টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডির একটি দল কিশোরগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার দামপাড়া এলাকার মো. জুলহাস উদ্দিন এবং একই জেলার করিমগঞ্জ থানার প্রহড়, বলে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ই সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলহাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি প্রহড়কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই মামলার বাদী মেহেদি হক নিয়ন কে ২০২৫ সালের ২৪এ অগাস্ট টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে 'জেলস' জুয়েলারী নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাদী প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হলে প্রতারক চক্রটি কৌশলে একটি 'ফিশিং লিংক' তৈরি করে তাকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে।
প্রথমে ওই ওয়েবসাইটে অনলাইনে অর্ডার করার মাধ্যমে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তারপর বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে তাকে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে চক্রটি জানায়, বিভিন্ন ধাপে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে।
অর্ডার সম্পন্ন করার সময় বাদীর অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের মুনাফা দেখানো হতো। পরবর্তী অর্ডার সম্পন্ন করা এবং প্রদর্শিত মুনাফার টাকা উত্তোলনের জন্য নানা অজুহাতে আরও টাকা জমা দিতে বলা হয়। প্রতারক চক্রের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে চক্রটি বাদীর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৩রা জানুয়ারি মেহেদি হক নিয়ন পল্টন থানায় মামলা করেন।
এরপর সিআইডি মামলাটির তদন্ত করার দায়িত্ব পেলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে এরই মধ্যে চক্রটির ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়ে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।