যুক্তরাষ্ট্রের টানা ছয় দিনের সামরিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
শুক্রবার ভোরে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করে ইরান। এ সময় কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় এক শিশু আহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেও ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসের কাছে উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও নৌ সক্ষমতা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় বন্দর খামিরের পাঁচটি সেতু, একটি রেলস্টেশন ও ইরানশাহর বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুতে হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
সংঘাত বাড়ায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও জ্বালানির দাম বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজর রাখছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর বাড়িয়েছে নজরদারি। তেহরান সতর্ক করেছে, হামলা চলতে থাকলে ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন।
অন্যদিকে ইরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরও হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।