ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যে নামটি দ্রুত পুরো তদন্তের কেন্দ্রে উঠে আসে, তিনি হিশাম আবুগারবিয়াহ।
শুরুতে তিনি ছিলেন লিমনের রুমমেট। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতের নথি, অসংগত বক্তব্য, সন্দেহজনক আলামত এবং অতীতের সহিংস আচরণের অভিযোগ, সব মিলিয়ে এখন তিনিই এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত।
লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বৃষ্টিও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রেও রয়েছে হিশামের নাম।
শুরুটা ছিল এক ভাইয়ের আকুতি, জাহিদ হাসান প্রান্ত নামে একজন ফেসবুকে লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তার বোন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ। ষোলই এপ্রিলের পর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই, ফোনও বন্ধ।
পুলিশের আশংকা বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। আর হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ লুকাতে অভিযুক্ত হিশাম সহায়তা নিয়েছিলেন চ্যাটজিপিটির। সেই অনুযায়ী কেনাকাটাও করেন শপিং মল থেকে। আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল।
ফ্লোরিডার এই আলোচিত মামলায় হিশাম প্রথমে সামনে আসেন খুব সাধারণ একটি পরিচয়ে। তিনি ছিলেন লিমনের রুমমেট। তারা থাকতেন অ্যাভালন হাইটস স্টুডেন্ট হাউজিং কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাটে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টি ওই বাসায় থাকতেন না; তিনি থাকতেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ক্যাম্পাসে। কিন্তু লিমনের সঙ্গে একই বাসায় থাকার কারণেই তদন্তের শুরু থেকেই হিশাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
যেভাবে খোঁজ মিলল হত্যাকারীর
জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, দুজনেরই বয়স ২৭। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন তারা। ষোলই এপ্রিল কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা নিখোঁজ হন।
ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই সন্দেহভাজন হত্যাকারীর খোঁজ মিলে। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়াহ। তবে মেলেনি বৃষ্টির সন্ধান। এখনো তাকে খুঁজে চলেছে তদন্তকারীরা। তবে জীবিত পাওয়ার আশা নেই।
হিশামকে পুলিশ খুঁজে পায় আরেক সহিংসতার জের ধরে। শুক্রবার সকালেই অন্য একটি ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগ পেয়ে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেই বাড়ির সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরও হিশামকে বের হতে বলা হয়। কিন্তু প্রায় ২০ মিনিট কথা বললেও বের হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল।
পরে সোয়াট ইউনিট এসে তাকে সেই বাড়ি থেকে বের করে আটক করে।
শুরু থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন হিশাম। ছিলেন লিমনের রুমমেট। 'ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের' অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন প্রসিকিউটররা। রবিবার প্রকাশ করা সেই নথিতে বলা হয়েছে, লিমনের মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড; তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল।
মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পিঠের নিচের অংশে একটি ছুরির গভীর আঘাত রয়েছে।
হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সন্দেহ আরও স্পষ্ট হয় পুলিশের। তদন্তকারীদের কাছে হিশাম একেক সময় একেক কথা বলছিলেন।
প্রথমে বলেন, ঘটনার দিন লিমন ও বৃষ্টিকে দেখেননি। তবে লিমনের মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন এবং হিশামের গাড়ির গতিবিধি বলছিল ভিন্ন কথা। হিশামের গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় দেখা গেছে, যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল।
পুলিশ চাপ প্রয়োগ করলে বক্তব্য বদলান হিশাম; দাবি করেন, লিমন নাকি তাকে অনুরোধ করেছিলেন বৃষ্টিসহ পৌঁছে দিতে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে হিশামের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে হিশাম দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটার সময় আঘাত পেয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ১৬ই এপ্রিলের একটি দোকানের রশিদ দেখেও সন্দেহ হয় পুলিশের। সেই রশিদে ময়লার ব্যাগ ও 'ডিসইনফেক্টেন্ট ওয়াইপস' ছিল।
চ্যাটজিপিটির সহায়তা
আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশাম চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘একজন মানুষকে ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে?’
লিমন ও বৃষ্টিকে শেষবার জীবিত দেখার তিন দিন আগে, অর্থাৎ ১৩ই এপ্রিল রাতে আবুগারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে এই প্রশ্ন করেন।
জবাবে চ্যাটজিপিটি বলে, ‘এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।’ এরপর হিশাম আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘তারা কিভাবে জানবে?’
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ই এপ্রিল এক রুমমেট দেখেন হিশাম অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স ফেলছেন। পরে সেই ডাস্টবিন থেকেই লিমনের কিছু জিনিস পাওয়া যায়। যেখানে তার স্টুডেন্ট আইডি ও ক্রেডিট কার্ডও ছিল।
এরপর শুক্রবার তদন্তকারীরা একটি ময়লার ব্যাগের ভেতর লিমনের খুঁজে পায়। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, লিমনের মৃত্যু একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডাস্টবিন থেকে পাওয়া একটি ধূসর টি-শার্টের ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের জেনেটিক উপাদান পাওয়া যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কে এই হিশাম
আদালতে প্রসিকিউটররা বলছেন, অপরাধের নৃশংসতা এত বেশি যে হিশাম আবুগারবিয়াহকে বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত কারাগারেই রাখা উচিত। তাদের আশঙ্কা, মুক্তি পেলে তিনি সমাজের জন্য হুমকি হতে পারেন।
হিশামের বিরুদ্ধে প্রথমে হামলা, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, আলামত নষ্ট করা, মৃত্যু গোপন রাখা এবং মরদেহ অবৈধভাবে রাখা বা সরানোর অভিযোগ আনা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে হত্যার দুটি অভিযোগও যোগ হয়। তিনি এখনও কারাগারে আছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন মুখপাত্র ট্যাম্পা বে টাইমসকে বলেন, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে এখন তিনি আর সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।
স্থানীয় হিলসবারো কাউন্টির আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালেও ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুইটি মামলাও হয়েছিল তবে পরে প্রত্যাহার করা হয়।
একই বছর হিশামের ভাই আদালতে রিস্ট্রেইনিং অর্ডার বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন, যেন হিশাম তার বা তার বাড়ির কাছাকাছি আসতে না পারেন। ওই আবেদনে বলা হয়, হিশাম এক ঘটনায় তার ভাই ও মায়ের ওপর হামলা করেছিলেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এপ্রিলের শেষ দিক থেকে ৮ই মে পর্যন্ত মাঝরাতে হিশাম চিৎকার করে বলতেন, তিনিই ঈশ্বর এবং সবাইকে তার সামনে নত হতে হবে।
পরে এক বিচারক দুই বছরের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
যেভাবে নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি
লিমন ও বৃষ্টি এক মাইলের থেকেও কম দূরত্বের দুইটি জায়গা থেকে নিখোঁজ হন।
লিমনকে শেষবার সেদিন সকালে দেখা গেছে তার অ্যাভালন হাইটস স্টুডেন্ট হাউজিং কমপ্লেক্সের অ্যাপার্টমেন্টে।
লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ ট্যাম্পা বে টাইমসকে বলেন, জামিল বাংলাদেশে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি ইউএসএফে যান এবং ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
একইদিন নিখোঁজ হন বৃষ্টিও। তাকে শেষবার দেখা গেছে ইউএসএফের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে সকাল ১০টার দিকে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।
বৃষ্টির ভাই প্রান্ত বলেন, খুবই হাসিখুশি ছিলেন বৃষ্টি। সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারতেন। বাংলাদেশে তিনি অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
ইউএসএফের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে ২০২৫ সালে বৃষ্টি আবেদন করেন এবং পূর্ণ অর্থায়নসহ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।
ট্যাম্পা বে টাইমসকে বৃষ্টির ভাই বলেন, ১৬ই এপ্রিল দুপুরের কিছু পর বৃষ্টি বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি ক্যাম্পাসের নিজের অফিস বা ল্যাবে ছিলেন এবং বলছিলেন তার দিনগুলো খুব ব্যস্ত যাচ্ছে।
সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা।
সেদিন বিকেল ৩টার একটি ক্লাসেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। সন্ধ্যা ৫টায় এক বন্ধুর সঙ্গে বাজার করতে যাওয়ার কথাও ছিল বলে জানান তার ভাই।
পরদিন পরিবারের একজন তাদের নিখোঁজের খবর দেয়।
লিমনের নিখোঁজ হওয়ার প্রাথমিক অভিযোগ নেয় হিলসবারো কাউন্টি শেরিফের অফিস। আর বৃষ্টিকে খোঁজার প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের।
শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুজনকে 'নিখোঁজ' হিসেবে অভিহিত করেছিল। তবে পরে বৃহস্পতিবার রাতে তা বদলে যায় 'ঝুঁকিতে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তি' হিসেবে; যদিও তখন বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর মধ্যে হিলসবারো ও পিনেলাস কাউন্টিজুড়ে কয়েকটি সংস্থার তল্লাশি দল ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ভোরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে একটি মরদেহ পাওয়া যায়।
লিমন ও বৃষ্টি যেই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন সেই হিলসবোরোর কাউন্টি শেরিফ জানান, ব্রিজ এলাকা থেকে যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি লিমনের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃষ্টি কোথায়?
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এখনো জীবিত আছেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হিশাম তার লাশ গুম করে ফেলেছেন।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, রবিবার বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশির সময় মানব দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে সেটি কার, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানায়নি।
আর আদালতে প্রসিকিউটরদের দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, বৃষ্টির মোবাইল কাভারসহ কিছু জিনিস নষ্ট করে ফেলেছিলেন হিশাম।
বৃষ্টিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ বলেই ধরা হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা আদালতে বলেছেন, তাকেও সম্ভবত লিমনের মতো একই উপায়ে হত্যা করা হয়েছে।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ট্যাম্পা বে নিউজকে বলেন, তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তার পরিবারকে ফোন করে জানিয়েছেন, লিমন ও সন্দেহভাজন হিশামের ব্যবহৃত অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতে তারা মনে করছেন বৃষ্টি হয়তো মারা গেছেন।
একুশে এপ্রিল বৃষ্টির ভাইয়ের দেওয়া পোস্টে বলা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে, আরেকজন পরিচিতজনও নিখোঁজ, কিন্তু নিশ্চিত কোনো সূত্র নেই। তিনি অনুরোধ করেছিলেন, কেউ যেন যাচাই না করে ভুল তথ্য না ছড়ায়।
কিন্তু এরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়ে ওঠে এই দুইজন। জানা যায়, লিমন খুন হয়েছেন। তার দেহাবশেষ মিলেছে। বৃষ্টির খোঁজ না মিললেও মোটামুটি নিশ্চিত যে তিনিও আর বেঁচে নেই।
এরপর জাহিদ হাসান ফেসবুক পোস্টে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
চব্বিশে এপ্রিল তার ভাই প্রান্তও পোস্ট করে বলেছেন, তার বোন বৃষ্টি আর বেঁচে নেই।
পরিবার যা বলছে
সবশেষ মঙ্গলবার দুই পরিবারের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্তৃপক্ষকে তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। দুজনের মরদেহ যেন ইসলামি রীতিতে শেষকৃত্য ও দাফন করা হয়, সেজন্য যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা করে।
একই সঙ্গে যেই অ্যাভালন হাইটসের যে আবাসনে তারা দুজন থাকতেন সেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দুজনের পরিবার। কেন সেই আবাসনে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না, কেন তারা সেখানকার বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে পারলো না এবং অভিযোগ থাকার পরও তারা ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে বৃষ্টি ও লিমনের পরিবার।
একইসঙ্গে সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিশামের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেছে লিমন ও বৃষ্টির পরিবার। দুজনের স্মরণে তাদের নামে মোমেরিয়াল করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।