প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএমআপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
কেউ হয়তো লেখাপড়ার পাশাপাশি আয় করছেন। কিংবা নতুন চাকরি শুরু করেছেন। মাস শেষে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে বা প্রয়োজনের সময় কেনাকাটা বা বিভিন্ন বিলও পরিশোধ করতে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেশ কাজে আসতে পারে।
কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, কোথায় যেতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত টাকা জমা রাখতে হবে? ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাও অনেকের কাছে ঝামেলা মনে হতে পারে।
তাদের জন্য সুখবর, এখন আর একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আগের মতো ব্যাংকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। বেশ কয়েকটি ব্যাংক ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিচ্ছে।
প্রথমেই ব্যাংক ঠিক করতে হবে। এরপর দেখতে হবে সেই ব্যাংকে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা আছে কি না। সুবিধা থাকলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। যেমন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাসপে অ্যাপের মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন করা যায়। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংকের ‘সঞ্চয়ী’ অ্যাপও ঘরে বসে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিয়ে থাকে।
এরপর প্রশ্ন আসে অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী তথ্য লাগে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীর তথ্যের পাশাপাশি নমিনির তথ্যও লাগবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির তথ্য।
অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে এনআইডির সামনের ও পেছনের অংশের ছবি আপলোড করতে হয়। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এনআইডি সাথে রাখতে হবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, অন্য কাউকে দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নেওয়া যায় কি না। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হবে। কারণ তাকে একটি লাইভ সেলফিও তুলতে হবে।
অ্যাকাউন্টের ধরন ঠিক করতে হবে। কারণ অ্যাকাউন্ট ভেদে প্রয়োজনীয় তথ্য ও শর্ত ভিন্ন হতে পারে। এরপর প্রয়োজন আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, পেশা ও আয়ের উৎসের তথ্য। ঠিকানা দিতে হবে তিন ধরনের। বর্তমান, স্থায়ী ও কর্মস্থলের ঠিকানা।
ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কিছু ব্যাংক বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি চাইতে পারে। আবার পেশা ও আয়ের উৎসের প্রমাণ হিসেবে চাকরির পরিচয়পত্র, বেতন বিবরণী বা ব্যবসার কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।
গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাসিক আয়-ব্যয় এবং অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ধরন সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারে ব্যাংক।
আরও লাগবে নমিনির নাম, পরিচয়পত্রের তথ্য ও ছবি। পাশাপাশি জানাতে হবে নমিনির সাথে আবেদনকারীর সম্পর্ক। নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে কিছু ব্যাংক তার অভিভাবকের তথ্য ও পরিচয়পত্রও চাইতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য আবেদনকারী ও নমিনির পাশাপাশি আরেকজনের নাম ও অন্যান্য তথ্য দেওয়া লাগবে। আবার অনেক সময় ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে, এমন আরেকজন পরিচয়দানকারীর তথ্যও দেওয়া লাগতে পারে। একইসাথে প্রয়োজন সবার স্বাক্ষর।
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কোনো প্রাথমিক টাকা জমা দিতে হবে কি না, এবং কত টাকা দিতে হবে, তা ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই প্রাথমিকভাবে কাজ শেষ। এরপর ব্যাংক সেই তথ্য যাচাই করবে। যাচাই ও অনুমোদন শেষে অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে দিবে।
তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের তালিকা এক নয়। কোনো ব্যাংক ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল চাইতে পারে, আবার কোনো ব্যাংক অন্য পদ্ধতিতে ঠিকানা যাচাই করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখে নিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ডেবিট কার্ড বা চেকবইয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কার্ডের জন্য আলাদা ফি লাগবে কি না, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কার্ড পেতে কত সময় লাগবে, এসব ক্ষেত্রে একেক ব্যাংকে একেক নিয়ম থাকে।
কার্ড হাতে পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে একটা পিন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হবে, যেটা পরে পরিবর্তন করা যায়। ব্যাংক থেকে দেওয়া পিন নাম্বার সাথে সাথেই পরিবর্তন করে নেওয়া ভালো। কার্ড হাতে পাওয়ার পর এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা, কেনাকাটা কিংবা অন্যান্য লেনদেন করা যাবে।
মানি ম্যাটার্স
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী প্রয়োজন
কেউ হয়তো লেখাপড়ার পাশাপাশি আয় করছেন। কিংবা নতুন চাকরি শুরু করেছেন। মাস শেষে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে বা প্রয়োজনের সময় কেনাকাটা বা বিভিন্ন বিলও পরিশোধ করতে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেশ কাজে আসতে পারে।
কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, কোথায় যেতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত টাকা জমা রাখতে হবে? ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাও অনেকের কাছে ঝামেলা মনে হতে পারে।
তাদের জন্য সুখবর, এখন আর একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আগের মতো ব্যাংকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। বেশ কয়েকটি ব্যাংক ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিচ্ছে।
প্রথমেই ব্যাংক ঠিক করতে হবে। এরপর দেখতে হবে সেই ব্যাংকে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা আছে কি না। সুবিধা থাকলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। যেমন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাসপে অ্যাপের মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন করা যায়। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংকের ‘সঞ্চয়ী’ অ্যাপও ঘরে বসে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিয়ে থাকে।
এরপর প্রশ্ন আসে অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী তথ্য লাগে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীর তথ্যের পাশাপাশি নমিনির তথ্যও লাগবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির তথ্য।
অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে এনআইডির সামনের ও পেছনের অংশের ছবি আপলোড করতে হয়। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এনআইডি সাথে রাখতে হবে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, অন্য কাউকে দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নেওয়া যায় কি না। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হবে। কারণ তাকে একটি লাইভ সেলফিও তুলতে হবে।
অ্যাকাউন্টের ধরন ঠিক করতে হবে। কারণ অ্যাকাউন্ট ভেদে প্রয়োজনীয় তথ্য ও শর্ত ভিন্ন হতে পারে। এরপর প্রয়োজন আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, পেশা ও আয়ের উৎসের তথ্য। ঠিকানা দিতে হবে তিন ধরনের। বর্তমান, স্থায়ী ও কর্মস্থলের ঠিকানা।
ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কিছু ব্যাংক বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি চাইতে পারে। আবার পেশা ও আয়ের উৎসের প্রমাণ হিসেবে চাকরির পরিচয়পত্র, বেতন বিবরণী বা ব্যবসার কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।
গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাসিক আয়-ব্যয় এবং অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ধরন সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারে ব্যাংক।
আরও লাগবে নমিনির নাম, পরিচয়পত্রের তথ্য ও ছবি। পাশাপাশি জানাতে হবে নমিনির সাথে আবেদনকারীর সম্পর্ক। নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে কিছু ব্যাংক তার অভিভাবকের তথ্য ও পরিচয়পত্রও চাইতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য আবেদনকারী ও নমিনির পাশাপাশি আরেকজনের নাম ও অন্যান্য তথ্য দেওয়া লাগবে। আবার অনেক সময় ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে, এমন আরেকজন পরিচয়দানকারীর তথ্যও দেওয়া লাগতে পারে। একইসাথে প্রয়োজন সবার স্বাক্ষর।
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কোনো প্রাথমিক টাকা জমা দিতে হবে কি না, এবং কত টাকা দিতে হবে, তা ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করে আবেদন জমা দিলেই প্রাথমিকভাবে কাজ শেষ। এরপর ব্যাংক সেই তথ্য যাচাই করবে। যাচাই ও অনুমোদন শেষে অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে দিবে।
তবে সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের তালিকা এক নয়। কোনো ব্যাংক ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল চাইতে পারে, আবার কোনো ব্যাংক অন্য পদ্ধতিতে ঠিকানা যাচাই করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখে নিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ডেবিট কার্ড বা চেকবইয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কার্ডের জন্য আলাদা ফি লাগবে কি না, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কার্ড পেতে কত সময় লাগবে, এসব ক্ষেত্রে একেক ব্যাংকে একেক নিয়ম থাকে।
কার্ড হাতে পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে একটা পিন নাম্বার দিয়ে দেওয়া হবে, যেটা পরে পরিবর্তন করা যায়। ব্যাংক থেকে দেওয়া পিন নাম্বার সাথে সাথেই পরিবর্তন করে নেওয়া ভালো। কার্ড হাতে পাওয়ার পর এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা, কেনাকাটা কিংবা অন্যান্য লেনদেন করা যাবে।