ইন্টারনেট ইনফ্লুয়েন্সার ও ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির নতুন আন্দোলনের মুখ ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়েছে এরই মধ্যে। খবরে বেরিয়েছে তাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে পুলিশ।
এই আন্দোলনের আরেক মুখ অভিজিত দিপকে-কেও পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে দিল্লির বিমানবন্দরে নামা একটি বিমান থেকে।
তাকে তুলে নেয়ার সেই ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।
লাখ লাখ মানুষ সেই ভিডিও দেখছেন।
এই সব ঘটনা ঘটেছে শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত আন্দোলন ব্যাহত করার জন্য।
এই আন্দোলনটি করা হচ্ছে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভারতের তেরো কোটির বেশি বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া।
মানুষ যাতে শনিবারের ওই সমাবেশে যোগ দিতে না পারে সেজন্য ৫৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে।
তারপরও বহু মানুষ পায়ে হেঁটে সেখানে আসছেন।
পুলিশ তাদের বাধা দিচ্ছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর বেরিয়েছে।
যদিও দিল্লিতে কী হচ্ছে তার খুব কম খবরাখবর সোশ্যাল মিডিয়ায় আসছে।
কারণ, খবর বেরিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চব্বিশ ঘণ্টার জন্য নয়াদিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যেমনটি ঘটেছিলো ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে।
ভারতের কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশে বলা হয়েছে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চারপাশে ৪ কিলোমিটার এলাকায় এই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে।
পাশাপাশি, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে আন্দোলন সংক্রান্ত যেকোনো বেআইনি, ভুয়া বা বিকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
এর মধ্যে রয়েছে বেআইনি পোস্টগুলো নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলা এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি মিডিয়াতে এআই লেবেল যুক্ত করা। এছাড়া দিল্লি জুড়ে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
এসবই করা হচ্ছে দিল্লিতে ককরোচ পার্টির সমাবেশ ঠেকানোর সরকারি চেষ্টার অংশ হিসেবে।
ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সের মতো প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে একটি জরুরি ‘অ্যাডভাইসরি’ বা নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
অ্যাডভাইসরিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এমন যেকোনো পোস্ট, উসকানিমূলক বার্তা বা বেআইনি কনটেন্ট সরকারি নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও দিল্লি পুলিশ তাদের বিশেষ অনলাইন পোর্টাল 'সহযোগ' অ্যাপ ব্যবহার করে বিক্ষোভ সম্পর্কিত প্রায় ২০০টির বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট ব্লক বা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং বিভাগ আন্দোলনকারীদের ডিজিটাল গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে।
আন্দোলন নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগ তুলে এরইমধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির বেশ কয়েকজন কর্মী ও নেতার পোস্ট ব্লক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।
এসব ক্যামেরায় শব্দ ধারণের সুবিধাও রয়েছে। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।