যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, হরমুজ সংকট ও মতবিরোধে নতুন অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা থামেনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, মিত্রদের মতবিরোধ এবং ইরানের ক্ষোভে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর এবং যেকোনো সময় নতুন সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৪ পিএমআপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
নতুন অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবাননে হামলা
টানা কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এখনো অনেক দূরের পথ। কাগজে-কলমে যুদ্ধ থামার ঘোষণা এলেও বাস্তবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি আপাত স্বস্তি দিলেও তা ভীষণ ভঙ্গুর আর যেকোনো মুহূর্তে তা আবারও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে পুরো অঞ্চল।
বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার কথাও জানিয়েছে।
একইদিন লেবাননের বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যা এবারের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় আকারের হামলা।
আঠাশে ফেব্রুয়ারি থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর কথা ভাবতে পারে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তা ইমরান রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে লেবানন সরকারের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এই পথ এখন বন্ধ।
বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘খুবই স্পর্শকাতর’ আখ্যা দিয়ে বলছেন অতীতেও যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়েছে। এবারও যদি একই ঘটনা ঘটে, তাহলে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়াতে পারে; ভেঙে পড়তে পারে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া।
লেবানন নিয়ে জটিলতা
যুদ্ধবিরতি হলেও লেবানন এই চুক্তির আওতায় পড়বে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়মিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্য প্রযোজ্য নয়। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে।
কিন্তু পাকিস্তান ভিন্ন কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করা দেশটি বলেছিল, এই চুক্তি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এমনকি এও বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি “সব জায়গায়” কার্যকর হবে-লেবাননও এর বাইরে নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর কারণে লেবাননকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে “ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, ইরান ভেবেছিল লেবাননও চুক্তির অংশ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
অন্যদিকে ইরান একেবারেই ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। তেহরান বলছে, লেবাননে হামলা চালানো যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া ১০টি শর্তের অন্তত তিনটি ভেঙেছে। তাই এই অবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া “অযৌক্তিক”।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের বোমা হামলা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া এই চুক্তির অংশ ছিল। তিনি বলেন, “লেবাননে কী ঘটছে তা পুরো বিশ্ব দেখছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।”
এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে। তাদের ভাষায়, “লেবাননের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হলে আমরা এমন জবাব দেব, যা আগ্রাসনকারীদের জন্য অনুতাপের কারণ হবে।”
হরমুজ প্রণালির কী হবে
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ে। যুদ্ধবিরতির পর তা খোলার কথা থাকলেও লেবাননে হামলার কারণে তা শঙ্কায় পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, লেবাননে হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর “ভুল” এবং তারা আশা করছে এটি দ্রুত ও নিরাপদভাবে খুলে দেওয়া হবে।
সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালির আশপাশে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে খুব দ্রুত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরে আসবে।
তাদের মতে, বেশিরভাগ জাহাজ পরিচালনাকারীরা এখনো ‘অপেক্ষা করে দেখার’ অবস্থানে আছে। কারণ, নিষেধাজ্ঞা, বীমা জটিলতা এবং ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা এখনো আগের মতোই রয়েছে। এসব সমস্যা না বদলালে তারা ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
কেপলার আরও জানিয়েছে, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, তাহলে দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। প্রণালির আকার ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সীমা নির্ধারিত। তবে এটি শান্তিকালীন সময়ের প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম। উপরন্তু, টোল বা অতিরিক্ত খরচের বিষয়টিও এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলেও হঠাৎ করে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের সম্পাদক রিচার্ড মিড জানান, ইরান এখনো প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য অনুমতি নিতে হবে। আর এই বাস্তবতা বদলায়নি।
তিনি বলেন, “অনুমতি না থাকলে কোনো জাহাজ চলতে পারবে না। অর্থাৎ বাস্তবে খুব বেশি কিছু পরিবর্তন হয়নি।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আরব উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। তারা এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না।
সৌদি আরবভিত্তিক গবেষক হিশাম আল-ঘান্নাম বলেছেন, নীরব হলেও একটি স্পষ্ট উদ্বেগ কাজ করছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর কিছুটা প্রভাব রাখতে দিতে পারেন, বিনিময়ে একটি “দুর্বল ও অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি” মেনে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, এতে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে কেবল বাহ্যিক সফলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিকল্প চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে মত দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, “যদি দুর্বল হলেও কঠোর অবস্থানে থাকা ইরানি নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তাহলে তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।”
হামলা বন্ধের আহ্বান
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা ও লেবাননে হামলা নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
তিনি বলেছেন, বুধবারের হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ক্রমবর্ধমান হতাহতের সংখ্যা তাকে আতঙ্কিত করছে।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার ভাষায়, “এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই।”
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সও হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এটি শুধু ওই অঞ্চলের বিষয় নয়, এর প্রভাব পুরো বিশ্বজুড়ে পড়ছে।
যুদ্ধ থামাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন ট্রাম্প। শর্ত না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকিও দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে স্বস্তি ফিরেছিল বিশ্বজুড়ে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তা নেমে আসে ৯২ ডলারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে স্বস্তির মাঝেও উদ্বেগ কমেনি। যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।
পরিস্থিতি এখন এমন যে যুদ্ধবিরতিই হুমকির মুখে পড়েছে।
শুধু লেবানন নয়, ইরানের ভেতরেও কিছু স্থানে হামলার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, লাভান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে অনুপ্রবেশ এবং দেশের মধ্যাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছে তারা
ইরানের মতে, এসব ঘটনাও যুদ্ধবিরতির শর্তভঙ্গের মধ্যে পড়ে। তারা বলছে, এই যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও কার্যকর হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার যুদ্ধ কৌশল বদলানো এবং উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য অনেক মিত্র দেশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিল বলেন, “মিত্র দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এভাবে অস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুর্বল পরিকল্পনার মাধ্যমে যুদ্ধ চালানো হলে তা সম্ভব হয় না।”
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, হরমুজ সংকট ও মতবিরোধে নতুন অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা থামেনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা, মিত্রদের মতবিরোধ এবং ইরানের ক্ষোভে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর এবং যেকোনো সময় নতুন সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
টানা কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এখনো অনেক দূরের পথ। কাগজে-কলমে যুদ্ধ থামার ঘোষণা এলেও বাস্তবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি আপাত স্বস্তি দিলেও তা ভীষণ ভঙ্গুর আর যেকোনো মুহূর্তে তা আবারও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে পুরো অঞ্চল।
বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার কথাও জানিয়েছে।
একইদিন লেবাননের বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যা এবারের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় আকারের হামলা।
আঠাশে ফেব্রুয়ারি থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর কথা ভাবতে পারে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তা ইমরান রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে লেবানন সরকারের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এই পথ এখন বন্ধ।
বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘খুবই স্পর্শকাতর’ আখ্যা দিয়ে বলছেন অতীতেও যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়েছে। এবারও যদি একই ঘটনা ঘটে, তাহলে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়াতে পারে; ভেঙে পড়তে পারে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া।
লেবানন নিয়ে জটিলতা
যুদ্ধবিরতি হলেও লেবানন এই চুক্তির আওতায় পড়বে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়মিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লেবাননের জন্য প্রযোজ্য নয়। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে।
কিন্তু পাকিস্তান ভিন্ন কথা বলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করা দেশটি বলেছিল, এই চুক্তি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এমনকি এও বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি “সব জায়গায়” কার্যকর হবে-লেবাননও এর বাইরে নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর কারণে লেবাননকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে “ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, ইরান ভেবেছিল লেবাননও চুক্তির অংশ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
অন্যদিকে ইরান একেবারেই ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। তেহরান বলছে, লেবাননে হামলা চালানো যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া ১০টি শর্তের অন্তত তিনটি ভেঙেছে। তাই এই অবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া “অযৌক্তিক”।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের বোমা হামলা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া এই চুক্তির অংশ ছিল। তিনি বলেন, “লেবাননে কী ঘটছে তা পুরো বিশ্ব দেখছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।”
এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে। তাদের ভাষায়, “লেবাননের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হলে আমরা এমন জবাব দেব, যা আগ্রাসনকারীদের জন্য অনুতাপের কারণ হবে।”
হরমুজ প্রণালির কী হবে
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল হরমুজ প্রণালি নিয়ে। যুদ্ধবিরতির পর তা খোলার কথা থাকলেও লেবাননে হামলার কারণে তা শঙ্কায় পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, লেবাননে হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবর “ভুল” এবং তারা আশা করছে এটি দ্রুত ও নিরাপদভাবে খুলে দেওয়া হবে।
সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালির আশপাশে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে খুব দ্রুত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরে আসবে।
তাদের মতে, বেশিরভাগ জাহাজ পরিচালনাকারীরা এখনো ‘অপেক্ষা করে দেখার’ অবস্থানে আছে। কারণ, নিষেধাজ্ঞা, বীমা জটিলতা এবং ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা এখনো আগের মতোই রয়েছে। এসব সমস্যা না বদলালে তারা ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
কেপলার আরও জানিয়েছে, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে, তাহলে দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। প্রণালির আকার ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সীমা নির্ধারিত। তবে এটি শান্তিকালীন সময়ের প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম। উপরন্তু, টোল বা অতিরিক্ত খরচের বিষয়টিও এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলেও হঠাৎ করে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের সম্পাদক রিচার্ড মিড জানান, ইরান এখনো প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য অনুমতি নিতে হবে। আর এই বাস্তবতা বদলায়নি।
তিনি বলেন, “অনুমতি না থাকলে কোনো জাহাজ চলতে পারবে না। অর্থাৎ বাস্তবে খুব বেশি কিছু পরিবর্তন হয়নি।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আরব উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। তারা এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না।
সৌদি আরবভিত্তিক গবেষক হিশাম আল-ঘান্নাম বলেছেন, নীরব হলেও একটি স্পষ্ট উদ্বেগ কাজ করছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর কিছুটা প্রভাব রাখতে দিতে পারেন, বিনিময়ে একটি “দুর্বল ও অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি” মেনে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, এতে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে কেবল বাহ্যিক সফলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিকল্প চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে মত দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, “যদি দুর্বল হলেও কঠোর অবস্থানে থাকা ইরানি নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তাহলে তা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।”
হামলা বন্ধের আহ্বান
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা ও লেবাননে হামলা নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বুধবারের হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ক্রমবর্ধমান হতাহতের সংখ্যা তাকে আতঙ্কিত করছে।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার ভাষায়, “এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই।”
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সও হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এটি শুধু ওই অঞ্চলের বিষয় নয়, এর প্রভাব পুরো বিশ্বজুড়ে পড়ছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়েল ব্যারট ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত
যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা
যুদ্ধ থামাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন ট্রাম্প। শর্ত না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকিও দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে স্বস্তি ফিরেছিল বিশ্বজুড়ে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তা নেমে আসে ৯২ ডলারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে স্বস্তির মাঝেও উদ্বেগ কমেনি। যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।
পরিস্থিতি এখন এমন যে যুদ্ধবিরতিই হুমকির মুখে পড়েছে।
ইতোমধ্যে লেবাননে হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলছে ইরান।
শুধু লেবানন নয়, ইরানের ভেতরেও কিছু স্থানে হামলার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, লাভান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে অনুপ্রবেশ এবং দেশের মধ্যাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছে তারা
ইরানের মতে, এসব ঘটনাও যুদ্ধবিরতির শর্তভঙ্গের মধ্যে পড়ে। তারা বলছে, এই যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও কার্যকর হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার যুদ্ধ কৌশল বদলানো এবং উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য অনেক মিত্র দেশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিল বলেন, “মিত্র দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এভাবে অস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুর্বল পরিকল্পনার মাধ্যমে যুদ্ধ চালানো হলে তা সম্ভব হয় না।”
ভাকিল আরও বলেন, এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মানা হয়নি। বিষয়টি ইউরোপে ব্যাপক উদ্বেগ এবং প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া এখন হুমকির মুখে বলে মনে করেন সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি।
তিনি বলেন, এর আগে ২০২৪ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে থামাতে চায় ইরান।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে আবার লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চললে আলোচনা থেকে সরে যেতে পারে তেহরান। ফলে ভেস্তে যেতে পারে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া।