গণমাধ্যমের ওপর হামলা সরকারের ব্যর্থতার পরিণতি: জাতিসংঘের বিশেষ দূত

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম

ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও ছায়ানটসহ একাধিক গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে সহিংস হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত আইরিন খান।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত বিবৃতিতে বলেছেন, এসব ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি। এর দ্রুত, কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

গুলিতে ওসমান হাদির নিহত হওয়ার ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

জেনেভা থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে আইরিন খান বলেন, জনরোষকে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেকোনও সময়েই বিপজ্জনক, তবে নির্বাচন সামনে থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুর কণ্ঠ এবং ভিন্নমত দমিয়ে দিতে পারে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে গণতন্ত্রের ওপর।

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ভাষায়, এই হামলাগুলো হঠাৎ করে ঘটেনি, বরং দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে মত প্রকাশ ও শিল্পী সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ব্যর্থতারই পরিণতি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত এক বছরে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের চাপের মুখে পড়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর অনেক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা, সন্ত্রাসসহ গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে ইচ্ছামতো আটক রাখা হয়েছে।

আইরিন খান আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কার্টুনিস্ট, ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নারী অধিকারকর্মীরা অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর হুমকি, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও সহিংসতার মুখে পড়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘হেইট স্পিচ’ ও অপপ্রচার, অনলাইনে ও অফলাইনে ছড়ালেও সরকার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যখন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তখন তা বাস্তব সহিংসতায় রূপ নেয়।

নির্বাচনের আগে সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন আইরিন খান।

তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি সত্যিই নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চায়, তাহলে মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ দূত বাংলাদেশ সরকারের সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন।