যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের এক ফাঁকে ট্রাম্প এই স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বুধবার স্বাক্ষর করেছে ইরানও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সমঝোতা না মানলে, পুনরায় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
চুক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে যা অর্জন সম্ভব হয়নি, আলোচনার মাধ্যমে তার চেয়েও বেশি অর্জিত হয়েছে।
এ দিকে চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির পর বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জি-৭ নেতারা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আশা প্রকাশ করেছেন। তবে লেবাননে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি পরোক্ষ বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননে সামরিক অভিযানে আরও সংযত হওয়া প্রয়োজন।