জেলেনস্কির খোলা চিঠির পর শান্তিচুক্তিতে প্রস্তুতির ইঙ্গিত পুতিনের

সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগের কিছু অংশে আপস করতে প্রস্তুত মস্কো। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কিয়িভকেও নমনীয়তা দেখাতে হবে।

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে খোলা চিঠি দেওয়ার পর শান্তিচুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে মস্কো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগের কিছু অংশে আপস করতে প্রস্তুত মস্কো। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কিয়িভকেও নমনীয়তা দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত।”

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেন। সেখানে তিনি সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপের এই যুদ্ধ আবার আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভুল হবে। তার মতে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

জেলেনস্কি চিঠিতে লেখেন, “ইউক্রেন আমাদের অর্থাৎ আপনার এবং আমার সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে উভয় দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করার সময় এসেছে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পুতিন জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্বে আলোচিত কিছু আপসের ভিত্তিতে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তবে তার দাবি, ইউক্রেনকেও সেই আপস মেনে নিতে হবে।

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করতে হবে।

তবে কিয়িভ এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

পুতিন দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসনের পথ তৈরি করবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি তাদের দেখা করাটা দারুণ হবে। তাদের দেখা করা উচিত।”

তবে তিনি উভয় পক্ষকে কী ধরনের ছাড় দিতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কির চিঠি তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি পুতিনকে জানানো হবে।

যদিও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, তারপরও জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব এবং পুতিনের শান্তিচুক্তিতে প্রস্তুতির ইঙ্গিত নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতি, ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।