উক্রেইনের সেনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একজন সংসদ সদস্য দিমিত্রো লুবিনেতস।
তার দাবি, সেনা নিয়োগকেন্দ্র থেকে মুক্তি পেতে অর্থ লেনদেন হচ্ছে। একইসঙ্গে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ স্থল থেকে উক্রেইন সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগও করেন লুবিনেতস।
মঙ্গলবার উক্রেইনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইন্সকা প্রাভদাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান তিনি। কিয়িভ পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লুবিনেতসের দাবি, টেরিটোরিয়াল রিক্রুটমেন্ট সেন্টার (টিআরসি) থেকে বেরিয়ে যেতে একজনকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার এবং কেন্দ্রের ভেতর থেকে মুক্তি পেতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ লেনদেন করার তথ্য আসছে।
তবে আরও বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে ‘টার্নকি’ সেবার অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চলে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারের বিনিময়ে সামরিক বাসের মাধ্যমে সরাসরি উক্রেইনের সীমান্তা পার করে দেওয়ার অবৈধ সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ঘটনাটি এখনও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
উক্রেইনের জাকারপাটিয়া অঞ্চলে সেনা নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন লুবিনেতস।
লুবিনেতস বলেন, ২০২৪ সালের পর উক্রেইনে সেনা নিয়োগ নিয়ে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বেশি বেড়েছে। সেনা সদস্য সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের চাপেই স্বাস্থ্যগত বা আইনগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তিদেরও নিয়োগকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তার মতে, দেশজুড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। সেই লক্ষ্য পূরণের চাপ থেকেই ধীরে ধীরে পুরো ব্যবস্থায় দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে।
এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে উক্রেইনের সমাজে ক্ষোভ ও প্রতিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন লুবিনেতস।
তিনি বলেন, উক্রেইন এখনো ‘ফিরে আসার পথের শেষ প্রান্তে’ পৌঁছায়নি, তবে সেই অবস্থার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
তিনি আরও জানান, তার দপ্তরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনা সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো কয়েকটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
লুবিনেতস আরও বলেন, তিনি ও তার দপ্তর দুর্নীতির যে সুনির্দিষ্ট তথ্যগুলো পেয়েছে, বাস্তবে এর মাত্র ‘এক শতাংশ’ তুলে ধরা হয়েছে।