২৫ বছর পেরিয়েও কেন বিচার হয়নি নাইন-ইলেভেন পরিকল্পনাকারীর

স্মরণকালের ভয়াবহ এক হামলা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সুউচ্চ দালান ধসিয়ে দিয়ে প্রাণ নিয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষের। কথিত মূল পরিকল্পনাকারীকে পাকড়াও করতে বেশি সময় নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারপর ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ বিচারের কাজ আজও শুরু করা যায়নি। কেন?

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ এএম

অপরাধী নিজেই অপরাধ স্বীকার করে নিতে রাজি। কিন্তু সরকার রাজি হচ্ছে না। শুনতে একটু উদ্ভট লাগছে? এবারে যদি বলি, এই অপরাধী প্রায় ৩ হাজার মানুষকে হত্যার মূল হোতা? তারপর যদি বলি, খোদ মার্কিন সরকারই তাকে দোষ স্বীকারের সুযোগ দেয়নি আজও? আর এই বিচার ঝুলে আছে ২৫ বছর ধরে?

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর। গোটা বিশ্বের ইতিহাস বদলে দেওয়া একটা সকাল। প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। এই হামলার পরিকল্পনার মূল হোতা বলে যাকে মার্কিন সরকার নিজেই চিহ্নিত করেছে, সেই খালিদ শেখ মোহাম্মদ এখনো আদালতে চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হননি। বন্দি আছেন কিউবার গুয়ান্তানামো বে কারাগারে।

খালিদকে আটকে ফেলার একটা সুযোগ এক এফবিআই এজেন্ট পেয়েছিলেন নব্বইয়ের দশকেই। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতাতেই সেটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ফ্র্যাংক পেল্লেগ্রিনো নামের সেই এজেন্ট বিবিসির এক প্রতিবেদনে এটিও জানিয়েছেন, সে সময় খালিদ শেখ মোহাম্মদ এতটা বড়মাপের অপরাধী হয়ে উঠবেন, সেটি কেউ ধারণা করতে পারেননি।   

কিছুদিন আগে নতুন এক বিচারক জানিয়েছেন, আরও বছর দুয়েক পর পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হবে। কাগজে কলমে, ২০২৮ সালের ৫ই জুন তারিখ ঘোষণা করেছেন তিনি। হিসেব মেলালে ২৭ বছর। প্রশ্নটা আসতেই পারে, কেন এত বছর পেরিয়ে গেলেও আজও পুরোপুরি বিচারের মুখে আনা যায়নি খালিদকে? আর যেখানে এতটা সময় লেগে গেছে, আগামীতেও কি এই বিচার ঠিকঠাক করা যাবে?

সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সকালে, আল-কায়েদার ঊনিশ জন জঙ্গি চারটি যাত্রীবাহী বিমান একসাথে ছিনতাই করে। পরিকল্পনাটি ছিলো সমন্বিত, নিখুঁতভাবে সাজানো।

সকাল আটটা ছেচল্লিশ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। মাত্র সতেরো মিনিট পর, সকাল নয়টা তিন মিনিটে, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করে। গোটা বিশ্ব তখন সরাসরি টেলিভিশনে এই দ্বিতীয় হামলা দেখেছিলো।

এরপর সকাল নয়টা সাঁইত্রিশ মিনিটে তৃতীয় বিমান, ফ্লাইট ৭৭, আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে। চতুর্থ বিমান, ফ্লাইট ৯৩, সম্ভবত ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিল বা হোয়াইট হাউস লক্ষ্য করে যাচ্ছিলো, কিন্তু বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন, এবং বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

সকাল নয়টা উনষাট মিনিটে দক্ষিণ টাওয়ার ধসে পড়ে, আর সকাল দশটা আটাশ মিনিটে উত্তর টাওয়ারও ধসে পড়ে। মোট প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ প্রাণ হারান। বিমানের যাত্রী, টাওয়ারের কর্মী, উদ্ধারকর্মী, ফায়ার ফাইটার, পুলিশ সদস্য; সবাই মিলিয়ে।

এই হামলার পেছনে ছিলো আল-কায়েদা, ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন জঙ্গি সংগঠন। আর যাকে এই পুরো অপারেশনের মূল স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তিনিই খালিদ শেখ মোহাম্মদ।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ‘কেএসএম’ নামেই যার পরিচয়

১৯৬৫ সালে কুয়েতে জন্ম নেওয়া কেএসএম যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ওসামা বিন লাদেনের সাথে পরিচিত হন। কেএসএম-এর মাথায় তখন থেকেই প্ল্যান ছিলো, কমার্শিয়াল প্লেন ছিনতাই করে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানা। ১৯৯৬ সালে তিনি এই পরিকল্পনা বিন লাদেনের কাছে পেশ করেন। তারপর এক সময় বিন লাদেন অর্থ ও জনবল দিয়ে মিশন বাস্তবায়নের জন্য সবুজ সংকেত দেন।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। হামলার পর কেএসএম মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় শীর্ষ স্থানে চলে আসেন। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সিআইএ ও পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন খালিদ শেখ মোহাম্মদ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর তাকে সরাসরি আদালতে না নিয়ে গিয়ে সিআইএ-র গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়, যেগুলো "ব্ল্যাক সাইট" নামে পরিচিত। প্রায় তিন বছর তাকে এসব গোপন কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। ২০০৬ সালে তাকে কিউবার গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটির কারাগারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি আজও বন্দি। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও অন্যান্য গোপন ঘাঁটিতে সিআইএ-র হেফাজতে ছিলেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই ৩ বছরে তথ্য সংগ্রহ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তার ওপর কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি চালানো হয়। এগুলো মূলত চরম মাত্রার নির্যাতন বা টর্চার। তথ্য অনুযায়ী, কেবল খালিদ শেখ মোহাম্মদকেই ১৮৩ বার ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ করা হয়েছিল। ওয়াটারবোর্ডিং হলো এমন এক নির্যাতন পদ্ধতি যেখানে ব্যক্তির মুখে কাপড় দিয়ে পানি ঢেলে কৃত্রিমভাবে পানিতে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করা হয়। এছাড়া ঘুমাতে না দেওয়া, নগ্ন করে রাখা, চরম ঠাণ্ডা বা গরম পরিবেশে আটকে রাখা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছিল দৈনন্দিন ঘটনা।

২০০৬ সালে খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন হাই-প্রোফাইল বন্দিকে কিউবার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘গুয়ান্তানামো বে’-তে স্থানান্তর করা হয়।

আমেরিকান মিলিটারি খালিদকে বিচারে সোপর্দ করতে গিয়েই প্রথম বড় আইনি ধাক্কাটি খায়।  কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা কোনো জবানবন্দি বা স্বীকারোক্তি সাধারণ আদালতে বা মিলিটারি কমিশনে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। সিআইএ যেভাবে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে তথ্য আদায় করেছিলো, তা বিচারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আইনি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি সাধারণ আদালতে বিচার চলতো, সেক্ষেত্রে খালিদের আইনজীবী দল নির্যাতনের বিষয়টিকে সামনে এনে পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে চাইলেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারতো। ফলে বিচার আটকে থাকে বছরের পর বছর। তবে খালিদ এবং তার সাথে ধরা পড়া আরও কয়েকজন এখনো গুয়ান্তানামোতেই আটকা আছেন।

গুয়ান্তানামো সামরিক আদালতের দীর্ঘসূত্রতা

সাধারণ অপরাধীদের মতো খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ফেডারেল আদালতে হচ্ছে না। তার বিচার চলছে একটি বিশেষ ব্যবস্থায়, "মিলিটারি কমিশন" বা সামরিক আদালতে। এটি মূলত যুদ্ধবন্দি বা বিদেশি সন্ত্রাসী অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তিটা খুবই সহজ। ফেডারেল আদালতে বিচার করলে অভিযুক্তদের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত অনেক সুরক্ষার সুযোগ থাকে। এটাই সরকার এড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু এই বিশেষ ব্যবস্থা মামলাটিকে আরও আইনি জটিলতার দিকে নিয়ে যায়।

গত দুই দশকে এই মামলা বারবার পিছিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলেছে শুনানি, পাল্টা শুনানি, আপিল। প্রশ্ন বারেবারে ঘুরে ফিরে এসেছে, কোন প্রমাণ ব্যবহার করা যাবে, আর কোনটা যাবে না। বিচারক বদল হয়েছে, আইনজীবী বদল হয়েছে, এমনকি বিচার প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এই অবস্থায় একটা পরিবর্তন আসে ২০২৪ সালে।

২০২৪ সালের প্লি ডিল এবং তার নাটকীয় প্রত্যাহার

২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটা বড় খবর আসে। মার্কিন সামরিক প্রসিকিউটররা খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার দুই সহ-অভিযুক্ত; ওয়ালিদ বিন আত্তাশ এবং মুস্তফা আল-হাওসাউই এর সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছান।

চুক্তির শর্ত ছিলো সহজ। তিনজনই সব অভিযোগে দোষ স্বীকার করবেন, বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা বাতিল করা হবে। এর বদলে তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করবেন গুয়ান্তানামোতেই। তবে এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকার নিহতদের পরিবারের কাছে জানালে সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ৯/১১-এ স্বজন হারানো অনেক পরিবার এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের বক্তব্য, হামলার জন্য দায়ীদের পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়া শুধু যাবজ্জীবন সাজা যথেষ্ট নয়। রিপাবলিকান নেতাদের পক্ষ থেকেও কড়া সমালোচনা আসে।

এই চাপের মুখে, চুক্তি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায়, তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন নিজেই এই চুক্তি প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু বিষয়টা এখানেই শেষ হয়নি। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে চুক্তি একবার সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর তা একতরফাভাবে বাতিল করার এখতিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেই। এ নিয়ে শুরু হয় নতুন আইনি লড়াই। একটি সামরিক আপিল আদালত প্রথমে রায় দেয় যে অস্টিনের এই চুক্তি প্রত্যাহারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু এরপর মামলাটি যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালতে।

২০২৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসি-র একটি বিভক্ত ফেডারেল আপিল আদালত শেষ পর্যন্ত রায় দেয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হিসেবে অস্টিনের ওই চুক্তি প্রত্যাহারের এখতিয়ার ছিলো। অর্থাৎ, প্লি ডিল কার্যকরভাবে বাতিলই থেকে যায়।

এভাবেই, খালিদ শেখ মোহাম্মদ নিজে দোষ স্বীকার করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চাইলেও, সেই পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। মামলা আবারও ফিরে যায় দীর্ঘ, জটিল পূর্ণাঙ্গ বিচারের পথে।

২০২৬ সালের অগাস্টে একজন সামরিক বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল স্ক্রামা অবশেষে চূড়ান্ত বিচারের তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউটররা চেয়েছিলেন ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই বিচার শুরু হোক। তবে বিচারক জানান, এত অল্প সময়ে পূর্ববর্তী সমস্ত আইনি বিতর্ক ও প্রমাণ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়, পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ই জুন, অর্থাৎ হামলার প্রায় সাতাশ বছর পর।

এরপর কী হতে পারে?

এখন প্রশ্ন হলো, সামনে কী অপেক্ষা করছে?

প্রথমত, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৮ সালের ৫ই জুন যদি সত্যিই বিচার শুরু হয়, তাহলে প্রথমে সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত জুরি নির্বাচন করা হবে। এর ত্রিশ দিন পর শুরু হবে উদ্বোধনী বক্তব্য। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য শেষ হওয়ার ষাট দিন পর আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে। সবশেষে থাকবে সাজা নির্ধারণী পর্যায়।

কিন্তু এখানে একটা বড় বাস্তবতা মাথায় রাখা দরকার। এই মামলায় অতীতে বারবার নির্ধারিত তারিখ পিছিয়েছে। ফলে ২০২৮ সালের তারিখও চূড়ান্ত, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। এখনো একাধিক বিষয়ে পূর্ববর্তী আপিল ও শুনানি বাকি আছে, যেগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিচার আদৌ নির্ধারিত দিনেই শুরু হবে কি না।

এরপর থাকছে সেই পুরোনো জটিলতা। নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা প্রমাণ দিয়ে কাজ হবে না। কাজেই অভিযোগ প্রমাণ করাতে চাইলে অন্য রাস্তায় হাঁটতে হবে তাদের। এটা তাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ মূল স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যগুলোর একটা অংশ আদালতে ব্যবহারযোগ্য থাকছে না।

সবশেষে থাকছে চূড়ান্ত এক প্রশ্ন। মৃত্যুদণ্ড। বিচার শেষে যদি খালিদ শেখ মোহাম্মদ দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। আর মৃত্যুদণ্ড হলে তার বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া আরও বহু বছর ধরে চলতে পারে।

নাইন ইলেভেনের সেই ঘটনার সময় অনেক পরিবার তাদের আপনজন হারিয়েছে। সেই হামলার পর থেকে অনেকেই অপেক্ষা করেছেন যে স্বজনের মৃত্যুর বিচার দেখবেন। তবে তার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এখনো আশা করে বসে আছেন অনেকে। এদিকে বন্দী খালিদেরও বয়স হয়েছে, বা তার সঙ্গীসাথীদেরও। প্রশ্ন আসতেই পারে, শেষটায় কি পুরোপুরি বিচার হওয়া পর্যন্ত টিকবে তারা? ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়নি, আর পরিণতিটা এখনো চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।