বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন

স্থবির বিনিয়োগ, সার্বিকভাবে চাপের মুখে অর্থনীতি—বিশেষজ্ঞরা যখন এমন কথা বলছেন, তখন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ করার পর সেখানে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন আসলে কতটা প্রতিফলিত হলো? 

নির্বাচনের আগে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো দরিদ্রদের সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আওতা বাড়িয়ে নতুন নতুন স্কিম চালু করা। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা কার্ডের আওতায় অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। 

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের কয়েকদিনের মধ্যেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার চালু করে ফ্যামিলি কার্ড, যে কার্ড পেলে মাথাপিছু ২,৫০০ মাসিক ভাতা মিলবে দরিদ্র পরিবারের একজন নারী প্রতিনিধির। 

কার্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ‘ব্যাপকভাবে’ বরাদ্দ বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য বৃহস্পতিবার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারই প্রথমবারের মতো বাজেট দিলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভারও প্রথম বাজেট এটি। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বাজেট দিলো দুই দশক পর। 

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে শুধু সামাজিক নিরাপত্তাই নয়, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ফুটে উঠেছে অন্যান্য খাতের আয় ব্যয়েও। বিপুল বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে, কর্মসংস্থান বাড়াতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বেড়েছে ব্যয়ের প্রস্তাব, প্রতিশ্রুতির মতোই বিরাট বরাদ্দের বহরও উন্নয়ন বাজেটেও।

কিন্তু ব্যয় প্রস্তাবের কতটা বাস্তবায়ন হবে, অর্থ সংকুলানই বা হবে কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।  

“বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে- ২০ বছর আমরা এসেছি। সমাজের সকল শ্রেণিকে, প্রত্যেকটা খাতকে আমরা টাচ করতে চাই,” আলাপ-কে বলেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশীদ।  

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের কথা ফুটে উঠেছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়। 

নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ তিনি করে বলেন, “আমরা গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার উপস্থাপন করেছিলাম।

“সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছি,” যোগ করেন তিনি।       

বাজেটের রাজনৈতিক দর্শন 

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে রয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া। বাজেটেও উঠে এসেছে ‘উচ্চাভিলাষী’ এই লক্ষ্য।   

মাত্র আট বছরের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমানের জিডিপি আকার দ্বিগুণ করতে হবে। এজন্য প্রতিবছর ডাবল ডিজিটের প্রবৃদ্ধি দরকার। 

চলতি বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

তাই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পৌঁছানো নিয়ে যেমন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠছে এবারের বাজেট লক্ষ্য পূরণ নিয়েও। 

“৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য অন্তত ১৬, ১৭ বা ১৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে,” আলাপ-কে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। 

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি সব রাজনৈতিক দলের অত্যন্ত পছন্দের। আবার এটা বাস্তবে রূপ দেওয়া সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। 

মে মাসের মূল্যস্ফীতি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। 

বিএনপিরও অন্যতম প্রতিশ্রুতি মূল্যস্ফীতি সহনীয় করা। বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে রাজনৈতিক সেই দর্শনের। 

অর্থমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা হবে। নামিয়ে আনা হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে।

কিন্তু জ্বালানি তেল, বিদ্যুত এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকার মধ্যে এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম কতটা টেনে ধরা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। 

বাজেটে ১০টি বিষয়কে ‘প্রধান অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সরকার। এগুলো হলো- সবার জন্য উন্নয়ন, সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসার পরিবেশ।  

এছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ, প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা। 

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে তারা। ক্ষমতায় গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষার খাতে বরাদ্দের মাধ্যমে।   

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। 

চলতি বছর এই বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

একইভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ও পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতে আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি। এসবের মধ্যে ছিলো বরাদ্দ বাড়ানো, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড এবং বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া। 

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। চলতি বাজেটে এর পরিমাণ জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। 

বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘চেষ্টা’ করেছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এই ব্যয়বৃদ্ধিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছেন ঢাকাভিত্তিক থিংক ট্যাংক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আহমাদ আহসান। 

“আমি বলবো, বেশ কিছুটা চেষ্টা করছে। মানব সম্পদ উন্নয়ন- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে তারা অনেক জোর দিয়েছে। এটা প্রশংসনীয়,” আলাপকে বলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই লিড ইকনোমিস্ট। 

তবে বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন, বরাদ্দ দেওয়া হলেও বছর শেষে তা বাস্তবায়ন হয় না। 

“শিক্ষায় বেশিরভাগটাই হলো শিক্ষকদের বেতন। টিআইবির হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি প্রথমে পুলিশ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ এবং তারপর শিক্ষা ফ্যাসিলিটিজে। শিক্ষাক্ষেত্রে বেশিরভাগ দুর্নীতির টাকা।” 

মামুন রশীদ আরো বলেন, “স্বাস্থ্যের বাজেট প্রতিবার ফেরত যায়, যাই বরাদ্দ করা হোক। তারা এটা ব্যবহার করতে পারে না এতো দুর্নীতির পরেও।”   

বিএনপির সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ছিলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে। এই খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৬ শতাংশ। 

চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১৪ হআজার কোটি টাকা। 

আহমাদ আহসান বলেন, “সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপারে তারা (বিএনপি সরকার) নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, অভিনব উপায় নিয়েছে। সেগুলোও তাদের ইশতেহারের মধ্যে ছিলো।”

“আমি বলবো, তাদের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। তাদের ঐতিহ্যও আছে। খালেদা জিয়ার অবদান ছিলো নানা বিষয়ে। মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে আমি বলবো সেই ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে,” যোগ করেন এই গবেষক।

আহমাদ আহসান বলেন, “এছাড়াও তাদের নানা উদ্যোগ আছে। যেমন রিনিউয়েবল এনার্জি। এটা কতটুকু রাজনৈতিক তা আমি বলতে পারবো না। তবে এগুলো ভালো লক্ষন।” 

কিন্তু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ‘যথাযথ’ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। দরিদ্রদের সহায়তার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগও পুরোনো। তাই এটাকে আরও ‘সুসংহতভাবে’ বাস্তবায়নের পরামর্শও এসেছে।   

আহমাদ আহসান বলেন, “সামাজিক সুরক্ষায় আমরা যে ব্যয়গুলি করি, সেটা খুব সমন্বিত না এবং সেখানে কার্যকারণ নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সরকার ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড এনেছে অভিনবত্ব উপায়ে, এটার মাধ্যমে আমি আশা করেছিলাম বা করছি সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্র তারা আরো ভালো করে সংগঠিত করবে এবং সেক্ষেত্রে এতো ভাতা না বাড়িয়ে এটার স্বচ্ছতা বেশি প্রয়োজন।” 

“আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের অবকাঠামো সংরক্ষণ, মেরামতের ক্ষেত্রে অনেক অবহেলা রয়েছে। যে পরিমাণ ওখানে বাজেট দেওয়া দরকার, তার এক-তৃতীয়াংশ পায়। এখানে যদি আমরা অবকাঠামো সংরক্ষণ, মেরামতের কাজকে যোগ করতে পারি, তাহলে অবকাঠামো ও চাকরির ব্যাপার দুইটাই একসঙ্গে করা যাবে।” 

আগামী পাঁচ বছরে দেশে মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে বাজেটে লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপি বিনিয়োগের অনুপাত কমে ২৭.৯৩ শতাংশে নেমেছে। 

পাঁচ বছরের মধ্যে ৪০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? 

আহমাদ আহসান বলেন, “আমরা যদি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ফেরত আসতে চাই, তাহলে এই ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে সেটা করতে হলে অংকের ব্যাপার না, পরিবেশের ব্যাপার।” 

“বিদেশি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি-এটা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। পাঁচ বছর পর ৪০ ভাগ বিনিয়োগ হবে, ওটা উচ্চাভিলাষী। ঠিক আছে, আমরা উচ্চাভিলাষী হয়ে যদি অনেকদূর এগোতে পারি, সেটা ভালো কথা।” 

আহমাদ আহসান বলেন, “তবে ব্যবসার পরিবেশ, বিনিয়োগের পরিবেশটাও কিন্তু জরুরি। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ও শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ আমাদের দেশে খুব বেশি দরকার।” 

‘বিশাল’ বরাদ্দের অর্থ আসবে কোথা থেকে

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তার মানে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

ঘাটতি মোকাবিলা করে সরকারকে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থ জোগাড় করতে হবে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎসের অর্থায়ন থেকে, যা পাওয়াটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

মামুন রশীদ বলেন, “উনারা (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছে। আমি মনে করি, সর্বোচ্চ লেভেলে একটা সিনসিয়ারিটি আছে। কিন্তু কী তরিকায় মেলাবো অঙ্কটা, তরিকাটা ক্লিয়ার না। তরিকাটার সবচেয়ে বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হচ্ছে, বিদেশি সূত্র হতে অর্থ সংগ্রহ।”  

“পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকা। মানে ২০ শতাংশ। এটা টেনে তোলা খুব কঠিন। রেকর্ড নাই। এই অবকাঠামোতে আমাদের রাজস্ব ২০ শতাংশের বেশি তোলা খুব কঠিন।” 

ঘাটতি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে মামুন রশীদ বলেন, “তারমধ্যে বিরাট অংশ আসবে বৈদেশিক ঋণ থেকে। যদি আইএমএফ তার নতুন ঋণটা তাড়াতাড়ি না দেয়… একটা রঙ মেসেজ অলরেডি চলে গেছে। তার ফলে বিদেশি ঋণ আনা অনেক কঠিন হবে।” 

“তাহলে কী হবে? ওই ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা দেশি সূত্র থেকে মেলাতে হবে, কিংবা তার সামান্য কম। এটা করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টাকা পাবে না। যদি চাপাচাপি চিল্লামিল্লি করে, তখন তারা নোট ছাপাবে। এটা হলো কফিনে শেষ পেরেক।”  

বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আহমাদ আহসানও। “এভাবে ব্যয় বৃদ্ধিও এক ধরনের চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। ঠিকমতো বাস্তবায়নের ব্যাপারও সরকারকে ঠিকমতো দেখতে হবে।” 

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেখা গেছে। 

তবে ‘উচ্চাভিলাষী’ লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কার্যকর রাজস্ব আহরণ, বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সুশাসন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তাই বাজেটকে বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ বলা গেলেও, বাস্তবায়ন কতটা হবে তা জানতে অপক্ষো করতে হবে বলে মনে করছেন তারা।