আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি: নিখোঁজ ২৫০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

আন্দামান সাগরে একটি ট্রলার ডুবে অন্তত শিশুসহ প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।  জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি প্রবল বাতাস, উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ডুবে যায়।

নৌকাটি ঠিক কবে ডুবে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী একটি জাহাজ সাগরে ভাসতে থাকা ৯ জনকে উদ্ধার করে। 

ড্রাম ও কাঠের টুকরা আঁকড়ে ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন তারা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের ভয়াবহ দমন-পীড়নের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশে শরণার্থীশিবিরে কঠিন জীবন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট, গাদাগাদি ও অনিরাপদ নৌযানে করে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। 
বিবিসি জানায়, মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় অনেকের কাছে মালয়েশিয়া তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়ার আগে তিনি প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন।

তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া নৌযান থেকে ছড়িয়ে পড়া তেলে তার শরীর পুড়ে যায়।

৪০ বছর বয়সী রফিকুল জানান, মালয়েশিয়ায় চাকরির আশায় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।  

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন  (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান না থাকার ভয়াবহ পরিণতির প্রতিফলন।

সংস্থাগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশা আরও ক্ষীণ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং শরণার্থীশিবিরে কঠিন জীবনযাপন তাদের নিরাপত্তা ও ভালো জীবনের খোঁজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা শরণার্থী এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, “মানুষ লড়াইয়ে মরছে, ক্ষুধায় মরছে। তাই কেউ কেউ মনে করেন, এখানে ধীরে ধীরে মরার চেয়ে সাগরে মরে যাওয়াই ভালো।”

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা সেই নৌযান সাধারণত ছোট ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুবিধাও থাকে না। অনেক নৌকাই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। কেউ সাগরেই মারা যান, আবার কেউ গন্তব্যের কাছাকাছি গিয়ে আটক বা ফেরত পাঠানোর শিকার হন।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরও অনেক রোহিঙ্গাকে কখনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কখনো উপকূলীয় জনপদ ফিরিয়ে দিয়েছে। 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া প্রায় ৩০০ শরণার্থী বহনকারী দুটি নৌকা খাদ্য ও পানি দেওয়ার পর ফিরিয়ে দেয়।

মঙ্গলবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

তারা বলেছে, বাংলাদেশ যখন নতুন বছর উদযাপন করছে, তখন এই ট্র্যাজেডি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।