ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ নয়, বড় সংঘাত চীন-আমেরিকার

ইরান-আমেরিকার বর্তমান সংঘাতকে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দুই দেশের সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে দেখছে। তবে চীনা বিশ্লেষক অধ্যাপক জিয়াং শুয়েকিনের মতে, এই ফ্রেমটি ঠিক নয়।  তার দাবি, ইরান আসলে এমন এক কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ শুধু তেহরানকে নয়, বেইজিংকেও সংঘাতের ভেতরে টেনে আনছে। 

তার ভাষায়, এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়; বরং জ্বালানি, বাণিজ্যপথ, প্রযুক্তি, ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে কেন্দ্র করে চীন-আমেরিকার বৃহত্তর সংঘাতেরও নতুন এক ধাপ।

প্রফেসর জিয়াং শুয়েকিন মনে করেন, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধকে শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে দেখলে আসল ছবিটা ধরা যাবে না। তার বিশ্লেষণে, ইরান এমন এক “ফাঁদ” তৈরি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত রেখে একই সঙ্গে চীনের কৌশলগত স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে সরাসরি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। 

তার মতে, এই যুদ্ধের প্রকৃত তাৎপর্য যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং বিশ্বশক্তির পুনর্বিন্যাসে। 

দাবার ‘ফর্ক’ চাল

এই যুক্তি বোঝাতে জিয়াং দাবার “ফর্ক” বা দ্বিমুখী আক্রমণের উদাহরণ টেনেছেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরাসরি হারানো সম্ভব না হলে তাকে এমন অবস্থায় নেওয়া হয়, যেখানে সে একটি গুটি বাঁচাতে গেলে আরেকটি গুটি হারাবে। জিয়াংয়ের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক এই ধরনের অবস্থায় এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু এতে শুধু ইরানের ভবিষ্যৎ নয়, চীনের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কৌশলগত স্বার্থও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। 

তার বিশ্লেষণে, ফাঁদের আসল অর্থ এটাই, আমেরিকা যদি ইরানকে ভেঙে ফেলে, চীন হারাবে তার এক বড় অংশীদার; আর যদি ইরান টিকে থাকে ও চীনের সহায়তা পায়, তাহলে চীন-আমেরিকার সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে।

এই ব্যাখ্যার কেন্দ্রে তিনি চীন-ইরান সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। 

তিনি বলছেন, ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছরের একটি সহযোগিতা চুক্তি করে, যার অধীনে চীন ইরানে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, আর ইরান ২৫ বছর ধরে ছাড়মূল্যের তেল সরবরাহে সম্মত হয়। 

জিয়াং এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্য নয়, বরং গভীর কৌশলগত জোট হিসেবে পড়ছেন। 

দোটানায় চীন

চীন প্রতিদিন প্রায় ৫৪ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে আমদানি করে। অর্থাৎ চীনের শিল্প, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার বড় অংশ এমন এক জ্বালানি রুটের ওপর নির্ভরশীল, যেটির ওপর ইরানের বাস্তব প্রভাব আছে।

অধ্যাপক জিয়াং বলছেন, বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ইরান যদি আমেরিকাকে ব্যস্ত রাখে, তাহলে সেটি চীনের জন্য ভালো; কারণ এতে আমেরিকার সম্পদ ক্ষয় হবে। 

তবে তার দাবি, ব্যাপারটি এতটা সরল নয়। চীন কিছু না করলে ইরান হেরে যেতে পারে, আর সেটা হলে চীনের সস্তা তেল, ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড করিডর এবং মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে তোলা বড় কৌশলগত উপস্থিতি ধাক্কা খাবে। 

আবার চীন যদি ইরানকে সরাসরি বা বড় আকারে সাহায্য করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষের পথ খুলে যাবে। জিয়াংয়ের মতে, এই দুই পথের একটিতেও চীন নিরাপদ নয়। 

এটিই তার ভাষায় “ফর্ক”। যুক্তরাষ্ট্রের আঘাতে ইরান কেবল নিজের জন্য লড়ছে না; সে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে চীনও অনিবার্যভাবে চলে আসছে সংঘাতের ভেতরে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প (বামে) ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং

তিনি আরও বলেন, চীন এই ঝুঁকি বুঝেই আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। তার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে চীন তেলের আমদানি ১৬ শতাংশ বাড়িয়ে মজুত গড়ার চেষ্টা করেছে। 

কিন্তু কোনো মজুতই অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। 

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে আংশিক বন্ধ বা অস্থির থাকলে জ্বালানির দাম বাড়বে, আর তাতে চীনের অর্থনীতিতেও চাপ পড়বে। তার দাবি, তেলের দামে প্রতি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি চীনের জিডিপি প্রায় ০.৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। 

আর এটা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা একটি অর্থনীতির জন্য এটি বড় কৌশলগত ব্যয়। অর্থাৎ, তার পাঠ অনুযায়ী, চীন যুদ্ধ না করেও এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ধাক্কা খাচ্ছে।

জিয়াংয়ের বিশ্লেষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো “escalation dominance” বনাম “escalation control”। 

তার মতে, আমেরিকার কৌশল হলো, সে এত বেশি সামরিক শক্তি দেখাবে এবং এত উঁচুতে সংঘাত বাড়াতে পারবে যে প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে। অন্যদিকে ইরান ও চীনের পদ্ধতি হলো, সংঘাতকে প্রতিটি ধাপে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে প্রতিটি বাড়তি পদক্ষেপে প্রতিপক্ষের খরচ বেশি হয়। 

জিয়াং বলছেন, যুদ্ধের স্থান যদি আমেরিকার কাছাকাছি না হয়ে চীনের ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে সরে যায়, তাহলে এই দ্বিতীয় কৌশলটাই কার্যকর হবে। তার মতে, চীনকে যদি সরাসরি যুদ্ধে যেতে হয়, যুদ্ধ হবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, অর্থাৎ চীনের বাড়ির কাছাকাছি। আর ভৌগোলিকভাবে সেটি চীনের বড় সুবিধা।

 এই ফ্রেম থেকে তিনি আরেকটি বড় তর্ক দাঁড় করান: চীন হয়তো প্রকাশ্যে যুদ্ধে নামেনি, কিন্তু নিরপেক্ষও নয়। তার দাবি, চীনা কোম্পানি ও প্রযুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, উপগ্রহ-তথ্য, ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষমতা, নেভিগেশন এবং ডুয়াল-ইউজ সরঞ্জামে ভূমিকা রাখছে।

তার ভাষায়, নেভিগেশন, স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, চিপ তৈরির সরঞ্জাম, এমনকি ইরানি জাহাজে বহন করা কিছু উপাদান, এসব সবকিছুর মাধ্যমে চীন এক ধরনের “যুদ্ধ-সহায়তা” দিচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষতার ভাষা বজায় রাখছে। 

তিনি একে ছায়াযুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ সরাসরি সেনা না পাঠিয়ে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও তথ্যের মাধ্যমে সংঘাতে ভূমিকা রাখা। 

‘কৌশলগত শূন্যস্থান’ থেকে ‘কৌশলগত অতিবিস্তার’ 

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই ভূমিকাকে শাস্তি দিতে গেলে তাকে দ্বিতীয়, আরও বড় ফ্রন্ট খুলতে হবে, যা প্রশান্ত মহাসাগরে সরাসরি চীন-আমেরিকা সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করবে।

জিয়াংয়ের চিন্তায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘কৌশলগত শূন্যস্থান’। 

তিনি বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ভাবত, সোভিয়েত ইউনিয়ন কী করবে। সেই ভারসাম্য কিছুটা হলেও আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রিত রাখত।

তবে ১৯৯১-এর পর সোভিয়েত পতনের সঙ্গে সঙ্গে সেই বড় বাধা উঠে যায়। তার মতে, ইরাক, যুগোস্লাভিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, এসব জায়গায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ছিল এই ধারণা: বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি দাঁড়িয়ে নেই, তাই হামলা চালিয়েও বৈশ্বিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে না। 

জিয়াংয়ের মতে, ইরানের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র একই অনুমান করেছে, চীন সরাসরি সৈন্য পাঠাবে না, তাই ইরানে হামলা তুলনামূলক “নিরাপদ”।

তিনি বলছেন, এই অনুমান ভ্রান্ত, কারণ চীন সৈন্য পাঠায়নি ঠিকই, সংঘাতে তার পরোক্ষ অংশগ্রহণ ও কৌশলগত স্বার্থ এত বড় যে বিষয়টি আর একক আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকে না।

এই ব্যাখ্যা থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থাকে কৌশলগত অতিবিস্তার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। 

মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন?

যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ইরানকে বোমা মারছে, ইয়েমেনকে সামাল দিচ্ছে, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলার চাপ নিচ্ছে, তেলের দামে বৈশ্বিক অর্থনীতির ধাক্কা সামলাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে লড়ছে, আর সেই সঙ্গে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পথও এড়িয়ে যেতে চাইছে। 

এই সবগুলো চাপ আলাদা আলাদা সামলানো সম্ভব হলেও, সব একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে ছিঁড়ে ফেলছে বলে মনে করেন জিয়াং। 

সুয়েজে ব্রিটেনের পতন, হরমুজে কি আমেরিকার পালা?

তার বিশ্লেষণে, বহু সাম্রাজ্য একটি বড় যুদ্ধে হেরে নয়, বরং একসঙ্গে অনেক ফ্রন্টের চাপ সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে। 

উদাহরণ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কথাও টেনেছেন। যুদ্ধ জিতেও ব্রিটেন কয়েক দশকের মধ্যে উপনিবেশ হারায়, কারণ যুদ্ধের ব্যয়ই সাম্রাজ্যের ভিত দুর্বল করে দেয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের ক্ষয়ের পথে ঢুকে যেতে পারে।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু? 

প্রফেসর জিয়াং বলেন, বিশ্বযুদ্ধের আধুনিক রূপ হতে পারে এমন এক কাঠামোগত সংঘাত, যা বৈশ্বিক শৃঙ্খলা, জ্বালানি প্রবাহ, প্রযুক্তি-নির্ভর শক্তি, আর্থিক ব্যবস্থা ও বড় শক্তিগুলোর জোট-ব্যবস্থা নতুন করে সাজিয়ে দেয়। 

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই সেই ধরনের এক বড় সংঘাতের প্রাথমিক স্তরে ঢুকে পড়েছি। কারণ, তার মতে, ইরানের যুদ্ধ আসলে ইরানকে নিয়ে নয়; এটি দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বব্যবস্থার সংঘর্ষ। 

 একদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ডলার-নির্ভর, সামরিক ঘাঁটি-সমর্থিত বৈশ্বিক ব্যবস্থা; অন্যদিকে চীনের বহু-মেরুকেন্দ্রিক, বেল্ট অ্যান্ড রোড ও বিকল্প বাণিজ্য করিডর-ভিত্তিক কল্পনা। 

তার দাবি, এই দুই কাঠামো শেষ পর্যন্ত পাশাপাশি টেকসইভাবে থাকতে পারবে না।

এই প্রসঙ্গে তিনি অন্য বড় শক্তিগুলোর অবস্থানও টেনে আনেন। তার মতে, রাশিয়া কার্যত ইরানের পাশে, কারণ রাশিয়া জাতিসংঘে কূটনৈতিক কভার দিচ্ছে এবং ইরান টিকে থাকলে তারও লাভ। 

অন্য শক্তিগুলোর অবস্থান 

ভারত নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু ব্যাকচ্যানেল দিয়ে ইরানি তেল কিনছে এবং উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডরের অর্থনৈতিক সুবিধাও দেখছে। 

ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে আছে, তবে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ তেলের দামে ধাক্কা ইউরোপীয় অর্থনীতিকেও আঘাত করছে। 

তুরস্কও জটিল অবস্থানে, কারণ ন্যাটো সদস্য হলেও মধ্যপ্রাচ্যে তার স্বার্থ সবসময় আমেরিকার সঙ্গে মেলে না।

জিয়াংয়ের মতে, এই ছবি দেখায় যে সংঘাতটি দুই দেশের সরল যুদ্ধ নয়; বরং বহু শক্তির স্বার্থ জড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক পুনর্বিন্যাস।

বড় অস্ত্র হরমুজ

হরমুজ প্রণালিকে তিনি এই সংঘাতের সবচেয়ে শক্তিশালী “অর্থনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রফেসর জিয়াং।  

৩৩ কিলোমিটার প্রস্থের এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল চলাচল করে। চীনের তেল, ইউরোপের জ্বালানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পের জ্বালানি, সবই এ পথে যায়। ফলে ইরান যদি হরমুজকে পুরোপুরি না-ও বন্ধ করে, শুধু অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও বৈশ্বিক বাজারে তার অভিঘাত পড়ে

তার মতে, এটাই ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য, যুদ্ধকে কেবল সামরিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংঘাতে রূপ দেওয়া।

শেষ অংশে জিয়াং তিনটি বড় পূর্বাভাস দেন। প্রথমত, তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এমন এক সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির দিকে যাবে, যেটি বাইরে থেকে সমাধান মনে হলেও বাস্তবে হবে কৌশলগত পিছু হটা।

দ্বিতীয়ত, চীন এই যুদ্ধ থেকে তুলনামূলক শক্তিশালী হয়ে বের হবে, কারণ সে সরাসরি যুদ্ধ না করেও আমেরিকার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিজের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে পারবে। 

 তৃতীয়ত, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো ভাবতে শুরু করবে, যদি মার্কিন নিরাপত্তা-ব্যবস্থা তাদেরই শহর, পানি সরবরাহ আর তেল স্থাপনাকে ঝুঁকিতে ফেলে, তাহলে সেই নিরাপত্তা আদৌ কতটা মূল্যবান। 

জিয়াংয়ের মতে, এখান থেকেই পেট্রোডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থার ভিত কাঁপতে শুরু করবে।

তবে সব কিছু হুবহু এই পথে না-ও যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন এই। ইতিহাস সরলরেখায় চলে না। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, যে শক্তির টানাপোড়েন, জ্বালানি-নির্ভরতা, কৌশলগত চাপ ও বিশ্বব্যবস্থার দ্বন্দ্ব তিনি দেখছেন, তা বাস্তব। 

আর সেই কারণেই তার মতে, বর্তমান সংকটকে কেবল “ইরান বনাম আমেরিকা” বলে সীমাবদ্ধ করে দেখা হলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটির দিকটাই আড়ালে থেকে যাবে।

(জিয়াং শুয়েকিনের ভিডিও অবলম্বনে)