বাংলাদেশের রাজনীতি এক সময় নারীর নেতৃত্বের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ এশিয়ায়। প্রায় তিন যুগ ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন দুই নারী।
রাষ্ট্রক্ষমতা, দলীয় রাজনীতি ও জাতীয় সিদ্ধান্তের প্রতিটি স্তরে তাদের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। তবে সময় বদলেছে। আজ দেশের রাজনীতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে ক্ষমতার দৃশ্যপটে নারীর উপস্থিতি ক্রমশ ম্লান হচ্ছে।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে নির্বাসনে আছেন। বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্বে থাকা রওশন এরশাদও অনেকদিন ধরে অসুস্থ। ফলে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় নেই কেউই।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো দলেই সেই প্রতিফলন নেই। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের বড় সংকটই তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান রাজনীতিতে নারী
২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৩০০ আসনের প্রার্থী দিলেও সেখানে একজনও নারী নেই।
এই ছাড়া অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির এখন পর্যন্ত ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া নারী প্রার্থী আছেন মাত্র সাতজন। তার আসনের বিকল্প প্রার্থী কারা হবেন তা এখনও জানানো হয়নি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনই পূর্ণ তালিকা সরবরাহ করছে না। শরিকদের ছাড়া ঘোষিত ২৭২ আসনে তাদের নারী সংখ্যার অনুপাত খুবই কম।
২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির অন্যতম মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও আলোচনায় রয়েছেন নির্বাচনে। টক শো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফোরামে বিএনপির হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল।
২০১২ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি পেশায় আইনজীবী রুমিন ফারহানার। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের দাবিতে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করছিল।
সে সময় বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন ফারহানা। পরবর্তীতে তাকে বিএনপির পক্ষে গণমাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠতে দেখা গেছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রুমিন ফারহানার সংসদে একটি বক্তব্য নিয়ে মূলত ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের শুরুতেই যখন বলেন যে, এই সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তখন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা ব্যাপক শোরগোল শুরু করেন।
ওই সময় নানা ইস্যুতে সংসদ অধিবেশনে মন্তব্যের কারণে রুমিন ফারহানা আলোচনায় ছিলেন। এক পর্যায়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটও করেন তিনিসহ বিএনপির এমপিরা।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন না দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেন এই নেত্রী। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয় এবং ৩০
ডিসেম্বর তাকে বহিষ্কার করে দল। এই বহিষ্কারাদেশই বিএনপির সাথে তার 'যাত্রা শেষের ক্লিয়ার ইনডিকেশন' বলেও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা।
অন্যদিকে নতুন আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল এনসিপি প্রথমে ১২৫টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। বারবার নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বললেও গণমাধ্যমে দেওয়া তাদের প্রাথমিক প্রার্থী মনোনয়ন তালিকায় মাত্র ১৩ জন নারীর নাম দেখা যায়, যা মোট আসনের ১০ শতাংশের একটু বেশি।
তবে সবশেষ জামায়াতে সঙ্গে জোট ঘোষণার পর দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে তারা। সেই তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জামায়াতের সঙ্গে জোট ঘোষণার পর এনসিপির পরিচিত মুখ ডা. তাসনিম জারা, ডা. তাজনূভা জাবিন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাসনিম জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও সরে দাঁড়িয়েছেন তাজনূভা। আরেক সম্মুখসারির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমও নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৪-এর আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশের যে কথা বলা হচ্ছিল সেখানে যে কয়জন তরুণ নারী সামনে এগিয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই তিন নারী। তাই নির্বাচন, জোট, আন্দোলন কিংবা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কোথাও নারী নেতৃত্বের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়।
শারীরিক অবস্থার কারণে মূল রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে অনেকদিন দূরে ছিলেন খালেদা জিয়া। গেল বছরে তার চিকিৎসার প্রতিই মনোযোগ ছিল পরিবার ও দলের। তার অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার ছেলে তারেক রহমান।
তাই মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে আলোচনার টেবিল পর্যন্ত, নারীরা যেন ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে পড়ছেন।
৩৪ বছর রাজনীতির কেন্দ্রে নারী
১৯৯০ এর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্র কিংবা বিরোধী দল যেকোনো অবস্থানে নারীদের দৃঢ় উপস্থিতি ছিল। সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭এ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ১৪০টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি।
আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮টি আসন, জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দল কিছু আসনে জয়লাভ করেছিল।
নির্বাচনে জিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী।
১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের অধীনে একতরফা ও বিতর্কিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সে নির্বাচন বর্জন করে। মাত্র তিনটি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
একতরফা সে নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি দুটি দলের মধ্যে একটি হচ্ছে ফ্রিডম পার্টি। তারা একটি আসন পায়।
ওই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১দিন। খালেদা জিয়া সংসদ নেতা হলেও বিরোধী দলীয় কোন নেতা ছিল না।
১৯৯৬ সালের ১২ই জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি, বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি এবং জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়লাভ করে।
জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে ২১ বছর পরে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা সংসদ নেতা হন এবং বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন খালেদা জিয়া।
২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে।
নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে, আওয়ামী লীগ ৬২টি আসনে, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি আসনে জয়লাভ করে।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। সংসদ নেতা হন খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতা হন শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালের ২৯এ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও কিছু বামপন্থী দলকে সাথে নিয়ে মহাজোট গঠন করে আওয়ামী লীগ।
নির্বাচনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি, বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, জামায়াতে ইসলামী ও ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি করে আসনে জয়লাভ করে।
আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং সংসদ নেতা হন শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি একতরফা ও বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোন ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা এসব আসনে বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের ঝুলিতে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি আসন পায়।
জাতীয় পার্টি একদিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিল, অন্যদিকে তারা বিরোধী দলের আসনেও বসেছিল। শেখ হাসিনা হন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়। ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বে থাকলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চালিকাশক্তি ছিল বিএনপি। নির্বাচনে মোট ৩৯টি দল অংশ নেয়।
সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৮টি আসন পায়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ২২টি আসনে জয়লাভ করে। আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৮টি আসনে জয় পায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট । বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি এবং বিরোধী দলীয় নেতা হন এইচএম এরশাদ। তার মৃত্যুর পর বিরোধী দলের নেতা হন রওশন এরশাদ।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও রাজনৈতিক শূন্যতা
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ভবিষ্যত রাজনীতিতে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।
তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় একটা প্রভাব ছিল পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। আমরা প্রধান যে দুই নারী চরিত্র দেখেছি, তাদের উত্থানও সেই পরিবারের হাত ধরেই।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে হয়তো আমরা দেখতে পারি আর খালেদা জিয়ার নাতনি জায়মা রহমানও আসতে পারেন। আগামীর দিনগুলো বলে দেবে এই পরিবার থেকে নতুন নারী নেতৃত্ব উঠে আসতে পারে কি না।”
সাব্বির আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে যদি কেউ আসেন সেটা পরিবারতন্ত্রের মধ্য থেকেই কেউ আসবেন।
রাজনীতি পর্যবেক্ষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, আরপিও অনুযায়ী দলের সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু অবশ্যই একটা নেতৃত্বে একটা সংকট তৈরি করবে।

মিতি সানজানা বলেন, “আমাদের এক্সিস্টিং যে আইনগুলো আছে নির্বাচন সংক্রান্ত, সেখানে স্পষ্টভাবেই বলা রয়েছে যে, বিভিন্ন পলিটিকাল পার্টিতে একটা নাম্বার অফ উইমেন এনগেজ থাকবেন বা থাকতে হবে। কিন্তু সেটা নেই। কোনো বড় দলগুলোর মধ্যে কোনোভাবে দেখতে পাই না তো।”
“নিঃসন্দেহে এখানে একটি নারী নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাওয়ার একটা শঙ্কাতো অবশ্যই দেখা দিচ্ছে,” বলেন এই আইনজীবী।
২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর যে 'নতুন বাংলাদেশ'-এর কথা বলা হচ্ছিল সেখানে যে কয়জন তরুণ নারী সামনে এগিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবিন এবং নুসরাত তাবাসসুম। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির হয়ে সরব ছিলেন রুমিন ফারহানা। তাদের সবাই দল থেকে বের হয়ে গেছেন বা ছিটকে গেছেন।
তাদের এই অবস্থান রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, "এখানে পুরুষ-নারী সমস্যা না। তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাদের ঠান্ডা মাথায় রাজনীতি করা দরকার।”
তবে তাদের এই ছিটকে পড়াকে রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক মনে করছেন মিতি সানজানা।
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি যে, বিভিন্ন শীর্ষস্থানে বিভিন্ন নারীরা যারা পলিটিক্সে আসছেন, এসে আবার সেখান থেকে তারা ছিটকে পড়ে যাচ্ছেন।
“আইন কানুন থেকে শুরু করে সামাজিক প্রেক্ষাপট, সাইবার বুলিং এই বিষয়গুলো এখানে কিন্তু একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে কেন কোনো ধরনের কোনো নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না।”
এই আইনজীবী বলেন, “অনেককেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তারা দল থেকে বের হয়ে যাবেন, স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। কিন্তু সেখানেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে। নানাভাবে, নারীরা সোশাল স্টিগমা এবং সাইবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছেন।”
তারা কোনো একটি পলিটিক্যাল পার্টির থেকে সরে গেলেও রাজনীতির বলয় থেকে যেন সরে না যান, সেই বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত বলে মত দেন মিতি সানজানা।
জাতীয় রাজনীতির স্বার্থেই তাদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই মনে করি যে রাষ্ট্রীয়ভাবে, সামাজিকভাবে এবং আমাদের আইনি কাঠামোকে সেভাবে শক্ত করে সেই জায়গাটিকে নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের পার্টিসিপেশনটা সহজ হয়।”



