‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’-এর রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াতের আমীর

জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শিরোনামে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার জামায়াতের ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠানে এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, স্থিতিশীলতা। এ পথচলায় নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মর্যাদার। যেখানে থাকবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি।

সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয় বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”

ভবিষ্যত বাংলাদেশে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন জামায়াত আমীর।

তিনি বলেন, “নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।”

নারীরা এখনো নানা কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের আমীর জানান, অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।

অর্থনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানান।

ধীরে ধীরে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য একটি সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন।”

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।”

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় পার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে এখনও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করে জামায়াত।

এজন্য ভবিষ্যতের বাংলাদেশ, রাষ্ট্র ও নাগরিক এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ অংশে জামায়াতের আমীর বলেন, “ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।”