যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই নতুন সংঘাত: ইরান চুক্তির কতটা কাছাকাছি ট্রাম্প?

ইরানের সঙ্গে একটি ‘খুব ভালো চুক্তির’ কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবির মধ্যেই নতুন করে পালটাপালটি হামলায় জড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ফলে যুদ্ধ থামাতে দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার আশা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

৮ই এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তবে যুদ্ধবিরতির পরও দুই পক্ষই মাঝেমধ্যে একে অন্যের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি ও  ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ। 

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির কাগুজে অস্তিত্ব থাকলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। এমন পরিস্থিতে ট্রাম্পের লাগাম টানার চেষ্টা করছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। 

বুধবার ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন না দিলে ট্রাম্পকে ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কক্ষে চার রিপাবলিকান সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। 

এর আগে রবিবার রাতে এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

এর জবাবে সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

কোথায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টকম বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে চলা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের “আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের” জবাবে এই হামলা চালানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এই কমান্ড আরও জানায়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। 

সেন্টকমের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছিল।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন বোঝাতে চাইছে, তাদের হামলা ছিল সীমিত, নির্দিষ্ট এবং প্রতিরক্ষামূলক। 

তবে ইরানের বিষয়টি আগ্রাসন হিসেবেই দেখছে। 

ইরানের পালটা হামলা

মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি সোমবার জানায়, দক্ষিণ ইরানের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার জন্য ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনীর হামলা চালায়। এরপর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স সেই হামলার উৎস লক্ষ্য করে আঘাত হানে। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

তবে ওই মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান স্পষ্ট করেনি আইআরজিসি ।

এর মধ্যেই কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তবে কুনা হামলার বিস্তারিত জানায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আঞ্চলিক যেসব ঘাঁটি বা সম্পদ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর অধিকার তেহরানের আছে। 

এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,  “কোনো আগ্রাসী রাষ্ট্র যেন কোনো দেশের সম্পদ বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে আইনি বাধ্যকতা আছে।”   

তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়াকেও সমালোচনা করেন। বাঘাইয়ের অভিযোগ, ইইউ “নির্বাচিত নৈতিক ক্ষোভ” দেখাচ্ছে। 

তার দাবি, প্রতিবেশী দেশের ঘাঁটি থেকে চালানো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে, অথচ সেটিকে নিন্দা করা হচ্ছে। 

ইরানের লক্ষ্য কারা

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ছাড়াও ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতেও হামলার খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ইরানি কুর্দি দল কোমালার জ্যেষ্ঠ নেতা আমজাদ হুসেইন পানাহি অভিযোগ করেছেন, উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশের আলানা ভ্যালিতে কোমালার সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কোমালার ঘাঁটি ও সদর দপ্তরে ৮১টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের সম্প্রচারমাধ্যম রুদাও জানিয়েছে, ইরানি কুর্দি বিরোধী আরেক সংগঠন কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি বা পিএকে বলেছে, রবিবার এরবিলের কাছে তাদের একটি ঘাঁটিও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েল এবং উত্তর ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে।

যুদ্ধবিরতি কি কার্যকর আছে? 

৮ই এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তার পরপরই এটি চাপের মুখে পড়ে। যুদ্ধবিরতির দুই দিন পর ১০ই এপ্রিল কুয়েত জানায়, সাতটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। 

কুয়েত তখন ইরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ওই হামলার জন্য দায়ী করে।

যুদ্ধবিরতির চার দিন পর, ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে যাওয়া-আসা করা সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

১৮ই এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী দুটি ভারতীয় জাহাজে গুলি চালায়। ইরানের দাবি ছিল, জাহাজ দুটি জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি নেয়নি।

২০এ এপ্রিল উত্তেজনা আরও বাড়ে, যখন মার্কিন বাহিনী উপসাগরের কাছে একটি ইরানি কনটেইনার জাহাজ আটক করে। 

ইরান একে “দস্যুতা” বলে অভিহিত করে।

ডনাল্ড ট্রাম্প

২২এ এপ্রিল আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজে গুলি চালায় এবং দুটি বিদেশি কনটেইনার জাহাজ আটক করে। 

ইরানের দাবি, জাহাজগুলোর প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি ছিল না।

পরবর্তীতে ৪ই মে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে। সেই হামলায় ফুজাইরাহর একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে এবং তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।

এরপর ১৭ই মে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানায় ড্রোন হামলায় আগুন লাগার পর নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি ইরানকে দায়ী করেনি, তবে বলেছিল, ড্রোনগুলো তাদের “পশ্চিম সীমান্ত” থেকে ছোড়া হয়েছিল। 

একই দিন সৌদি আরব জানায়, ইরাকি আকাশসীমা থেকে ছোড়া তিনটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে, যদিও ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করেনি।

২৮এ মে সেন্টকম জানায়, মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। 

তাদের দাবি,  সেখান থেকে ষষ্ঠ ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল।

অন্যদিকে কুয়েতগামী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহতের দাবি করে কুয়েত।

আইআরজিসি পরে দাবি করেছে, তারা বন্দর আব্বাসে হামলার জন্য দায়ী মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করেছে।

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেয়, এ ধরনের হামলা আবার হলে আরও “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে।

সমঝোতার আলোচনা কোথায় দাঁড়িয়ে

যুদ্ধবিরতির পরও এমন পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি ভালো চুক্তি করতে চায়। 

রবিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ না করলেও বলেন, ইরান “সত্যিই একটি ভালো চুক্তি করতে চায়”।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের কয়েকটি শর্ত পরিবর্তন করতে চাইছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প সর্বশেষ প্রস্তাবে শর্ত আরও কঠোর করেছেন এবং নতুন কাঠামো ইরানের বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আরও জোর দিতে চান।  বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিয়ে কী করা হবে সে প্রশ্নে আরো জোর দিতে চান ট্রাম্প।  

রবিবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প তার সমালোচকদের উদ্দেশে লেখেন, “শুধু বসে থাকুন এবং আরাম করুন, শেষ পর্যন্ত সব ভালো হবে। সব সময়ই হয়।”

ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হলো ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে। 

যুদ্ধের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ হতো।

ইরানের অবস্থান

ইরান বারবার বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। 

২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান কঠোর। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স প্রণালির ওপর দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে। 

তারা সতর্ক করে জানায়, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে চলাচলের নিয়ম না মানলে বিদেশি বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

সুফান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কলিন ক্লার্কের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি ব্যবহারযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “ইরানিরা জানে, এটা তাদের জেতার কার্ড।” তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে আঘাত করা, মাইন বা কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রণালি বন্ধ করা,  এসবের মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

হরমুজ প্রণালি

ক্লার্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে এই পরিস্থিতি বহুবার যুদ্ধ-অনুশীলনে পরীক্ষা করা হয়েছে। 

এমন পরিস্থিতির প্রভাব, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের পরিণতি এবং কীভাবে তা এড়ানো যায়, সেসব নিয়ে একাধিক বিশ্লেষণ করা যায় বলেও মত দেন তিনি।   

তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে ইরান সম্পূর্ণ ভিন্ন ঝুঁকির অঞ্চলে চলে যাবে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা  এটি তেহরান দীর্ঘ সময় ধরে করতে পারে।

‘আলোচনা চলছে, তবে নিশ্চিত কিছু নয়’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “সংলাপ চলছে “ সরকারি পর্যায়ে দুই পক্ষের কথাও চলছে। 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিষ্কার কোনো ফল না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, এখন যা বলা হচ্ছে তার বেশিরভাগই অনুমান, নিশ্চিত হওয়ার আগে এগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পুনর্নির্বাচিত পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আরও কঠোর সুরে বলেছেন, ইরানের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত না হলে তেহরান কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না।

তিনি বলেন, “শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা নেই। আমাদের একমাত্র মানদণ্ড হলো, আমরা পাল্টা কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে বাস্তব ফল দেখতে চাই।”

কেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করছে না ইরান

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভির মতে, ভাঙা চুক্তি এবং আলোচনার মাঝেই সামরিক হামলার অভিজ্ঞতা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসী করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ইরানি সূত্রদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শুনেছেন, “আমরা প্রতিবার আলোচনায় যাই আঙুল ট্রিগারের ওপর রেখে, আকাশ থেকে বোমা পড়বে এমন আশঙ্কা নিয়ে।”

মোর্তাজাভির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক পদক্ষেপ ইরানের কাছে যুদ্ধ ঘোষণার মতো মনে হয়েছে। এর মধ্যে আছে ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা, গত বছরের পারমাণবিক আলোচনার সময় হামলা এবং বর্তমান সংঘাত।

তিনি বলছেন, দুই যুদ্ধ, অঞ্চলে বিপুল ধ্বংস, কোনো অর্জন নেই-আর লক্ষ্যও বারবার বদলানো হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে?

সব মিলিয়ে ট্রাম্প যখন বলছেন, ইরানের সঙ্গে ভালো চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র, তখন বাস্তবতা হলো। উভয় পক্ষই সামরিকভাবে সক্রিয়। হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় ঘাঁটি, ড্রোন হামলা, নৌ অবরোধ এবং পারমাণবিক উপাদান- সবকিছু মিলিয়ে আলোচনার টেবিল এখন যুদ্ধক্ষেত্রের চাপ থেকে আলাদা নয়।

ট্রাম্পের জন্য এই মুহূর্তে চুক্তি দরকার যেন তিনি রাজনৈতিকভাবে নিজেকে জয়ী দাবি করতে পারেন। 

ইরানের জন্য দরকার এমন নিশ্চয়তা, যাতে তাদের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সার্বভৌম অধিকার রক্ষা পায়। তবে পাল্টাপাল্টি হামলা, অবরোধ এবং আস্থাহীনতা-এই তিন বাস্তবতা সমঝোতার পথকে কঠিন করে তুলছে।

 (আল-জাজিরা অবলম্বনে)