ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার গোটা শহর কার্যত অবরুদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। এই কর্মসূচির আগেই ভোরে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। দিনভর আটকে রাখার পর গভীর রাতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ধ্রুব রাঠি বলেছেন, তাকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছিলো।
পুলিশ হেফাজত থেকে বাড়ি ফেরার পর ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে ধ্রুব রাঠি লিখেছেন, “আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিলো। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, পুরো ঘটনাটি এখানে তুলে ধরলাম।”
ভিডিওতে তাকে কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিলো তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “আমি একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলাম এবং থাকবো।” নিজের পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তার আটক হওয়ার পর অনেকে তিনি বিদেশি পাসপোর্টধারী বলে যে গুজব ছড়াচ্ছে তা মিথ্যা। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তার সমান অধিকার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
১০ই অক্টোবরের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ধ্রুব রাঠি জানান, সকাল ৭টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের কোনো উর্দি বা নেমপ্লেট ছাড়াই সাদা পোশাকে প্রায় ২০ জনের একটি দল তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তার মাকে ধাক্কা দিয়ে তারা সোজা বেডরুমে ঢুকে যায়। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়।
পুরো ঘটনাটিকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে ধ্রুব রাঠি বলেন, “পুলিশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যারেস্ট মেমো দেখিয়ে গ্রেপ্তার করতো, তবে আমি হাসিমুখেই থানায় যেতাম। কিন্তু গুন্ডা পাঠিয়ে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামানো হয় এবং পায়ে জুতা পরার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। এতে তিনি ব্যথা পেয়েছেন এবং শরীরে আঘাতের দাগ আছে।
ধ্রুব আরও জানান, তাকে জিপে করে দ্রুত একটি থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার এবং তার বাবা-মায়ের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। থানায় পৌঁছানোর পর আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ২২-২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয় এবং বলা হয় যে এটি কোনো গ্রেপ্তার বা আটক নয়।
এই ঘটনাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসােবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া সমালোচনা করেন ধ্রুব। তিনি বলেন, “কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন হতে পারে না। নরেন্দ্র মোদী এই দেশটাকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করেছেন।”
তিনি দাবি করেন, শুধু তিনিই নন, অভিজিৎ, সৌরভ দাস, আশুতোষসহ প্রায় সাত হাজার মানুষকে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে একইভাবে আটক করা হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বর্তমানে সুস্থ থাকলেও তাকে একপ্রকার ‘অঘোষিত গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। তার বাড়ির চারপাশে অন্তত ১৫ জন লোক নজরদারি করছে, যাতে তিনি বাইরে বের হতে না পারেন।
ভিডিওর শেষে সোনম ওয়াংচুকসহ তার পাশে দাঁড়ানো সবাইকে ধন্যবাদ জানান ধ্রুব রাঠি। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কাউকে এতটা ভয় দেখাবেন না যে তার সব ভয় কেটে যায়। মানুষকে যত বেশি দাবাবেন, মানুষের আওয়াজ তত বেশি জোরদার হবে।”