নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের অভিযোগ 

একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের একথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিসেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, “আমরা খুব আশ্বর্যভাবে লক্ষ্য করছি এই গণনা কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনের যারা জড়িত আছেন, ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বিলম্ব করছেন।”

মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আমাদের এজেন্ট থেকে আমরা যে শিট পেয়েছি, সে অনুযায়ী,  ৮-৯টার মধ্যে ফল ঘোষণা করার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি।

“যে শিটে স্বাক্ষর দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা, তা পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্তত ৮টি শিটে ওভাররাইটিং হয়েছে। তারা দাবি করেছে যে সংশোধন করা হয়েছে।”

মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, “আমাদের কেন্দ্রগুলোর রেজাল্টশিট যোগ করে যে সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল, ওভাররাইটিংয়ের পর তা পরিবর্তন হয়েছে।  আমাদের এজেন্টদের কোনো কথা বলতে দেওয়া হয়নি।”

“ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যে প্রার্থী আছেন, সবগুলো কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করতে গড়িমসি করা হয়েছে।”-অভিযোগ করেন মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মনে হচ্ছে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও তার সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন, তার ষড়যন্ত্রে জড়িত আছেন।”

সারাদেশেও একই ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিলোপে ১৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা আবার এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চাই না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই যে তারা প্রক্রিয়া করছেন। তারা একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে এই কাজ করছেন।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত রুখে দিবো। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবো।”

মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছি। সংবাদকর্মীদের জানিয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম এরপর হয়তো নির্বাচন কমিশন বা এর সঙ্গে যারা আছেন তাদের বোধদয় হবে, দায়িত্বপালন করবেন। স্বৈরশাসকের মতো কোনো আচরণ করবেন না।”

অথচ ইসি বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে অভিযোগ করেন  জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে  কথা বলে নিজেদের পরবর্তী কর্মসূচি জানাবেন বলেও জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এদিন নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক।

ভোট বাতিল ও কারচুপির অভিযোগ জানাতে মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হন তিনি।

তিনি জানান, তার আসনের অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ২০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১২৭টি আসনে কত ভোট বাতিল হয়েছে, তার সঠিক হিসাব এখনো জানা যাচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, যা নিয়ে তাদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।