নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি।
বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান লড়াই বন্ধ করার পাশাপাশি, এই চুক্তিতে উভয় পক্ষের সামরিক চলাচল বন্ধ রাখা এবং সামরিক উদ্দেশ্যে একে অপরের আকাশসীমা লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪এ জুলাই একদফা সংঘাত শুরু হয়। চারদিন ধরে চলা সংঘাতে একাধিক প্রাণহানি হয়েছিল। ২৮এ জুলাই মালয়েশিয়া ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ট্রাম্প সেসময় হুমকি দিয়েছিলেন যে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া রাজি না হলে দেশ দুটির বাণিজ্যিক সুবিধা স্থগিত রাখা হবে।
জুলাইয়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। সবশেষ ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে আবারও সহিংসতা শুরু হয়। উভয় পক্ষই লড়াই শুরু করার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা আত্মরক্ষার্থে কাজ করছে।
এপিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ই ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে থাইল্যান্ডের ২৬ জন সেনা এবং একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। কম্বোডিয়া সামরিক হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে বলেছে যে ৩০ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অবশেষে শনিবার নতুন করে যুদ্ধবিরতি হলো। নতুন হওয়া এই চুক্তিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, উভয় পক্ষ জুলাই মাসের পাঁচ দিনের লড়াই শেষ হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী চুক্তিগুলো মেনে চলবে।
এছাড়া নতুন এই চুক্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ১৬টি পদক্ষেপের অঙ্গীকার রয়েছে।
এই ১৬টি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ল্যান্ডমাইন বা স্থলমাইন স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো মেনে চলা ও ভুল তথ্য বা ফেক নিউজ প্রচার করা থেকে বিরত থাকা।
একইসঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত চিহ্নিত করার জন্য আগে থেকে নির্ধারিত ব্যবস্থাগুলো পুনরায় চালু করা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয়পক্ষ।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ৭২ ঘণ্টা বজায় থাকার পর থাইল্যান্ড ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাবে, যাদের জুলাই মাসের লড়াইয়ের সময় থেকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এই বন্দীদের মুক্তি দেওয়া ছিল কম্বোডিয়া পক্ষের একটি প্রধান দাবি।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাদের দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছে। এই বিরোধ মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।