নির্বাচন ২০২৬: ধর্ম, বিষোদ্‌গারে কোণঠাসা উন্নয়ন আর প্রতিশ্রুতির বয়ান 

ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ, ইতিহাস গবেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার আলতাফ পারভেজ তার ফেইসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন- যেখানে বহু মানুষের ভিড়ে একজনের হাতে ধরা একটি দাঁড়িপাল্লা এবং পাঁচ শব্দের একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। ওই প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘ইন্টার পাস প্রধানমন্ত্রী চাই না’।

আলতাফ পারভেজ শনিবার দুপুরের ওই পোস্টে লিখেছেন, “ছবিটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পেজে এক ঘণ্টা আগে আপলোড করেছে। দলটির আমীরের আজ সকালে গাইবান্ধার জনসভায় ছবিটি তোলা। তারা নিজেরাই যেহেতু ছবিটি আপলোড করেছে সেকারণে এও বোঝা যাচ্ছে এটা তাদের একটা অফিসিয়াল পজিশন।”

তিনি লিখেছেন, “এ দেশের বহু অল্পশিক্ষিত মানুষ প্রবাসী শ্রমিক। পোশাক খাতের শ্রমিক। এদের পূর্ব পুরুষরাই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এরকম মানুষরাই যাত্রাবাড়ি, আশুলিয়া, গাজিপুর, উত্তরায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে।”

“১৯৭১ এ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যে জওয়ানরা প্রথম স্বাধীনতার লক্ষ্যে বিদ্রোহ করেছিল তাদের কতজন স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিলেন? জামায়াতের ঐ স্লোগান ও ব্যানারে বাংলাদেশের অতীত-বর্তমানের ঐ কোটি কোটি মানুষের প্রতি তীব্র এক বর্ণঘৃণা প্রকাশ পাচ্ছে কি না সেটা দলটির নেতৃবৃন্দকে বিবেচনা করতে অনুরোধ জানাই।”

গবেষক আলতাফ পারভেজের পোস্টের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেইসবুক পেইজে গিয়ে ওই ছবিটি অবশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। “ওরা ছবিটা সরিয়ে ফেলেছে,” আলাপ-কে বলেন আলতাফ পারভেজ।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু হতেই বাংলাদেশের রাজনীতির পুরোনো এক কৌশল আবার প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে। ভোটের মাঠে নীতির চেয়ে ন্যারেটিভ বড়, দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে বড় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা।

প্রচারের বিরাট জায়গা দখলে নিয়েছে ধর্ম। ‘কাফের’, ‘শিরক’, ‘বেহেস্তের টিকেট’ - এমন শব্দমালা ব্যবহার করা হচ্ছে হরহামেশা। প্রশ্ন উঠছে, মানুষের আবেগ উসকে দেওয়ার সহজ হাতিয়ার হিসেবেই কি ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে?

প্রচারের মাঠে ঘুরছে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি আর বাহাস - কে কাকে বেশি অপমান করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা।

এই বাগ্‌যুদ্ধে যেন হারিয়ে যাচ্ছে কর্মসংস্থান বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি কমানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ে ভোটপ্রার্থী দলগুলোর সুস্পষ্ট অবস্থান।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-ভোটের প্রচার কি শুধুই বিরোধীদের আক্রমণের জায়গা? নাকি জনবান্ধব কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও দায়বদ্ধতা তুলে ধরার প্রতিযোগিতা?

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক খান রবিউল আলম বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যে না বুঝে কথাগুলো বলছে তা নয়। এটা হচ্ছে তাদের একটা পপুলার রাজনৈতিক কৌশল। তবে এটা ভালো কিছু না, ভালো কিছু দেয় না।”

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “এটা আমাদের রাজনীতির অনেকটা দেউলিয়াত্ব বলা যায় আরকি। রাজনীতির নামে যেটা হচ্ছে, সেটাকে নোংরামিও বলতে পারেন।”

ভোটের প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে জনতুষ্টিবাদ

একসময় বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভোটের জরিপে এগিয়ে থাকা বিএনপিকে টক্কর দিতে চাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

‘জামায়াতে ভোট দিলে বেহেশত নিশ্চিত' এমন বক্তব্যের একটি বক্তব্য আলোচনা চলছিল আগে থেকেই, সেই আলোচনায় নতুন সামনে আনেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার ভোটের প্রচার শুরুর পর সিলেটের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্যকেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না।”

“তাহলে কি দাঁড়ালো? নির্বাচনের আগেই একটি দল, এই দিব, ওই দিব বলছে, টিকেট দেব। বলছে না? যেটার মালিক মানুষ না, সেইটার কথা যদি সে বলে... এক. শেরেকি করা হচ্ছে। হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু আল্লাহর একমাত্র, সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেইতো আপনাদেরকে ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকানো ঠকাবে আপনারা বোঝেন এবার।”

নরসিংদীর জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “এই যে কিছুদিন আগে ঢাকা শহরে ভূমিকম্প হলো না কয়েকবার? এখন যদি আমরা বলি এদের এইসব শেরেকির জন্য আল্লাহ সতর্কবার্তা দিচ্ছে আমাদেরকে। তাহলে? এদের এই মিথ্যাচার, এদের এই মোনাফেকি, এদের এই শেরেকির জন্য আল্লাহ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তোরা এইগুলো বন্ধ কর।

“কাজেই আসুন, এই শিরকিদের হাত থেকে, এই মুনাফেকদের হাত থেকে, এই ধোঁকাবাজদের হাত থেকে এই দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা কারা করতে পারবে? এবং রক্ষা কারা করতে পারবে? রক্ষা করতে পারবে একমাত্র এই দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ, এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যারা বিশ্বাস করে, একমাত্র তারাই এই দেশের জনগণ রক্ষা করতে পারে।”

তারেক রহমানের এই বক্তব্যের পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

“আমরা ধারণা করেছিলাম যে, উনি বিদেশে লন্ডনে গেছেন, লেখাপড়া করেছেন, কিছুটা পলিটিক্যাল ম্যাচিউরিটি হয়ত আছে। কিন্তু দেখিতো, উনিতো এখন বড় মুফতি হয়ে গেছেন। বিলেত থেকে মুফতি ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন যে কিডা মুশরিক আর কিডা কাফের।”

পারওয়ার বলেন, “এটা তার কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার বোধের সঙ্গে কথাটা যায় না। এটার জন্য আমরা তীব্র প্রতিবাদ করি।”

জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকার কথাও সামনে এনেছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছে, তমুককে দেখেছে। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাইবোনের ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। 

“যাদের ভূমিকার কারণে, এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহিদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মায়েরা তাদের সম্মানহানি হয়েছে। তাদেরকে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষেরা দেখেই নিয়েছে।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্লোগানের আলোচিত দুটি শব্দ হলো ভারত ও পাকিস্তানের দুই শহর ‘দিল্লি', 'পিণ্ডি’। তারেক রহমান তার বক্তব্যে এই প্রসঙ্গও টেনেছেন।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমরা অতীতে কী দেখেছি? কিছু হলেই পাশের এক দেশে চলে যায় কেউ কেউ, চলে যায় না? এখনও চলে গিয়েছেন। আবার গতকালকে আমরা দেখেছি যে, এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল? কোথায় পালিয়ে গিয়েছিল জানেন? পিন্ডি পালিয়ে গিয়েছিল।

“এই যাদের কথা, ষড়যন্ত্র করছে বললাম; এই বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন কথা বলে, তাদের এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল পিন্ডিতে। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।”

মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “এই ফেইসবুকে দেখেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে একটি সংবাদ, কী সেই সংবাদ? মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড নিয়ে মোবাইল নম্বর নিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে একটি দল, দেখেছেন? একটি দল বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে।

“আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে। এখন এই দেশে আরেকটি রাজনৈতিক দল এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।” 

তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের কথা তুলে ধরেছেন বিভিন্ন জনসভায়। এছাড়া কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বসে নেই বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আক্রমণ করেছেন দলটির আমীর শফিকুর রহমান।

“ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নাই। আপনারা সবাই ভাই-বোনেরা আমাদের কার্ড,” বলেন তিনি।

এক জনসভায় তিনি বলেন, “দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনোকিছু সমাধান হবে? তাদের হাতে খয়রাতি কোনোকিছু তুলে দিয়ে তাদেরকে অপমান করতে চাই না।”  

“আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনোকিছু সমাধান হবে? আর আমার ভাই নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে। খাজনা আগে, তারপরে অন্যটা। দুই হাজারের এক হাজার আমার খাজনা, আমাকে আগে দাও, তারপরে তোমারটা তুমি বুঝে নাও।”

জামায়াতের আমীর বিএনপিকে লক্ষ্য করে আরও সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, “যারা নিজেদের দলের লোকদেরকে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যা- এগুলো থেকে নিজের কর্মীদের যারা বিরত রাখতে পারবে, আশা করি আগামীর বাংলাদেশ তারা জনগণকে উপহার দিতে পারবে।”

“আর যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্ন জাতিকে দেখাবেন, তাদের এই মতলব বুঝতে জাতির মোটেও কোনো অসুবিধা হবে না।” 

কেন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আলতাফ পারভেজ ও খান রবিউল আলম বিশ্লেষণ করেছেন, ভোটের প্রচারের কৌশলের নেপথ্যে আসল কারণগুলো কী কী?

এক সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক জোট ছিল, যাদের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী হয় কারাগারে, নয়তো পলাতক।

দলের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা রয়েছেন ভারতে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি ভোটে অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা আরও ডজনখানেকের বেশি দল ভোটের মাঠে অনুপস্থিত।

আর এই শূন্যতায় একসময় বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দশ দলীয় জোটের নেতৃত্বে রয়েছে দলটি।

আর ভোটের জরিপে এগিয়ে থাকা বিএনপিকে টক্কর দিতে চাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ভোটের প্রচারে ধর্ম ও ব্যক্তিগত আক্রমণ কতটা শোভনীয়?

খান রবিউল আলম বলেন, “আমাদের নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার অনেক পুরোনো এবং এটা হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বলতম জায়গা। যেহেতু সমাজে ধার্মিকতার প্রসার অনেক বেড়েছে। সমাজের ভালো কি মন্দ সেটা প্রশ্ন না। প্রশ্নটা হচ্ছে, সমাজে ধর্মের উপস্থিতিটা অনেক সরব হয়েছে।”

“ফলে রাজনৈতিক দলগুলো এই সূক্ষ্ম ব্যাপারটাকে টাচ করে তাদের অবস্থানটাকে সক্রিয় করতে চাচ্ছে।”

“তাদের এজেন্ডা বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা এবং শিক্ষা, জ্বালানি ও পররাষ্ট্র নীতি কী- এই সমস্ত প্রসঙ্গে আমরা কোনো আলোচনাই দেখছি না।”

রবিউল আলম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণা এমন একটা ডিশ, সেখানে সব ধরনের রেসিপিই থাকবে। মানুষের যেটা পছন্দ হবে, সেই রেসিপিটা তারা নেবে। কিন্তু আমাদের এটা ওয়ান-আইটেম ডিশ হচ্ছে।”

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণার কৌশলে একজায়গায় সাদৃশ্য দেখছেন গবেষক আলতাফ পারভেজ।

“দুই দলই বাজার অর্থনীতির সমর্থক। এই দুই দল দীর্ঘসময় জোটে ছিল একসঙ্গে। একসাথে ক্ষমতায়ও ছিল। তাদের ভেতরতো আসলে সমাজের মৌলিক ইস্যুগুলো নিয়ে তেমন বিভেদ নেই,” বলেন তিনি।  

“ফলে তারা সাংস্কৃতিক নানা ইস্যু এনে পরস্পর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখাতে চাইছে। মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা আমেজ গড়ে তুলতে চাইছে কালচারাল ওয়ারের নামে।”

আলতাফ পারভেজ বলেন, পলিসি ইস্যুতে কোনো ডিবেট হচ্ছে না এখানে। নানা ধরনের ব্যক্তিগত ইস্যুতে আলাপ আলোচনা হচ্ছে; “কে উচ্চমাধ্যমিক পাস, কে ডিগ্রি পাস-এই নিয়ে।”

“এটা আমাদের রাজনীতির অনেকটা দেউলিয়াত্ব বলা যায় আরকি। এটার ভেতর কোনো ধর্ম নাই। ধর্মের লেশমাত্রও নাই। এটা অপরাজনীতি। রাজনীতির নামে যেটা হচ্ছে, নোংরামিও বলতে পারেন,” বলেন তিনি।

এই ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, “যেহেতু নির্বাচনটা এখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে না। এখানে অনেক দল, অন্তত বড় অনেকগুলো দলতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

“ফলে এটা তাদের জন্য একটা সুযোগ; রাজনীতিকে এই লেভেলে নামিয়ে এনে, জনগণকে বিভক্ত করে, ভোটের দিন তাদেরকে ভোট সেন্টারে নিয়ে, তাদের থেকে সম্মতি আদায় করে, তারপরে জনগণকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া।”

খান রবিউল আলম মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল নাগরিক বোধ ও অধিকারটাকে সমুন্নত রাখার বিষয়ে কার কত স্মার্টনেস আছে, সেটা শো করা। যেমন আইসিটির কী হবে, আমাদের অনেক লোক বেকার, অর্থনৈতিক নীতির কী হবে?

“আমাদের নির্বাচনে দুটো ঘটনা ঘটে। প্রচার যারা করছে তাদের টোন দেখবেন। তারা সুরেলা কণ্ঠে কথা বলেন, রেগে কথা বলেন- যেটা তার নরম্যাল ভয়েস না। যখন সে মাইক্রোফোনে আসছে, তখন সে অ্যাবনরমালিটি নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। লম্বা সুর করে করে কথা বলছে, জোর দিয়ে দিয়ে কথা বলছে, রেগে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অডিয়েন্সের সামনে রেগে যাওয়ার কিছু নাই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে, যা ঠান্ডা মাথায় ভাল করে বলা যায়। কিন্তু এগুলো হচ্ছে আমাদের রেটোরিক্যাল প্যাটার্ন। মানুষ মনে করে যেন, রেগে গেলেই কথার গুরুত্বটা দেবে।”

আর এইভাবে কথা বলাটা বাংলাদেশের ‘জনপ্রিয় রাজনৈতিক কৌশল’ বলে মনে করেন খান রবিউল আলম।