চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে অগাস্টের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেছেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় হলো সে অপরাধী।
সভায় আইজিপি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন আইজিপি।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো ঠেকাতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানান অতিরিক্ত আইজি।
সভায় অগাস্ট মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণের মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত, বিচার এবং সাজা দেওয়ার হার নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়।