গত করবর্ষ অর্থাৎ ২০২৪-২৫এ ১ কোটি ১৪ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে রিটার্ন দিয়েছিল ৪০ লাখ।
এবার ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। যদিও দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ।
আগের বছরের তুলনায় টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন জমা পড়ার হার কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। আর ৬৬ শতাংশ করদাতাই রিটার্ন দাখিল করেনি।
তবে এরমধ্যে আশার বিষয় দেখছেণ সংশ্লিষ্টরা। সেটা হলো- গত করবর্ষের চেয়ে এ বছর রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ বেড়েছে আড়াই লাখের বেশি, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে- এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, করের আওতা বাড়াতে এখন থেকে সারা বছরই অনলাইনে ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়া যাবে।
“প্রথম প্রান্তিকে যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। যারা দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দেবেন তাদের নিয়মিত করদাতার হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যারা তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে আয়কর রিটার্ন দেবেন তাদের জন্য বাড়তি কর দেওয়ার বিধান করা হবে,” বলেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
বাড়ছে রিটার্ন তবে
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন মাত্র সাড়ে ১৮ লাখ। তখন টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ।
এর পরের বছরে ৯০ লাখেল বিপরীতে ২৮ লাখ এবং ২০২৩-২৪ করবর্ষে ১ কোটি ৫ লাখের বিপরীতে কর দেয় ৪৯ লাখ।
শেষ তিন বছরে টিআইএন ও রিটার্ন বাড়ার পেছনে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ হওয়ায় হয়রানি কমে যাওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
এছাড়া অনেক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নের জমা দেওয়ার কপি দেখানো বাধ্যতামূলক করাটাও বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি।
“অনলাইনে রিটার্নের অনেক সুবিধা রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডিজিটাল রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও জটিল কর আইন এবং ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা এখনও অনেকের সমস্যা,” বলেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
এই প্রক্রিয়া আরেকটু সহজ করা গেলে রিটার্ন আরও বেড়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, আয়কর খাত ডিজিটালাইজেশনে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, “২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শতভাগ অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যারা কাগজে রিটার্ন দিচ্ছেন, তাদের তথ্যও ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অডিট ও বিশ্লেষণ সহজ হয়।”
চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়া অনেক সহজ থাকাকেও প্রধান কারন বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আল-আমিন শেখ আলাপ-কে বলেন, “এ বছর কাগজপত্র বা দলিল আপলোড না করে করদাতারা তাদের আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই রিটার্ন দিতে পেরেছেন। যার কারণে রিটার্ন জমা দেওয়ায় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”
আরও যা করা যেতে পারে
রিটার্ন ও টিআইনধারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও কর আদায় বাড়াতে সরকারের আরও কাজ করার সুযোগ আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও করদাতাদের মূল্যায়ন জরুরি বলই মনে করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
“আমাদের এমন একটি কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন, যেখানে করদাতাদের নিছক আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে দেশ গড়ার অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।”
এ জন্য রাজস্ব কাঠামো আধুনিকায়নে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তর, কাঠামোগত সংস্কার এবং করজাল ও করভিত্তির সংস্কার জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশে অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন (e-Return) ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। যা চলতি অর্থ বছরে এসে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।
তিন দফা বাড়ানোর পর মঙ্গলবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে চলতি এই করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনবিআর সূত্র।
নতুন করে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে এনবিআর থেকে।
তবে যে সব করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন, তাদের সময় বাড়ানো হচ্ছে।
করদাতারা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এ জন্য ৩১ মার্চের মধ্যে করদাতারা এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
অনলাইনে জমা দেওয়া করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তিনি জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
বাংলাদেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়লেও যতক্ষণ না তারা নিয়মিত রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, ততক্ষণ রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসবে না বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইনে জমা বাড়লেও কমেছে রিটার্ন দাখিলের হার
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হলো মঙ্গলবার। কিন্তু সময় বাড়ানো যাবে আরও ৯০ দিন। তবে এ জন্য করতে হবে আবেদন।
অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরও কমেছে আয়কর রিটার্ন দাখিলের হার।
গত করবর্ষ অর্থাৎ ২০২৪-২৫এ ১ কোটি ১৪ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে রিটার্ন দিয়েছিল ৪০ লাখ।
এবার ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। যদিও দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ।
আগের বছরের তুলনায় টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন জমা পড়ার হার কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। আর ৬৬ শতাংশ করদাতাই রিটার্ন দাখিল করেনি।
তবে এরমধ্যে আশার বিষয় দেখছেণ সংশ্লিষ্টরা। সেটা হলো- গত করবর্ষের চেয়ে এ বছর রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ বেড়েছে আড়াই লাখের বেশি, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে- এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, করের আওতা বাড়াতে এখন থেকে সারা বছরই অনলাইনে ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়া যাবে।
“প্রথম প্রান্তিকে যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। যারা দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দেবেন তাদের নিয়মিত করদাতার হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যারা তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে আয়কর রিটার্ন দেবেন তাদের জন্য বাড়তি কর দেওয়ার বিধান করা হবে,” বলেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
বাড়ছে রিটার্ন তবে
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন মাত্র সাড়ে ১৮ লাখ। তখন টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ।
এর পরের বছরে ৯০ লাখেল বিপরীতে ২৮ লাখ এবং ২০২৩-২৪ করবর্ষে ১ কোটি ৫ লাখের বিপরীতে কর দেয় ৪৯ লাখ।
শেষ তিন বছরে টিআইএন ও রিটার্ন বাড়ার পেছনে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ হওয়ায় হয়রানি কমে যাওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
এছাড়া অনেক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নের জমা দেওয়ার কপি দেখানো বাধ্যতামূলক করাটাও বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি।
“অনলাইনে রিটার্নের অনেক সুবিধা রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডিজিটাল রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও জটিল কর আইন এবং ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা এখনও অনেকের সমস্যা,” বলেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
এই প্রক্রিয়া আরেকটু সহজ করা গেলে রিটার্ন আরও বেড়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, আয়কর খাত ডিজিটালাইজেশনে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, “২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শতভাগ অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যারা কাগজে রিটার্ন দিচ্ছেন, তাদের তথ্যও ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অডিট ও বিশ্লেষণ সহজ হয়।”
চলতি করবর্ষের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়া অনেক সহজ থাকাকেও প্রধান কারন বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আল-আমিন শেখ আলাপ-কে বলেন, “এ বছর কাগজপত্র বা দলিল আপলোড না করে করদাতারা তাদের আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই রিটার্ন দিতে পেরেছেন। যার কারণে রিটার্ন জমা দেওয়ায় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”
আরও যা করা যেতে পারে
রিটার্ন ও টিআইনধারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও কর আদায় বাড়াতে সরকারের আরও কাজ করার সুযোগ আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও করদাতাদের মূল্যায়ন জরুরি বলই মনে করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
“আমাদের এমন একটি কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন, যেখানে করদাতাদের নিছক আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে দেশ গড়ার অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।”
এ জন্য রাজস্ব কাঠামো আধুনিকায়নে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তর, কাঠামোগত সংস্কার এবং করজাল ও করভিত্তির সংস্কার জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশে অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন (e-Return) ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। যা চলতি অর্থ বছরে এসে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।
সময় বাড়ানোর আবেদন যেভাবে
তিন দফা বাড়ানোর পর মঙ্গলবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে চলতি এই করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনবিআর সূত্র।
নতুন করে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে এনবিআর থেকে।
তবে যে সব করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন, তাদের সময় বাড়ানো হচ্ছে।
করদাতারা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এ জন্য ৩১ মার্চের মধ্যে করদাতারা এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।
অনলাইনে জমা দেওয়া করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তিনি জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
বাংলাদেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়লেও যতক্ষণ না তারা নিয়মিত রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, ততক্ষণ রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসবে না বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়: