ছাত্রবিক্ষোভ থেকে বিরোধী ঐক্য: আন্দোলনের রাজনীতিতে ভারতের নতুন পরীক্ষা

এখনও পর্যন্ত ভারতের এই আন্দোলন শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক রয়ে গেছে। রাজধানী দিল্লিতে বা বাণিজ্য নগরী মুম্বাইতে বা আইটি সিটি ব্যাঙ্গালোরে কী হচ্ছে, তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, তেলেঙ্গানার প্রত্যন্ত গ্রামে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় সর্বসম্মতিক্রমে মানুষের সমর্থন বা মানুষ যুক্ত হচ্ছে কি-না সেটাই বড় প্রশ্ন হিসাবে উঠে আসছে।

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

ভারতের রাজনীতিতে লড়াইটা এখন শুধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নয়। একাধিক ইস্যুতে জমে ওঠা অসন্তোষকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া সম্ভব কি-না, সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। 

নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদের ক্ষোভ, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদ, এই ঘটনাগুলোকেই এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা চলছে।

এই আবহেই বিরোধীনেতা রাহুল গান্ধী প্রতিবাদগুলিকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, আন্দোলনের আড়ালে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। তাই এতদিন ধরে চলা রাজপথের প্রতিবাদকে ঘিরে সংঘাত এখন উদ্দেশ্য ও পরিণতির প্রশ্নেও পৌঁছেছে।

ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত বুঝতে গেলে প্রথমেই ফিরে দেখতে হবে ছাত্র আন্দোলনের দিকে।

নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল, তার মূলে ছিল মেধার মূল্যায়ন, পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টিসহ ছাত্রসংগঠনগুলির প্রতিবাদে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে বৃহত্তর নাগরিক আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে প্রতিবাদের কলেবর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা এবং তরুণদের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়।

তবে ছাত্রদের মূল দাবির সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। আর এই পার্থক্যটিই বর্তমান আন্দোলনের চরিত্র বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।

এখান থেকেই শুরু হয় এই আন্দোলনের দ্বিতীয় অধ্যায় অর্থাৎ এসআইআর, ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে ভারতের এক দৈনিকে প্রকাশিত খবর নিয়ে উত্তাল রাজনীতি। যার প্রতিবাদে জন্য ফের রাস্তায় নামে ককরোচ জনতা পার্টি, যুবসমাজ এবং ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

সর্বাগ্রে থাকেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যুক্ত হন ভারতের নাগরিক সমাজের একাংশ। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া, সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি দাবি করে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত এবং খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটারও আছেন। ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগও রয়েছে।

তবে ভারতের বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রয়োগ নিয়েই। তাই বিতর্কটি শুধু কতগুলি নাম বাদ পড়েছে, তার হিসাবের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। বিরোধীদের পাশাপাশি এই দাবিতে সুর চড়িয়েছে ভারতের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও।

ইতিমধ্যেই ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন এবং সুপ্রিমকোর্টও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নোটিশ দিয়েছেন অভিযোগের কারণ দর্শানোর জন্য।

ভারতের বাম ছাত্র সংগঠনগুলো লাগাতার পথে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা হয়ে উঠেছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ।

যদিও এই ঘটনাক্রমকে এক সুতোয় বাঁধলেই যে এটি সর্বভারতীয় সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান তৈরি হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। 

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ১৬ই অক্টোবর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিরোধীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ধাঁচে সরকার পরিবর্তনের কৌশল অনুসরণের অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্য, আন্দোলনের নামে তরুণদের রাজনৈতিক সংঘাতের হাতিয়ার করা হচ্ছে।

বিরোধীদের পাল্টা অবস্থান, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য রাখা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখলের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে।

এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই বর্তমান সংঘাতের মূল রাজনৈতিক প্রশ্নটি স্পষ্ট হয়। আন্দোলনের দাবিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক হবে, নাকি আন্দোলনের উদ্দেশ্যকেই সন্দেহের কেন্দ্রে রেখে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। 

কারণ এই মুহূর্তে ভারতের রাজনীতিতে তিনটি সমান্তরাল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুব সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ও নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, বিরোধীদের সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা আর সরকারের তরফে প্রতিবাদ সামলানোর পাশাপাশি যুব সমাজের আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।

এই তিন প্রবণতা আগামী দিনে কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করবে তার উপরেই নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ।

এখানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনাটি সংবেদনশীল হলেও তাৎপর্যহীন নয়। ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনে।

কিন্তু সেই পরিণতির পেছনে ছিল আন্দোলনের বিস্তার, প্রাণহানি, বলপ্রয়োগের অভিযোগ, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষের সম্মিলিত প্রভাব।

যদিও ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে সেই অভিজ্ঞতার সরাসরি পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা যুতসই নয়। বরং তুলনাটি থেকে একটি সীমিত শিক্ষা নেওয়া যায়, নির্দিষ্ট দাবি ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে পৌঁছতে পারে, কিন্তু সেই রূপান্তর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার উপর।

ভারতের ক্ষেত্রে সেই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিবাদগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত কতটা স্থায়ী সামাজিক ও সাংগঠনিক সমন্বয় তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

দিল্লিতে ছাত্রদের প্রতিবাদ, বিরোধী নেতাদের যৌথ কর্মসূচি এবং নাগরিক সংগঠনগুলির সক্রিয়তা আন্দোলনকে দৃশ্যমান করেছে। টিভির প্রাইম টাইম বা খবরের কাগজের শিরোনাম হিসেবে উঠে এসেছে। কিন্তু এখনই বলা যায় না এই আন্দোলন 'ভারতকে' প্রভাবিত করছে।

প্রশ্নটা এখানে আরো গভীর হচ্ছে এই কারণে যে, এখনও পর্যন্ত ভারতের এই আন্দোলন শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক রয়ে গেছে। রাজধানী দিল্লিতে বা বাণিজ্য নগরী মুম্বাইতে বা আইটি সিটি ব্যাঙ্গালোরে কী হচ্ছে, তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, তেলেঙ্গানার প্রত্যন্ত গ্রামে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় সর্বসম্মতিক্রমে মানুষের সমর্থন বা মানুষ যুক্ত হচ্ছে কি-না সেটাই বড় প্রশ্ন হিসাবে উঠে আসছে।

১৬ই অক্টোবর দিল্লির কনট প্লেসে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও পাটনাতেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলো আন্দোলনের ভৌগোলিক বিস্তারের ইঙ্গিত দিলেও, দেশজুড়ে সমান জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।

রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি এখানেই। পরীক্ষাব্যবস্থার উপর আস্থা হারানো ছাত্র, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা নাগরিক এবং বিরোধী দলের সমর্থকদের অসন্তোষের কারণ এক নয়।

তাদের একই মঞ্চে আনা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অভিন্ন কর্মসূচিতে ধরে রাখা ঢের কঠিন। রাহুল গান্ধীর সামনে তাই চ্যালেঞ্জ শুধু বিরোধীদলগুলোকে একত্র করাই নয়, বরং বিভিন্ন আন্দোলনের স্বতন্ত্র দাবি অক্ষুণ্ণ রেখেও একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করা।

কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বাম দল এবং অন্যান্য বিরোধীশক্তির মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলে সেই ঐক্যের স্থায়িত্বও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এর সঙ্গে আছে আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তির প্রশ্ন। বড় শহরে প্রতিবাদ এবং সামাজিক মাধ্যমে তার প্রচার রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি করতে পারে, কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় কতটা সংগঠন গড়ে উঠছে, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, মূল্যবৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমস্যার সঙ্গে আন্দোলনের কতটা সংযোগ তৈরি হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার ব্যাপ্তি নির্ধারণ করবে।

আন্দোলন যদি মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার প্রভাবও সীমিত হতে পারে। বিপরীতে, বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব সমস্যা এবং নাগরিক অধিকারের দাবির মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে তার রাজনৈতিক পরিসর বাড়তে পারে।

এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত । ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

উত্তরপ্রদেশের ৪০৩ আসনের বিধানসভা এবং জাতীয় রাজনীতিতে এই রাজ্যের গুরুত্ব বিরোধীদের কাছে আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর মঞ্চ হিসাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করবে।

কিন্তু নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আবহ তৈরি হওয়া এবং ভোটারদের সমর্থন অর্জন এক বিষয় নয়। তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় সংগঠন, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব, জোটের সমন্বয় এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের কাছে পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধীরা সেই প্রত্যাশার উত্তর কতটা দিতে পারে, তার উপরেই ভারতে চলমান আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক মূল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।

কেন্দ্রের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কোনও আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা সরকারের অধিকার, কিন্তু তাতেই  সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির জবাব দেওয়ার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্বচ্ছতা, তথ্য প্রকাশ এবং কার্যকর প্রতিকারের মাধ্যমে আস্থা বজায় রাখা জরুরি। একইভাবে, বিরোধীদেরও রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে প্রমাণভিত্তিক অভিযোগ এবং সাংবিধানিক পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হবে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী, উভয়ের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয় শুধু রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে নয়, বরং প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক অধিকারের প্রতি তাদের আচরণের মাধ্যমেও।

সব মিলিয়ে, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কোনও আসন্ন সরকার পতনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার চেয়ে বিরোধীঐক্য, তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখাই এই মুহূর্তে বেশি যুক্তিযুক্ত।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় একটি প্রেক্ষাপট হতে পারে, তবে তা কখনোই ভারতের ভবিষ্যতের পূর্বনির্ধারিত ছক নয়। শেষ পর্যন্ত ভারতের আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণ করবে দেশের মানুষ, তাদের অভিজ্ঞতা এবং দেশের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

তাই এই প্রেক্ষাপটেই রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। যেখানে তিনি বিরোধীদের আন্দোলনকে বাংলাদেশের ধাঁচে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বিরোধীদেরও পাল্টা বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের রাজনৈতিক লক্ষ্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ।

(লেখক: ভারতের গণমাধ্যমকর্মী)