সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চলমান মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-সহ আন্তর্জাতিক পাঁচটি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন।
১৫ই জুলাই প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা উচিত নয়।
বিবৃতিতে সিপিজে ছাড়াও সই করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গত ১৪ই মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে জানানো হয়, ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় করা মামলায় ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, একাত্তর টেলিভিশনে রূপার উপস্থাপিত একটি অনুষ্ঠানে ওই অভিযানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শাপলা চত্বরের ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এমন একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা আইনের দৃষ্টিতেও গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনগুলোর দাবি, এখন পর্যন্ত রূপা ও বাবুর আইনজীবীদের কাছে কোনো প্রমাণ বা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, শুধুমাত্র সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে এ ধরনের মামলা করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রূপা, মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ ও শ্যামল দত্ত দীর্ঘদিন ধরে বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন। এ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।
তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সাংবাদিকতার কাজের ভিত্তিতে যেন কোনো সাংবাদিককে আইসিটিতে অভিযুক্ত করা না হয়।
একইসঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, রূপা, বাবু, শাকিল আহমেদ ও শ্যামল দত্তকে মুক্তি দেওয়া এবং তাদের পেশাগত কাজের কারণে আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।