চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে বাড়ি ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। ২৪এ এপ্রিল দিবাগত রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে বাস থেকে নামেন। যাচ্ছিলেন রাজগঞ্জ পানপট্টির নিজ বাসায়। মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে জানাচ্ছিলেন ফেরার কথা। তখন রাত ১টা ২৫ মিনিট।
পরদিন শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ পাওয়া যায়।
বুলেট বৈরাগী ছিনতাইকারীদের হাতেই নিহত হয়েছিলেন বলে জানাচ্ছে র্যাব। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করেছে বাহিনীটি।
র্যাব জানায়, বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর তাকে যে সিএনজিতে ওঠেন, তাতে আগে থেকেই আরো দুই যাত্রী ছিলেন। বুলেটও সিএনজিতে ওঠেন।
কিছুদূর যাওয়ার পর অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। পরে চলন্ত সিএনজি থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করত। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই লাকসাম রেলওয়ে থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
বুলেট নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিলো। কয়েক ঘণ্টা তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সহযোগিতা চান।
শনিবার নিহতের বাবা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরই মধ্যে ৯৯৯-এ কল পেয়ে সকাল পৌনে ৮টার দিকে কোটবাড়ী এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনের পাশে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে দুপুরে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে লাশটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।

র্যাব জানিয়েছে ২৬ এপ্রিল এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মো. সুজন। তাদের কাছ থেকে একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগদান করেন। সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থেকেই ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণে চট্টগ্রামে যান। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও ৯ মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান আছে।



