মৃত্যুদণ্ড চেষ্টার ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরলো ক্রিস্টা পাইকের

এই ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেঁচে যাওয়ার পর পাইকের দণ্ডের কী হবে। টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি, তাই আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না তা এখনো পরিষ্কার না।

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের। ৫০ বছর বয়সী এই নারীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি অল্প অল্প কথা বলতে পারছেন। তবে তার অবস্থা এখনো গুরুতর।

গেলো ৩০এ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা হয়। দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয় তাকে।

পাইকের শারীরিক অবস্থার এই উন্নতিকে তার আইনজীবীরা ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের হিসাবে নজিরবিহীন’ বললেও পুরোপুরি সুস্থ হতে তার আরও অনেক সময় লাগবে বলে তারা জানিয়েছেন।

পাইকের শিরা সরু এবং থ্রম্বোসাইটোসিস নামে একটি রক্তের সমস্যার কারণে তার রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি বলে আগেই জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।

তাদের দাবি, শিরা খুঁজে পেতে কারা কর্মকর্তারা অন্তত সাতবার সুঁচ ফুটিয়েছিলেন পাইকের শরীরে। এক পর্যায়ে পাইক নিজেই দেখিয়ে দেন কোথায় শিরা পাওয়া যাবে।

পাইককে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয়। তার পক্ষের অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ড. জোয়েল জিভট ধারণা করছেন পেন্টোবারবিটাল রক্তে না মিশে আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে গিয়েছিল।

তার ভাষ্য, দুই ডোজে পাইকের বেঁচে থাকার কথা না। যার মানে দাঁড়ায় পেন্টোবারবিটাল পুরো মাত্রায় রক্তে পৌঁছায় নাই। বেঁচে যাওয়ার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এটাই।

পাইকের দুই হাত ফুলে যায়। আর শরীরে পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত আর ফোসকা পড়ে যায়।

আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পুরো সময়জুড়ে পাইক কাঁদছিলেন, কাতরাচ্ছিলেন এবং জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন।

পাইকের মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গলদ থাকার দাবি করে তার আইনজীবীরা এই ঘটনার সব নথি, ভিডিও ও প্রমাণ সংরক্ষণে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

পাইকের শারীরিক সমস্যা আর প্রাণঘাতী ইনজেকশনে বাড়তি কষ্ট পাওয়ার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তার আইনজীবীরা শেষ মূহুর্তেও একাধিকবার আদালতে গিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট দণ্ড স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দেন। আর টেনেসির গভর্নরও ক্ষমার আবেদন ফিরিয়ে দেন।

এই ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেঁচে যাওয়ার পর পাইকের দণ্ডের কী হবে। টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি, তাই আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না তা এখনো পরিষ্কার না।

টেনেসির গভর্নর অবশ্য এই বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের কারা কর্তৃপক্ষের প্রধানও পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। আর পাইকের আইনজীবীরা চাচ্ছেন তার দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হোক।

১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পরিচয়ের পর পাইক ও তার তখনকার প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ স্লেমারকে হত্যা করেন বলে বিচারে প্রমাণিত হয়।

পাইক টেনেসির একমাত্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী। তার দণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরের বেশি সময় পর রাজ্যটিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে পুরুষের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা এক হাজার ৬৬৩।

[বিবিসি অবলম্বনে]