যুক্তরাজ্যেও ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, কে এই ‘কিং অব দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
ক্ষমতায় এসে গত চার দশকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারা বদলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএমআপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর এবার যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কণ্ঠেও শোনা গেলো ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। ক্ষমতায় আসার আগে দুজনই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন একটি ‘পরিকল্পনার’ প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, “আমার একটি পরিকল্পনা আছে (আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান)। আমি কী বিশ্বাস করি এবং এই দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, তা আমি জানি।”
ক্ষমতায় এসে গত চার দশকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারা বদলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার লেবার পার্টির এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, নির্বাচিত লেবার প্রতিনিধি হিসেবে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা তাকে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কী করতে চাই। আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আর আমি চাই, আপনারা এটাও জানুন যে আমি বদলাবো না।”
বার্নহ্যাম বলেন, তার নিজস্ব নেতৃত্বের ধরন রয়েছে এবং তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকবেন।
“আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি, মানুষের কাছাকাছি থাকব। আশা করি, নতুন মৌসুম শুরু হলেও তখনও আমার সিজন টিকিট নিয়েই মাঠে থাকব।”
ভাষণে তিনি বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে প্রভাব রাখা নব্য উদারনৈতিক (নিওলিবারেল) অর্থনীতি ক্ষতি করেছে শহর, গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রথামগত শ্রমজীবী মানুষদের। তার সরকার সেই ধারা বদলে নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেবে।
তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে “গত ৪০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।”
এ ছাড়া লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং লন্ডনের বাইরে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দেন বার্নহ্যাম। তবে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান তিনি।
বার্নহ্যাম আরও বলেন, তিনি লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করতে চান এবং সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করবেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
গত বছরের ২৫এ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশে তারেক রহমানও বলেছিলেন, “উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি “আই হ্যাভ আ প্ল্যান” বললেও পরে সেটিকে “উই হ্যাভ আ প্ল্যান”-এ রূপ দেন।
তিনি জানান, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার দলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তাঁর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।”
দুই নেতাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দেওয়া ভাষণে এভাবে প্ল্যানের (পরিকল্পনা) কথা বললেন। আগামী সোমবার ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি।
কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মুখ নন। প্রায় আড়াই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসছেন। সাবেক সাংবাদিক, মন্ত্রী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
এক দশক আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। তখন তার লক্ষ্য ছিল গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়া। সফলও হয়েছিলেন। তাকে বলা হতো ‘কিং অব দ্য নর্থ’।
ম্যানচেস্টার শহর উত্তরে হওয়ায় তাকে এই নামে ডাকা হতো। শব্দটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জন স্নোকে বলা হতো। তাই আগে থেকেই বেশ পরিচিত নাম তিনি।
তবে ব্রিটেনে গত এক দশকে সাতবার বদল হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পদ। তাই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কতদিন টিকতে পারবেন সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ির স্টারমারের হঠাৎ পদত্যাগের কারণে সুযোগ আসে বার্নহ্যামের সামনে। সোমবার ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে।
ম্যানচেস্টারের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা জোসি হারনান বলেছেন, “লেবার আন্দোলনের অনেকে এবং ব্রিটেনের অনেক সাধারণ মানুষই মনে করেন বার্নহ্যাম যে আদর্শের নেতৃত্ব দেন, লেবার পার্টি ও দেশ আসলে সেভাবেই পরিচালনা করা উচিত।”
“তাকে নিয়ে সাধারণ ব্রিটিশদের প্রত্যাশা অনেক”- বলেন জোসি হারম্যান।
ম্যানচেস্টারে সুপরিচিত হলেও বার্নহ্যামের জন্ম লিভারপুলে। ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করা বার্নহ্যাম মধ্যবিত্ত ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ টেলিকমের প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। পরিবারের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান এবং যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন।
স্নাতক শেষ করে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন বার্নহ্যাম। পরে লেবার পার্টির রাজনীতিকদের গবেষক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ২০০১ সালে ম্যানচেস্টারের লেই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
লেবার সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় পাননি। এরপর ২০১৭ সালে সংসদ ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে গণপরিবহন, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা পায়। ব্যবসাবান্ধব সমাজতান্ত্রিক নীতির কারণে তার উন্নয়ন মডেল ‘ম্যানচেস্টারিজম’ নামে পরিচিতি পায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ‘লন্ডনকেন্দ্রিক’ নীতির তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় আলোচনায় আসেন বার্নহ্যাম।
উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকার কারণেই তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান।
ম্যানচেস্টারে মেয়র থাকার সময় স্যুট-টাই না পরে জিন্স আর টি-শার্ট পরে কাজ করেছেন তিনি। অবসরে ফুটবল খেলেছেন। ডিজে ব্যাটেলে নব্বই দশকের গান বাজিয়েছেন।
বার্নহ্যামের সাবেক শিক্ষক স্টিফেন হ্যারিংটন বলেন, “বার্নহ্যাম নিজেকে শ্রমজীবী মনে করতো। তাই কেমব্রিজেও পড়তে যেতে চায়নি। নিজের ওপর তার কোনো বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু যখন সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলো, তার ইতিহাস তৈরি হলো।”
কতদিন থাকতে পারবেন অ্যান্ডি
ব্রিটেনের রাজনীতিতে সম্প্রতি স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীত্বের ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালে মার্গারেট থ্যাচারের আগমনের পর থেকে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট পর্যন্ত ৩৭ বছরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন পাঁচজন। আর ২০১৬ সালে ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছরেই পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে ব্রিটেন।
গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা গেছে চারজনকে, যাদের মধ্যে তিনজন ক্ষমতায় আসেন দুই মাসের ব্যবধানে। যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনের এই অস্থিতিশীলতা শুরু খুঁজতে গেলে যেতে হবে ২০১৬ সালে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। ঐতিহাসিক গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় ব্রেক্সিটের, যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকবে না।
তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার বিপক্ষে এবং গণরায় ব্রেক্সিটের পক্ষে যাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। ক্যামেরনের পর আসেন কনজার্ভেটিভ পার্টিরই টেরিজা মে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সুগম পথ তৈরি করবেন, তবে সংসদের সমর্থন হারান এবং পদত্যাগ করেন ২০১৯ সালে।
টেরিজা মে’র পর আসেন তুমুল আলোচিত বরিস জনসন। বরিস জনসন ক্ষমতায় এসেই কোভিড মহামারির মুখোমুখি হন। এই সময়ে তিনি নানা কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হন।
বরিস জনসনের পর ক্ষমতায় আসেন লিজ ট্রাস, যিনি ৪৫ দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন এবং হেরে গিয়েছিলেন ডেইলি স্টারের সেই লেটুসের কাছে। লিজ ট্রাস মূলত একটি ‘মিনি-বাজেট’ ঘোষণা করেন যার ফলে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কমে যায়, এবং সাথে সাথেই তিনি নিজের পার্টির আস্থা হারান।
এরপর আসেন আরেকটি তুমুল পরিচিত নাম, ঋষি সুনাক। ঋষি ২০২২ সালে ব্রিটেনের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৬ সাল থেকে কনজার্ভেটিভ পার্টির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। ঋষি সুনাক ক্ষমতায় এসেই পান আগের আমলগুলো থেকে আসা অর্থনৈতিক সংকট এবং উঠতি জীবনযাত্রার ব্যয়।
২০২৪ সালেই নির্বাচন ঘোষণা করেন ঋষি সুনাক। নির্বাচনে হারেন ঋষি সুনাক, ক্ষমতায় আসেন কিয়ার স্টারমার। লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় এসে কনজার্ভেটিভ পার্টির টানা শাসনের ধারা ভাঙেন।
লেবার পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যে “ঐক্য ও আশাভিত্তিক নতুন রাজনীতি” গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন।
একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি অংশ ম্যানচেস্টারে স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, তিনি ভালো আছেন, প্রস্তুত আছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবশেষ এই ভাষণের মাধ্যমে বার্নহ্যাম সবার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ভাষণে তার দল লেবার পার্টি নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দল থেকে ছোট ছোট গ্রুপ কালচার বাদ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু তার আগেও অনেক নেতা এই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দুই চ্যালেঞ্জর সামনে দাড়িয়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
যুক্তরাজ্যেও ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, কে এই ‘কিং অব দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
ক্ষমতায় এসে গত চার দশকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারা বদলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পর এবার যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কণ্ঠেও শোনা গেলো ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। ক্ষমতায় আসার আগে দুজনই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন একটি ‘পরিকল্পনার’ প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, “আমার একটি পরিকল্পনা আছে (আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান)। আমি কী বিশ্বাস করি এবং এই দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, তা আমি জানি।”
ক্ষমতায় এসে গত চার দশকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারা বদলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার লেবার পার্টির এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, নির্বাচিত লেবার প্রতিনিধি হিসেবে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা তাকে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কী করতে চাই। আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আর আমি চাই, আপনারা এটাও জানুন যে আমি বদলাবো না।”
বার্নহ্যাম বলেন, তার নিজস্ব নেতৃত্বের ধরন রয়েছে এবং তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকবেন।
“আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি, মানুষের কাছাকাছি থাকব। আশা করি, নতুন মৌসুম শুরু হলেও তখনও আমার সিজন টিকিট নিয়েই মাঠে থাকব।”
ভাষণে তিনি বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে প্রভাব রাখা নব্য উদারনৈতিক (নিওলিবারেল) অর্থনীতি ক্ষতি করেছে শহর, গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রথামগত শ্রমজীবী মানুষদের। তার সরকার সেই ধারা বদলে নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেবে।
তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে “গত ৪০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।”
এ ছাড়া লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং লন্ডনের বাইরে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দেন বার্নহ্যাম। তবে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান তিনি।
বার্নহ্যাম আরও বলেন, তিনি লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করতে চান এবং সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করবেন। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
গত বছরের ২৫এ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশে তারেক রহমানও বলেছিলেন, “উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি “আই হ্যাভ আ প্ল্যান” বললেও পরে সেটিকে “উই হ্যাভ আ প্ল্যান”-এ রূপ দেন।
তিনি জানান, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার দলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তাঁর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।”
দুই নেতাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দেওয়া ভাষণে এভাবে প্ল্যানের (পরিকল্পনা) কথা বললেন। আগামী সোমবার ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি।
কে এই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মুখ নন। প্রায় আড়াই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসছেন। সাবেক সাংবাদিক, মন্ত্রী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি।
এক দশক আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। তখন তার লক্ষ্য ছিল গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়া। সফলও হয়েছিলেন। তাকে বলা হতো ‘কিং অব দ্য নর্থ’।
ম্যানচেস্টার শহর উত্তরে হওয়ায় তাকে এই নামে ডাকা হতো। শব্দটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জন স্নোকে বলা হতো। তাই আগে থেকেই বেশ পরিচিত নাম তিনি।
তবে ব্রিটেনে গত এক দশকে সাতবার বদল হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পদ। তাই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কতদিন টিকতে পারবেন সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ির স্টারমারের হঠাৎ পদত্যাগের কারণে সুযোগ আসে বার্নহ্যামের সামনে। সোমবার ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে।
ম্যানচেস্টারের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা জোসি হারনান বলেছেন, “লেবার আন্দোলনের অনেকে এবং ব্রিটেনের অনেক সাধারণ মানুষই মনে করেন বার্নহ্যাম যে আদর্শের নেতৃত্ব দেন, লেবার পার্টি ও দেশ আসলে সেভাবেই পরিচালনা করা উচিত।”
“তাকে নিয়ে সাধারণ ব্রিটিশদের প্রত্যাশা অনেক”- বলেন জোসি হারম্যান।
ম্যানচেস্টারে সুপরিচিত হলেও বার্নহ্যামের জন্ম লিভারপুলে। ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করা বার্নহ্যাম মধ্যবিত্ত ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ টেলিকমের প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। পরিবারের প্রথম প্রজন্ম হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান এবং যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন।
স্নাতক শেষ করে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন বার্নহ্যাম। পরে লেবার পার্টির রাজনীতিকদের গবেষক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ২০০১ সালে ম্যানচেস্টারের লেই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
লেবার সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের অধীনে ট্রেজারির প্রধান সচিব, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় পাননি। এরপর ২০১৭ সালে সংসদ ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে গণপরিবহন, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা পায়। ব্যবসাবান্ধব সমাজতান্ত্রিক নীতির কারণে তার উন্নয়ন মডেল ‘ম্যানচেস্টারিজম’ নামে পরিচিতি পায়।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ‘লন্ডনকেন্দ্রিক’ নীতির তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় আলোচনায় আসেন বার্নহ্যাম।
উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকার কারণেই তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিতি পান।
ম্যানচেস্টারে মেয়র থাকার সময় স্যুট-টাই না পরে জিন্স আর টি-শার্ট পরে কাজ করেছেন তিনি। অবসরে ফুটবল খেলেছেন। ডিজে ব্যাটেলে নব্বই দশকের গান বাজিয়েছেন।
বার্নহ্যামের সাবেক শিক্ষক স্টিফেন হ্যারিংটন বলেন, “বার্নহ্যাম নিজেকে শ্রমজীবী মনে করতো। তাই কেমব্রিজেও পড়তে যেতে চায়নি। নিজের ওপর তার কোনো বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু যখন সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলো, তার ইতিহাস তৈরি হলো।”
কতদিন থাকতে পারবেন অ্যান্ডি
ব্রিটেনের রাজনীতিতে সম্প্রতি স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীত্বের ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালে মার্গারেট থ্যাচারের আগমনের পর থেকে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট পর্যন্ত ৩৭ বছরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন পাঁচজন। আর ২০১৬ সালে ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছরেই পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে ব্রিটেন।
গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা গেছে চারজনকে, যাদের মধ্যে তিনজন ক্ষমতায় আসেন দুই মাসের ব্যবধানে। যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনের এই অস্থিতিশীলতা শুরু খুঁজতে গেলে যেতে হবে ২০১৬ সালে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। ঐতিহাসিক গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় ব্রেক্সিটের, যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকবে না।
তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার বিপক্ষে এবং গণরায় ব্রেক্সিটের পক্ষে যাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। ক্যামেরনের পর আসেন কনজার্ভেটিভ পার্টিরই টেরিজা মে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সুগম পথ তৈরি করবেন, তবে সংসদের সমর্থন হারান এবং পদত্যাগ করেন ২০১৯ সালে।
টেরিজা মে’র পর আসেন তুমুল আলোচিত বরিস জনসন। বরিস জনসন ক্ষমতায় এসেই কোভিড মহামারির মুখোমুখি হন। এই সময়ে তিনি নানা কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হন।
বরিস জনসনের পর ক্ষমতায় আসেন লিজ ট্রাস, যিনি ৪৫ দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন এবং হেরে গিয়েছিলেন ডেইলি স্টারের সেই লেটুসের কাছে। লিজ ট্রাস মূলত একটি ‘মিনি-বাজেট’ ঘোষণা করেন যার ফলে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কমে যায়, এবং সাথে সাথেই তিনি নিজের পার্টির আস্থা হারান।
এরপর আসেন আরেকটি তুমুল পরিচিত নাম, ঋষি সুনাক। ঋষি ২০২২ সালে ব্রিটেনের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৬ সাল থেকে কনজার্ভেটিভ পার্টির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। ঋষি সুনাক ক্ষমতায় এসেই পান আগের আমলগুলো থেকে আসা অর্থনৈতিক সংকট এবং উঠতি জীবনযাত্রার ব্যয়।
২০২৪ সালেই নির্বাচন ঘোষণা করেন ঋষি সুনাক। নির্বাচনে হারেন ঋষি সুনাক, ক্ষমতায় আসেন কিয়ার স্টারমার। লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতায় এসে কনজার্ভেটিভ পার্টির টানা শাসনের ধারা ভাঙেন।
লেবার পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যে “ঐক্য ও আশাভিত্তিক নতুন রাজনীতি” গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন।
একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি অংশ ম্যানচেস্টারে স্থানান্তর করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, তিনি ভালো আছেন, প্রস্তুত আছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবশেষ এই ভাষণের মাধ্যমে বার্নহ্যাম সবার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ভাষণে তার দল লেবার পার্টি নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দল থেকে ছোট ছোট গ্রুপ কালচার বাদ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু তার আগেও অনেক নেতা এই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দুই চ্যালেঞ্জর সামনে দাড়িয়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বিষয়: