সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়ে রবিবার লেখা হয়েছে, “শক্তিশালী নীতিগত অবস্থান ও হস্তক্ষেপের জন্য পরিচিত সাবেক এই মন্ত্রী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর থেকে নির্বাচিত লোকসভার সাবেক সদস্য।”
শুরু থেকেই বাংলাদেশে পেশাদার কূটনীতিক পাঠানো হলেও এবার সেই রেওয়াজ ভেঙে বের হতে চাইছে ভারত।
একজন ‘অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ’ বা ‘প্রশাসক’কে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠানো হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে ‘সম্ভবত’ ব্রাসেলস-এ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
আর প্রণয়ের উত্তরসূরি খুঁজতে দিল্লির ‘অন্দরমহলে’ প্রতিনিধি বাছাইয়ের কাজ চলছে।
এর আগে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বিহার ও কেরালার সাবেক গভর্নর এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খানকে বাংলাদেশে হাই কমিশনার করে পাঠানো হতে পারে বলে খবর দিয়েছিল দেশটির একাধিক গণমাধ্যম।
এবার সেখানে দীনেশের নাম এলো।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের দূত হয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছেন পশ্চিমবাংলার দীনেশ ত্রিবেদী। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না-ঘটলে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব মিটলেই দীনেশকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে অনেক চিন্তাভাবনার পরই দীনেশকে ওই পদের জন্য বাছাই হয়েছে বলে সূত্রের খবরে জানিয়েছে আনন্দবাজার।
দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-’৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সাংসদ ছিলেন।
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করলে দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন দীনেশ। ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে জেতার পর মনোমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়েন। তখন রেলের দায়িত্ব পান দীনেশ। কিন্তু মমতার সঙ্গে দ্বন্দ্বে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তিনি আবার তৃণমূলের প্রার্থী হন। কিন্তু সে বার বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাঁকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়।
এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হলে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন।
এনডিটিভি লিখেছে, “রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন রাজনীতিককে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। সাধারণত এই পদে ভারতীয় ফরেইন সার্ভিস-এর কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়।”
“তার এই নিয়োগ থেকে বোঝা যায়, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার ইঙ্গিতও এতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে,” লেখা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।