কুয়েত ও বাহরাইনের ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এবার উপসাগরীয় দেশ কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনেরও ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন কিংবা অজুহাত যে কারণেই হোক না কেন, এমনকি তুচ্ছ কোনো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’

আইআরজিসির হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত ও বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়। তবে সেই অভিযানে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, রবিবার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রয়টার্স, এপি ও এএফপির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। উভয় পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে যুদ্ধবিরতির সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ইতোমধ্যে একাধিকবার একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।