ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০ জন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শনিবার ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরই বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় ছোট আকারের সুনামির ঢেউ দেখা যায়। এসব ঢেউয়ের উচ্চতা ছিলো ১ মিটারের কম। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামির সতর্কতা তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাউমেরে শহর। সেখান থেকেই উদ্ধারকারীরা ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজন আটকে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধার সংস্থা।

ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেওকেয়োতে এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না। ভূমিধসের কারণে সড়কপথে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এখন ফেরিতে করে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, নাগেওকেয়ো থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ভবন ধসে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাউমেরেতে একটি ভবন ধসে ধুলো ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসেন। 

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিলো মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

১৯৯২ সালেও একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিলো। ওই সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো।

‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। এ এলাকায় কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

(তথ্যসূত্র- রয়টার্স)