বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ পিএমআপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
সংসদে প্রশ্নের জবাবে কথা বলছেন ছবি: বাসস
বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশসমূহে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্যান্য দেশে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকেও শ্রমবাজার সন্ধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী পাঠানোর হার বাড়াতে জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া, জাপানিজসহ রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
অপর এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে বিভিন্ন পেশায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশিদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দূতাবাসগুলোকে। তিনি বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
আরও বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি 'পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি' শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ এবং চলমান 'চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি'র আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পঞ্চম কর্মসূচি শুরু হলে বাকিদেরও ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।
সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম থেকে সম্ভাব্য অর্জনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, ‘পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা-আনোয়ারা সমুদ্র সৈকতের মৌলিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাতটি উপজেলা (গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী) নিয়ে ‘পায়রা-কুয়াকাটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান ফোকাসিং অন ইকো-টুরিজম’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমানে ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বুধবার সংসদে সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার 'উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫' প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশসমূহে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডেও কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্যান্য দেশে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকেও শ্রমবাজার সন্ধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী পাঠানোর হার বাড়াতে জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া, জাপানিজসহ রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
অপর এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে বিভিন্ন পেশায় যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশিদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দূতাবাসগুলোকে। তিনি বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
আরও বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি 'পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি' শুরু হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ এবং চলমান 'চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি'র আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পঞ্চম কর্মসূচি শুরু হলে বাকিদেরও ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি।
সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম থেকে সম্ভাব্য অর্জনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, ‘পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা-আনোয়ারা সমুদ্র সৈকতের মৌলিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাতটি উপজেলা (গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী) নিয়ে ‘পায়রা-কুয়াকাটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান ফোকাসিং অন ইকো-টুরিজম’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমানে ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বুধবার সংসদে সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার 'উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫' প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
সূত্র: বাসস