউজার গেইমগুলোও জনপ্রিয় হচ্ছে, আলোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথমে এসেছিল ‘চান্দা সৈনিক’ নামে একটা গেইমস। সেখানে দেখা যায়, একজন চাঁদাবাজ চাঁদা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় গেইম ‘প্যাক-ম্যানের’ আদলে তৈরি ওই গেইমটিতে দেখা যায়, বিভিন্ন পেশাজীবীদের কাছে গেলে ৫০ টাকা করে চাঁদা যোগ হয়। আর প্যাক-ম্যানের জায়গায় জামায়তের নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। যার সাথে সংঘর্ষ হলে গেইম ওভার।
আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই আসনের আলোচিত দুই প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তাদের নিয়েও তৈরি হয়েছে গেইমস।
সরাসরি তাদের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে গেইমটিতে।
সেখানে দেখা যায়, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী মশা হয়ে মির্জা আব্বাসকে কামড়াতে আসছে। যত মশা মারা যায়, তত পয়েন্ট–গেইমের নাম ‘পাটাব্বাস।’ গবেষণা বলছে, জেন জি প্রজন্ম রাজনৈতিক বক্তব্যের দীর্ঘ ভাষা এড়িয়ে চলে, কিন্তু ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট, যেমন, মিম, রিলস, শর্ট ভিডিওতে তারা আগ্রহী। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই অনেক দল ও সমর্থক গোষ্ঠী স্যাটায়ারকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও আছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্যাটায়ার কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে হালকা করে ফেলে। কখনো ভোটার বিভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
প্রচারণায় সৃজনশীলতা
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেছেন, “মানুষের সৃজনশীলতা বেড়েছে। গত জুলাই আন্দোলনের থেকে এখনকার সময়। আগে আমরা সংবাদপত্রে, বিশেষ করে শিশির ভট্টাচার্য, রফিকুন নবী, তাদের কার্টুন থেকে অনেক বিনোদন পেতাম, আবার মেসেজও পেতাম।”
আওয়ামী আমলে এই প্রবণতা বন্ধ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলছেন, আবারও এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যা আসলে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক আব্দুন নূর তুষার বলেন, “ডিজিটাল পৃথিবীতে এখন ছেলেমেয়েরা কোডিং করতে পারে, গেইম, অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারে। আর এসবের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।”
স্যাটায়ারভিত্তিক ফেসবুক পেজ ইয়ার্কির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক শিমু নাসের বলছেন, স্যাটায়ার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে এটা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
“এবারের নির্বাচনে বড় একটা অংশ তরুণ ভোটার যারা সোশ্যাল মিডিয়া অরিয়েন্টেড। মিম, কার্টুন, ট্রলের তারাই বড় ভোক্তা”- বলেন শিমু নাসের
নির্বাচনি পরিবেশ ‘বিঘ্নিত’ হচ্ছে ?
এক পক্ষ আরেকপক্ষকে ইঙ্গিত করে এসব কার্যক্রম চালালে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আব্দুন নূর তুষার। তিনি বলছেন, এই ধরনের ট্রল, মিম বা গেইম যে তৈরি করা হয় তার পেছনের বার্তাটাও বোঝা উচিত।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, কোনো কিছু যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুগল ও গণমাধ্যম অনুসরণ করা উচিত।”
তবে খান মোহাম্মদ রবিউল বলছেন, “এটা শিল্পীর স্বাধীনতা। মিম তৈরির ক্ষেত্রে তো বাইন্ডিং সম্ভব না। খুব এগ্রেসিভ কিছু না হলে ইটস ভেরি গুড মোড কমিউনিকেশন।”
তিনি মনে করছেন, এগুলো শুধুমাত্রই বিনোদন হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, “এই ধরনের স্যাটায়ার করার জন্যও যথেষ্ট জ্ঞানের প্রয়োজন। খুব বেশি আক্রমণাত্মক না হলে এগুলো সমস্যা তৈরি করবে না।” শিমু নাসেরও মনে করেন, এই ধরনের প্রচারণায় নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত হয় না। এটা প্রচারের নতুন ভাষা।
তবে নির্বাচন কমিশনের যে আচরণবিধি তা শুধু অফলাইনের ক্ষেত্রে, তােই অনলাইনেও এমন নীতিমালা প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ভোটারদের প্রভাবিত করবে?
এই ধরনের প্রচারের কৌশল ভোটারদের কিছু মাত্রায় প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, “সম্মতি উৎপাদন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগে নানান রকমের লেখা গান কবিতা, গল্প, এখন ডিজিটাল ভিডিও। এইসবের মাধ্যমে একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয় যে আমি ভালো, প্রতিপক্ষ ভালো না!”- বলেন এই রাজনীতি পর্যবেক্ষক।
এই ধরনের প্রচারণা ভোটারদের অবশ্যই প্রভাবিত করবে মন্তব্য করে শিমু নাসের বলেন, তরুণ ভোটারদের কমিউনিকেশন ল্যাঙ্গুয়েজই এমন। তাই এটাই এখন নির্বাচনি প্রচারের বড় হাতিয়ার।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির উদাহরণ টেনে এই লেখক ও সাংবাদিক বলেন, মামদানি তরুণদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ধরন পালটেছিলেন। এটা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তবে খান মোহাম্মদ রবিউল বলেন, “স্যাটায়রিক্যাল প্যাটার্নের কমিউনিকেশনটা মানুষ ইনজয় করে, উপভোগ করে। গতানুগতিকতার চেয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।”
এই ধরনের প্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।
ইলেকশনকেন্দ্রিক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ভোটারদের কতটুকু প্রভাবিত করবে
নির্বাচনের চেনা দৃশ্যপটের বাইরেও এবার আরেক ধরনের অনুষঙ্গ চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মিম, ট্রল, রিলস, এমনকি ভিডিও গেইমও।
পোস্টার, মাইকিং কিংবা জনসভা, চেনা এই দৃশ্যপটের বাইরেও এবার আরেক ধরনের নির্বাচনি অনুষঙ্গ চোখে পড়ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে মিম, ট্রল, রিলস, এমনকি গেমও। গম্ভীর স্লোগানের জায়গা নিচ্ছে ব্যঙ্গ, রসিকতা আর জেন জি-দের পরিচিত শব্দভাণ্ডার।
ভোটারদের মন জয় করতে রাজনৈতিক স্যাটায়ার কি এখন প্রচারণার নতুন ও কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন প্রচারণা আসলে সম্মতি উৎপাদনের জন্যই করা হচ্ছে।
ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব, রাজনীতির উপস্থিতি এখন সর্বত্র। তবে আগের মতো শুধু বক্তৃতা বা বিবৃতির নয়, জনপ্রিয় মিম টেমপ্লেট, ট্রেন্ডিং অডিও কিংবা হালকা ব্যঙ্গের মধ্য দিয়েই উঠে আসছে রাজনৈতিক বার্তা।
কোনো দলের নেতাকে নিয়ে ট্রল, আবার কোনো ইস্যু নিয়ে ফানি ভিডিও। সব মিলে নির্বাচনি প্রচারণা ঢুকে পড়েছে ডিজিটাল সংস্কৃতির ভেতরে।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
‘ইয়ার্কি’, ‘আনোয়ার টিভি’, ‘যামু না’ টিভিসহ বেশ কিছু পেজ থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক ট্রল ও মিমস প্রকাশ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়। মুহর্তেই প্রচুর রিঅ্যাকশন, কমেন্ট ও শেয়ার হয় পোস্টগুলোতে।
ভোটযুদ্ধে ভিডিও গেইম
সবশেষ এই অনুষঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিডিও গেইম। ছোট আকারের এই ব্রাউজার গেইমগুলোও জনপ্রিয় হচ্ছে, আলোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
প্রথমে এসেছিল ‘চান্দা সৈনিক’ নামে একটা গেইমস। সেখানে দেখা যায়, একজন চাঁদাবাজ চাঁদা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় গেইম ‘প্যাক-ম্যানের’ আদলে তৈরি ওই গেইমটিতে দেখা যায়, বিভিন্ন পেশাজীবীদের কাছে গেলে ৫০ টাকা করে চাঁদা যোগ হয়। আর প্যাক-ম্যানের জায়গায় জামায়তের নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। যার সাথে সংঘর্ষ হলে গেইম ওভার।
আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই আসনের আলোচিত দুই প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তাদের নিয়েও তৈরি হয়েছে গেইমস।
সরাসরি তাদের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে গেইমটিতে।
সেখানে দেখা যায়, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী মশা হয়ে মির্জা আব্বাসকে কামড়াতে আসছে। যত মশা মারা যায়, তত পয়েন্ট–গেইমের নাম ‘পাটাব্বাস।’
গবেষণা বলছে, জেন জি প্রজন্ম রাজনৈতিক বক্তব্যের দীর্ঘ ভাষা এড়িয়ে চলে, কিন্তু ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট, যেমন, মিম, রিলস, শর্ট ভিডিওতে তারা আগ্রহী।
সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই অনেক দল ও সমর্থক গোষ্ঠী স্যাটায়ারকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও আছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্যাটায়ার কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে হালকা করে ফেলে। কখনো ভোটার বিভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
প্রচারণায় সৃজনশীলতা
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ খান মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেছেন, “মানুষের সৃজনশীলতা বেড়েছে। গত জুলাই আন্দোলনের থেকে এখনকার সময়। আগে আমরা সংবাদপত্রে, বিশেষ করে শিশির ভট্টাচার্য, রফিকুন নবী, তাদের কার্টুন থেকে অনেক বিনোদন পেতাম, আবার মেসেজও পেতাম।”
আওয়ামী আমলে এই প্রবণতা বন্ধ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলছেন, আবারও এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যা আসলে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক আব্দুন নূর তুষার বলেন, “ডিজিটাল পৃথিবীতে এখন ছেলেমেয়েরা কোডিং করতে পারে, গেইম, অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারে। আর এসবের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।”
স্যাটায়ারভিত্তিক ফেসবুক পেজ ইয়ার্কির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক শিমু নাসের বলছেন, স্যাটায়ার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে এটা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
“এবারের নির্বাচনে বড় একটা অংশ তরুণ ভোটার যারা সোশ্যাল মিডিয়া অরিয়েন্টেড। মিম, কার্টুন, ট্রলের তারাই বড় ভোক্তা”- বলেন শিমু নাসের
নির্বাচনি পরিবেশ ‘বিঘ্নিত’ হচ্ছে ?
এক পক্ষ আরেকপক্ষকে ইঙ্গিত করে এসব কার্যক্রম চালালে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আব্দুন নূর তুষার।
তিনি বলছেন, এই ধরনের ট্রল, মিম বা গেইম যে তৈরি করা হয় তার পেছনের বার্তাটাও বোঝা উচিত।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, কোনো কিছু যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুগল ও গণমাধ্যম অনুসরণ করা উচিত।”
তবে খান মোহাম্মদ রবিউল বলছেন, “এটা শিল্পীর স্বাধীনতা। মিম তৈরির ক্ষেত্রে তো বাইন্ডিং সম্ভব না। খুব এগ্রেসিভ কিছু না হলে ইটস ভেরি গুড মোড কমিউনিকেশন।”
তিনি মনে করছেন, এগুলো শুধুমাত্রই বিনোদন হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, “এই ধরনের স্যাটায়ার করার জন্যও যথেষ্ট জ্ঞানের প্রয়োজন। খুব বেশি আক্রমণাত্মক না হলে এগুলো সমস্যা তৈরি করবে না।”
শিমু নাসেরও মনে করেন, এই ধরনের প্রচারণায় নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত হয় না। এটা প্রচারের নতুন ভাষা।
তবে নির্বাচন কমিশনের যে আচরণবিধি তা শুধু অফলাইনের ক্ষেত্রে, তােই অনলাইনেও এমন নীতিমালা প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ভোটারদের প্রভাবিত করবে?
এই ধরনের প্রচারের কৌশল ভোটারদের কিছু মাত্রায় প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, “সম্মতি উৎপাদন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগে নানান রকমের লেখা গান কবিতা, গল্প, এখন ডিজিটাল ভিডিও। এইসবের মাধ্যমে একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয় যে আমি ভালো, প্রতিপক্ষ ভালো না!”- বলেন এই রাজনীতি পর্যবেক্ষক।
এই ধরনের প্রচারণা ভোটারদের অবশ্যই প্রভাবিত করবে মন্তব্য করে শিমু নাসের বলেন, তরুণ ভোটারদের কমিউনিকেশন ল্যাঙ্গুয়েজই এমন। তাই এটাই এখন নির্বাচনি প্রচারের বড় হাতিয়ার।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির উদাহরণ টেনে এই লেখক ও সাংবাদিক বলেন, মামদানি তরুণদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ধরন পালটেছিলেন। এটা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তবে খান মোহাম্মদ রবিউল বলেন, “স্যাটায়রিক্যাল প্যাটার্নের কমিউনিকেশনটা মানুষ ইনজয় করে, উপভোগ করে। গতানুগতিকতার চেয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।”
এই ধরনের প্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।