বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার থাকবে না, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ‘সব কিছুকে মব বলা ঠিক হবে না। কিছু আছে সংঘটিত, পরিকল্পিত অপরাধ। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তদন্ত হয়, গ্রেফতার হয় এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। কিন্তু স্পষ্ট উচ্চারণ আমরা করেছি দায়িত্ব নেয়ার পরে- বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না।‘

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিগত সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কপাল এমন যে, মরার উপর খাড়ার ঘা সবসময়ই থাকে। দীর্ঘ ১৫ বছর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন, নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলা, অসুস্থ করে দেওয়া- এই কালচার ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা দেখলাম মব কালচার।‘
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, মব কালচারের শিকার হয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এমনকি আমি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারি এর ভুক্তভোগী। এই কালচার বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে ডেফিনেশন আলাদা করতে হবে। গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে থানায় গিয়ে হামলা, সেটা কি মব হবে? নাকি ২১ ফেব্রুয়ারিতে মাননীয় সদস্যের উপরে হামলা হয়েছে সেটা কি মব হবে? নাকি উত্তরা একটা বিজনেস সেন্টার উত্তরা স্কয়ার (সম্ভবত নাম), সেখানে ঘেরাও করে দোকানপাট ভঙ্গ করেছে, সেটা কি মব হবে? সবকিছুকে মব বলা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়ক-সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের যে প্রবণতা ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় দেখা গিয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে সেই গভর্নমেন্টের দুর্বলতার কারণে ইন্সপায়ারড হয়েছে। সেটাকে আমরা আর কখনো এলাউ করবো না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি থাকবে, সেই দাবির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে, মন্ত্রণালয়ের কাছে ডিপার্টমেন্টের কাছে অবশ্যই দাবিনামা স্বারকলিপি দেয়া যাবে। সেজন্য জনমত সৃষ্টির জন্য সেমিনার সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। প্রয়োজনে সেটা একটা জনসমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।