মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়: তারেক রহমান 

“পাঁচই আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।”

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায় সতর্ক করে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের আহবান জানিয়েছেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

“মতবিভেদ হলে, বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি,” শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন তিনি।

শুক্রবার দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। সেদিনই দলের পক্ষ থেকে তার উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করার কথাও জানানো হয়।

শনিবারের এই মতবিনিময় সভার শুরুতেই সাংবাদিকদের তাকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন না করার অনুরোধ জানান তারেক রহমান; বলেন তার দল সরকারে গেলে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের সঠিক পরামর্শের প্রত্যাশা করেন তিনি।

বাংলাদেশের ‘অনেক সমস্যা ছিল' এবং 'আছে' মন্তব্য করে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন পাঁচই অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া যাবে না।

“হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ই অগাস্টে। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি সে মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ত আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটা যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়।”

রাজনীতিকদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা আর তার সব হয়ত পূরণ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন,”কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল ২০২৪ এর ৫ই অগাস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই জাতিকে আমরা একটি সঠিক ডিরেকশনে নিয়ে যেতে সমর্থ হব।”

বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করবে বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন,"আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা; একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১এ ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের একটি ঘটনা।

“কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ বোধহয় বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা জরুরি, না হলে “সকল প্রত্যাশাই ধ্বংস হয়ে যাবে”, বলেন তারেক রহমান।

“এই দেশে ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। আমাদের উপায় বের করতে হবে কীভাবে তাদের কর্মসংস্থান করা যায়; তা দেশের ভেতরে হোক বা দেশের বাইরে। আমরা যদি এটি করতে সক্ষম না হই তাহলে আমরা ৫ই আগস্ট বলি, ৯০ এর আন্দোলন বলি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলি, খুব সম্ভব আমাদের সবকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

সতেরো বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫এ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার পাঁচ দিন পর—৩০এ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন,” বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে, ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে আমরা সমর্থ হলে, আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এই যে নারী শিক্ষিত হয়েছে, এদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।”

তিনি জানান, প্রান্তিক নারীদের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। যার লক্ষ্য হবে ধীরে ধীরে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের হেনস্তার বিষয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নারী নিরাপদে পথে বের হয়ে যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, এটা আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।”

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসাবে নাম লিখিয়ে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু তারেক রহমানের।

এরপর ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন তিনি; ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে হন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় তারেক রহমানকে ।

খালেদা জিয়ার মারা যাবার দশ দিন পর, শুক্রবার রাতে বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।

বিএনপি'র শীর্ষ নেতা হিসেবে প্রথম কর্মসূচিতে তারেক রহমান গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন।

সংবাদমাধ্যমের কাছে গঠনমূলক সমালোচনার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন,”আপনাদের কাছ থেকে যেন এমন সমালোচনা আমরা পাই, যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলোর যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই।”