মুয়াজ্জিন থেকে ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’: কোথায় আছেন নব্য জেএমবির ‘ডেভিড কিলার’

পুলিশের খাতায় ‘দুর্ধর্ষ’ একজন ‘জঙ্গি’ হিসাবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ‘ডেভিড কিলার’, যিনি বাংলাদেশের শীর্ষ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার কমান্ডার এবং স্লিপার সেলের সদস্য। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার দায়িত্ব পাওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। 

২০২৫ সালের জুন মাসে জামিনে বের হওয়ার পর রংপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কিছুদিন চাকরিও করেছেন। 

কিন্তু তারপর থেকে তিনি কোথায়? কী করছেন? পুরোনো কোনো যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে কি না– এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। বরং তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা।

‘ডেভিড কিলার’ নিজেই আলাপ-কে বলেছেন, তিনি এখন লালমনিরহাটে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং লালমনিরহাট ও সিরাজগঞ্জ পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। 

তার দাবি, দুই জেলার পুলিশই তার বিষয়ে এবং তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর রাখছে।

কিন্তু পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু আলাপ-কে বলেছেন, “ডেভিড কিলার সম্পর্কে কিছু জানা নেই। তার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোথা থেকেও কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই।”

ডেভিড কিলারের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে।

কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকও বলছেন, “ডেভিড কিলার সম্পর্কে কিছু জানি না। কোনো খোঁজখবরও রাখছি না।”

আবার ডেভিড কিলারকে নিয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যও প্রায় একই রকম। আলাপ-কে তিনি বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।”

একারণেই প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আলোচিত একজন ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে এসে কোথায় আছেন, কী করছেন—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আদৌ কি কোনো তথ্য নেই?

কিন্তু ডেভিড কিলার যে বলছেন ‘নজরদারিতে আছি’- এই দাবির আড়ালে কি রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা? তার গতিবিধি সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় নজরদারির কোথাও কি তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ফাঁক?

যেখানে জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি দাবি করছেন পুলিশ তাকে নজরে রেখেছে। আর পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্যই নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, এমনটা হতে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি নয়, অবনতির শঙ্কাই তৈরি হবে। 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নব্য জেএমবির আস্তানা

যে ঘটনায় আলোচনায় আসেন ‘ডেভিড কিলার’

২০২১ সালের ১৭ই মে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি বস্তায় পাওয়া যায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আসিফ হোসেন বোমা সদৃশ বস্তুটি দেখে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখান থেকে সরে যান। পরে জানানো হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। জায়গাটি ঘিরে রাখেন র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা।

খবর পাঠানো হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পরে রোবট ব্যবহার করে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

ওই সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল।

বোমাটি জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরিত হলে কতটা ক্ষতি হতে পারত, তা জানতে চাওয়া হলে সে সময় পুলিশ জানিয়েছিলো, “২৫ মিটারের মধ্যে যারা থাকতো তাদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা ছিলো।” 

সেই বোমার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক মুয়াজ্জিনের খোঁজ পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এই মামুনেরই সাংগঠনিক নাম ‘ডেভিড কিলার’। এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে এই নামেই তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা। 

২০২১ সালে ১১ই জুলাই বিকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয় ডেভিড কিলারকে। ওই মোটরসাইকেল ব্যবহার করেই সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে বোমা রাখা হয়েছিলো বলে জানতে পারে পুলিশ।  

‘ডেভিড কিলার’ ছিলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের নোয়াগাঁও গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের (মিয়াবাড়ী) মুয়াজ্জিন। পাশের সমাজকল্যাণ বাজার মসজিদের ইমাম এরশাদ উল্লাহ তাকে এনে নোয়াগাঁও মসজিদে চাকরি দিয়েছিলেন। তিনি সম্পর্কে মামুনের ভগ্নিপতি।

গ্রেপ্তারের পর নোয়াগাঁওয়ে ডেভিডের-এর বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩টি শক্তিশালী আইইডি। আরো উদ্ধার হয় ৩শ’ গ্রাম লাল রংয়ের বিস্ফোরক জাতীয় পাউডার, ৭টি বিউটেন গ্যাসের ক্যান, ১ সেট রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, ২ প্যাকেট ছোট সাইজের বিয়ারিং বল, ৫০০টি ক্রিসমাস বাল্ব এবং এক রোল ২ ইঞ্চি সাদা কার্টুন টেপ।  

পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট আইইডি তিনটি নিষ্ক্রিয় করে।

কে এই ‘ডেভিড কিলার’

‘ডেভিড কিলার-এর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার চালিতাডাঙ্গা গ্রামে। তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা লালমনিরহাট সদর থানায়। তার বাবা আব্দুল হান্নান সেখানকার বাবুপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। 

১৯৮৫ সালের দিকে সিরাজগঞ্জ থেকে লালমনিরহাট গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হন হান্নান। হান্নানের তিন ছেলে, এক মেয়ে। ‘ডেভিড কিলার’ হলেন তার দ্বিতীয় সন্তান।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার ভূইয়াগাঁতীর মাদ্রাসা-ই-দারুল উসওয়া, লালমনিরহাট নেছারিয়া মাদ্রাসা ও নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন ডেভিড।

আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এসএসসি এবং এইচএসসি লেভেলকে দাখিল ও আলিম বলা হয়। ‘ডেভিড কিলার’ দাখিল পাশ। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আলিম পরীক্ষা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়ার দেড় বছর আগে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে নোয়াগাঁও গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের (মিয়াবাড়ী) মুয়াজ্জিন হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন ডেভিড। তার কাজ ছিলো আজান দেওয়া, মসজিদের অজুখানার পানি ছাড়া এবং ভোরে শিশুদের আরবি পড়ানো।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়ছে, ডেভিড সবার সঙ্গে স্বাভাভিকভাবে চলাফেরা করতেন। তবে কথা বলতেন অনেক কম। গ্রেপ্তার হওয়ার দেড় মাস আগে থেকে তার বাসায় বাইরের লোকজন আসতো। তাদের পরনে থাকতো পাঞ্জাবি, কারো কারো মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি দেখা গেছে।

কারা আসতেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন, যারা আসছেন তারা তার বন্ধু। 

এক প্রশ্নের জবাবে ‘ডেভিড কিলার’ দাবি করেন, “নব্য জেএমবি সন্দেহে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। তবে আমি নব্য জেএমবি না।” 

“আমার আরো দু’জন পার্টনার ছিলো। তাদের একজন ফেইসবুকে লেখালেখি করতো। সেখান থেকেই আমার প্রতি সন্দেহ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, পরে গ্রেপ্তার করা হয়।”

তিনি আরো দাবি করেন, “২০২৫ সালের ৬ই জুন জামিনে বেরিয়ে আসি। কেরাণীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পাই। স্থায়ী জামিনে আছি এখন।”

‘ডেভিড কিলার’ নাম পুলিশের দেওয়া বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ঘর থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে ডেভিড দাবি করেন, “গ্রেপ্তারের পর রাতে আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। এ বিষয়ে আমার জানা ছিলো না।”

নিজের ঘর থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হলো, অথচ বলছেন জানতেন না- এটা কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্ন করা হলে, উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান তিনি। 

কারাগারে থাকার সময় নব্য জেএমবির অন্য নেতাদের সাথে ‘ডেভিড কিলার’-এর সাক্ষাৎ হয়েছিলো বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি তিনি নিজেও অস্বীকার করেননি। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে ছিলাম। নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন,’ আবুল কাশেম ফকির ও জুয়েল ভূইয়ার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে। সবার নাম মনে নেই।”

কারাগারে নব্য জেএমবির সবাই একসাথেই থাকতো বলেও জানান ডেভিড। 

তিনি জানান, ২০১৬ সালের ১লা জুলাই ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান ওরফে হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহ ওরফে ‘হাতকাটা সোহেলে’র নাম তিনি শুনেছেন। তবে দেখা হয়নি কখনো।

পুলিশের নজরদারিতে আছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ ও লালমনিরহাটে আমার ‘ভেরিফিকেশন’ হয়। বর্তমানে লালমনিরহাটে বসবাস করছি।”

ডেভিড সম্পর্কে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার চালিতাডাঙ্গা গ্রামের তার চাচা মো. আলী জিন্নাহ বলেন, “ডেভিড গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমাদের বাড়িতে পুলিশ যায়। আমাদের কাছে এটি ছিলো অবিশ্বাস্য ঘটনা। ওর ‘ডেভিড কিলার’ নামটি পারিবারিক নাম না। আমরা ওকে আব্দুল্লাহ নামে ডাকি। 

“ওর সম্পর্কে কেউ কখনো অভিযোগ করেনি। কখনো কারো সাথে তার মারামারি হয়নি। সবাই ভদ্র হিসাবেই জানতো। সে যে এরকম একটা ঘটনার সাথে জড়িত হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারি নাই। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দিশাহারা হয়ে যাই।”  

জিন্নাহ বলেন, “ও আমাদের সাথে থাকতো না। পরিবারের সাথে লালমনিরহাটেই থাকতো। আমরা তখন ভেবে নিয়েছিলাম আল্লাহ পাক কোনো দুর্দশা লিখেছিলো, সে কারণেই এসব হচ্ছে।” 

জামিনে মুক্তির পর পুলিশ ডেভিডের বিষয়ে খোঁজখবর নেয় কিনা জানতে চাওয়া হলে জিন্নাহ বলেন, “ডেভিডের খোঁজখবর নিতে পুলিশ আসে। তবে সে এখানে থাকে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “অভিযুক্ত যেখানে নিজেই বলছেন তিনি পুলিশের নজরদারিতে আছেন। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তার বিষয়ে কোন তথ্য নেই। এরমধ্যে যথেষ্ট অসঙ্গতি প্রকাশ পাচ্ছে।” 

“অভিযুক্ত আইনি বাস্তবতার সুযোগ নিয়ে নতুন করে কোনো অপরাধে যুক্ত হচ্ছেন কিনা, তা নজরদারিতে রাখা জরুরি। কিন্তু পুলিশের বক্তব্যে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।” 

এমনটা হতে থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি নয়, অবনতির শঙ্কাই তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জামিনে বেরিয়ে গেছেন অনেক জঙ্গি, যারা কারাগারে গুরুতর অপরাধের অসামি হিসাবে চিহ্নিত ছিলেন।

‘ডেভিড কিলার’-এর মতো অনেকেই বেরিয়ে গেছেন জামিনে

ঢাকার পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন নব্য জেএমবি নেতা নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’।

চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি দেওয়া রায়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামুনসহ মোট ১১ জনকে বেকসুর খালাস দেন। তবে এর আগেই ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে বেরিয়ে যান মামুন। ২০১৭ সালের ৩১এ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

সেই মামুনকে ধরতেই গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

পুলিশ বলছে, সুইসাইড ভেস্ট থেকে এখন সায়ানাইড দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার পন্থা নিয়েছে নব্য জেমবি’র জঙ্গিরা। সম্প্রতি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক রাসায়নিক দ্রব্য পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে সায়ানাইড শনাক্ত হয়েছে। আর এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন মামুন।

আদালতে জামিন মঞ্জুর হলে  ২০২৪ সালের ২৬এ জুন কেরাণীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান আরেক নব্য জেএমবি নেতা কাউসার হোসেন ওরফে মেজর ওসামা। 

২০২১ সালের ১১ই জুলাই ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন 'মেজর ওসামা'। সংগঠনের সামরিক শাখার প্রশিক্ষক ও বোমা তৈরির অন্যতম কারিগর হিসাবে পরিচিত তিনি। 

একই বছরের ১লা অগাস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন নব্য জেএমবি নেতা শফিকুর রহমান হৃদয় ওরফে বাইতুল্লাহ মেহসুদ ওরফে ক্যাপ্টেন খাত্তাব এবং খালিদ হাসান ভূঁইয়া ওরফে আফনান। 

‘ডেভিড কিলার-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো বলে সে সময় জানানো হয়। এদের মধ্যে আফনান ২০২৪ সালের ৪ঠা জানুয়ারি কেরাণীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান। 

শুধু নব্য জেএমবি না, আল–কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মাওলানা ইকরামুল হকও জামিনে বেরিয়ে এসে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন। 

২০২৩ সালের ৩০এ মে ঢাকার মাদারটেক থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইকরামুল। ১৬ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পাঠানো হয় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে।

ওই কারাগারের এক কর্মকর্তা আলাপ-কে বলেন, “জামিন পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ১০ই অক্টোবর কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।” 

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জামিনে বেরিয়ে গেছেন এ রকম আরো অনেক জঙ্গি। যারা কারাগারে গুরুতর অপরাধের অসামি হিসাবে চিহ্নিত ছিলেন। 

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে জেএমবি, নব্য জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, আনসার আল ইসলাম, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুত তাহরীর, আল্লাহর দলের মতো উগ্রপন্থি সংগঠনগুলোর ২৪১ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জামিনে বেরিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি পুলিশের বেশ কয়েকটি অভিযান চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে, দেশে সক্রিয়ভাবে রয়েছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। সাভারের হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আত্মঘাতী হওয়ার সায়ানাইড, কেরাণীগঞ্জে সন্ধান মিলেছে বোমা তৈরির কারখানা, মেট্রো স্টেশনের নিচে এবং আরো তিনটি এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে শক্তিশালী আইইডি। 

এসব ঘটনায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, দেশে এখনো সক্রিয় রয়েছে জঙ্গিবাদে জড়িতরা। এ অবস্থায় অভিযুক্ত একজন জঙ্গির বিষয়ে পুলিশের ঢিলেঢালা ভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যে, তারা আসলে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে?