বাড়ির কাছেই ছিল আফনান। শীতের সকালে দাদার সাথে নাস্তা আনতে যাচ্ছিল। আশেপাশে সবই পরিচিত। মানুষ, গাছপালা, নদী। অপরিচিত ছিল শুধু একটা বুলেট।
যুদ্ধ-বিগ্রহ আর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বোঝার বয়স হয়নি। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে ছুটে আসা বুলেটবিদ্ধ হয়ে ৯ বছর বয়সী হুজাইফা আফনান এখন লাইফ সাপোর্টে।
মিয়ানমার সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আফনানদের বাড়ি। রবিবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল গ্রামের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বুলেটে আহত হয় আফনান।
গত কয়েকদিন ধরেই টেকনাফের উল্টোদিকে রাখাইনে গোলাগুলি আর মর্টারের শব্দে থেমে থেমেই কেঁপে উঠছে এপারের ভূখণ্ড। সাতে পাঁচে না থেকেও, সেই গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আফনান।
আফনান গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিনই একই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন হানিফ নামের এক যুবক। তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যাংয়ের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা হানিফ। সোমবার সকালে সীমান্তঘেঁষা চিংড়িঘেরে গেলে সেখানেই মাইন বিস্ফোরণে আহত হন তিনি। এসব ঘটনায় নাফ নদীতে মাছ ধরাও কার্যত বন্ধ আছে।
দুই বছর আগের ঘটনা। ২০২৪ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি, মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মির সাথে জান্তার সংঘাত তুঙ্গে। প্রতিদিনই দুয়েকটা মর্টার শেল এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভেতরে।
ওপরে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে। নিচ থেকে ছোড়া হচ্ছে গুলি আর মর্টার। তেমন একটি মর্টার শেল উড়ে এসে পড়ল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের গ্রাম জলপাইতলী গ্রামের হোসনে আরার বাড়িতে।
ঘরের বাইরে খোলা রান্নাঘরে ভাত খাচ্ছিলেন নবী হোসেন। যিনি হোসনে আরার কৃষিজমিতে কাজ করতেন। মর্টার শেলের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান হোসনে আরা ও নবী।
ওপারের যুদ্ধে এপারে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও ঘটেছে। বলা হচ্ছে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’। কিন্তু রাখাইনের যুদ্ধের দাম কেন বাংলাদেশিদের দিতে হবে?
রাখাইনে ত্রিমুখী সংঘর্ষ
গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের উল্টোপাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এলাকায় থেমে থেমে ব্যাপক গোলাগুলি, মর্টারশেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পোস্টগুলোতে বিমান ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে সরকারি জান্তা বাহিনী। পাল্টা গুলি ও মর্টার শেল ছুড়ছে আরাকান আর্মি। অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী।
সীমান্তের খোঁজখবর রাখেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি চলেছে।
ওপার থেকে ছোড়া গুলি, মর্টার শেল এসে পড়ছে এপারে। বিকট শব্দে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও উখিয়ার পালংখালীর সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো কেঁপে উঠেছে। বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। অনেকে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় গেছেন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল বলছিলেন, “গ্রামের লোকজন আতঙ্কে আছে। কখন কোনদিক দিয়ে গুলি আসে কেউ জানে না। তাই অনেকেই ঘর ছেড়েছেন।
“নাফ নদীর বর্ডারে বেড়িবাধ আছে। সেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। তাদের সাথে মিয়ানমারের থাকা গ্রুপগুলোর গোলাগুলি হয়। ওপার থেকে আসা গুলিই এদিকে এসে পড়ে।”
রবিবার মিয়ানমার থেকে বিদ্রোহীদের একদল সদস্য বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন। যাচাই বাছাইয়ের পর অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৫৩ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মাইন বিস্ফোরণে হতাহত
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে যেখানে হানিফ আহত হয়েছেন সেখানে একটি চিংড়িঘেরে চাকরি করেন তিনি। সোমবার সকালে ঘেরের ঘাটে রাখা নৌকা দেখতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণ হয়।
সীমান্তে নজর রাখে এমন একাধিক সংস্থার সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাফ নদীর মাঝে বেশ কিছু জায়গায় চর বা দ্বীপের মতো তৈরি হয়েছে। এসব জায়গাসহ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইন থাকার শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাগুলো।
রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর হামলা ঠেকাতে এই মাইনগুলো আরাকান আর্মি পুঁতে রেখেছে বলেই তাদের ধারণা।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন ব্যক্তি মাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন। মারা গেছেন অন্তত পাঁচ জন।
সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে ২০২৫ সালে। মূলত ২০২৩ সালে রাখাইনে ‘অপারেশন ওয়ান জিরো টু সেভেন’ শুরু হওয়ার পর থেকে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্য বলছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২০২৩ সালে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন দুই জন বাংলাদেশি ও তিন জন মিয়ানমারের নাগরিক। ২০২৪ সালে নিহত হয়েছেন দুই জন রোহিঙ্গা। ওই বছর এক বাংলাদেশিসহ আহত হয়েছেন ছয় জন। ২০২৫ সালে আহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন। যার মধ্যে ১৫ জনই বাংলাদেশি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল বলছিলেন, “রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই আসা যাওয়া করে। এপারের অনেকে বিভিন্ন চোরাচালানের সাথে জড়িত তারাও আসা যাওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন।”
তবে শুধু চোরাচালানের সাথে জড়িতরাই যে আহত হচ্ছেন তা নয়। সীমান্তঘেঁষা জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়েও অনেকে আহত হচ্ছেন। অধিকাংশই পা হারিয়েছেন।
মোহাম্মদ শাহজালালের মতে, “সীমান্ত লাগোয়া যেসব খেত, মাছের ঘের আছে সেখানে কাজ করতে নিয়মিত যেতে হয় বাসিন্দাদের। কেউতো আর জানে না যে কোথায় মাইন আছে কোথায় নেই।”
২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়িতে ৪০ নাম্বার সীমান্ত পিলারের কাছে টহল দিচ্ছিলেন বিজিবির নায়েক আক্তার হোসেন। সেসময় মাইন বিস্ফোরণে তিনি আহত হন। ২০ দিন পর তিনি মারা যান।
মাইন কী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অংশে নাকি বাংলাদেশের সীমানার ভেতর? এমন প্রশ্নের উত্তরে নাইক্ষ্যংছড়ির একটি ইউনিয়নের সাবেক একজন ওয়ার্ড মেম্বার জানান, “ওপারেতো আছেই। এপাশেও অনেক জায়গায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।”
“অনেক সময় গোপনে এসে ওপারের লোকজন নো ম্যান্স ল্যান্ডে এসে মাইন পুতে রেখে যায়। রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ঠেকাতে দিলেও এতে ক্ষতি হয়ে যায় বাংলাদেশিদের”, জানান ওই ওয়ার্ড মেম্বার।
বাংলাদেশ কী করবে?
ল্যান্ডমাইন বসানোর ঘটনাকে গর্হিত বলে অভিহিত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মিয়ানমারের জান্তাকে অ্যান্টি পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
বাংলাদেশও একাধিকবার মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কখনও বিষয়টি স্বীকারও করা হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যাযজ্ঞ চালাতে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ব্যবহৃত হয়।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, “সীমান্তে সাধারণত যে মাইন ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেটা অ্যান্টি পার্সোনাল মাইন।”
মিয়ানমারের গণমাধ্যমের খবর বলছে, আগে রাখাইনসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো মিয়ানমার বাহিনীর দখলে থাকলেও টানা যুদ্ধের পর সেসবের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদের মতে আরাকান আর্মির মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে যে মিয়ানমার জান্তা ফের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে।
একইসাথে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাখাইনে ঢুকতে না পারে সেজন্য মাইনগুলো পুঁতে রাখতে পারে।
স্থলমাইন নিষিদ্ধ করতে অটোয়া কনভেনশন নামে একটি চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী কোনও দেশের স্থলমাইন ব্যবহার, মজুদ, উৎপাদন, ও হস্তান্তর নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ এখনো পর্যন্ত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে মিয়ানমার, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইসরায়েলসহ আরও কয়েকটি দেশ চুক্তিতে সই করেনি।
নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়
টেকনাফের সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন বাস করছেন মৃত্যুকূপে। কখন কোনদিক দিয়ে গুলি আসছে, পড়ছে মর্টার শেল তার ইয়ত্তা নেই।
সীমান্তজুড়ে অসংখ্য মাইন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নাগরিক নিরাপত্তার জন্যই মাইন অপসারণ বা চিহ্নিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন তা করা যাচ্ছে না?
অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলছিলেন, “মাইন অপসারণ একটি বিশেষায়িত ইউনিটের কাজ। এটি সেনবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের বিশেষ প্রশিক্ষিত ইউনিটকে করতে হয়। কিন্তু সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে তার ভিন্ন অর্থ তৈরি হতে পারে।”
তবে এক্ষেত্রে উপায় বাতলে দিয়েছেন তিনি। বলছেন, “বিজিবির পোশাকে সেনাবাহিনীর বিশেষ দল এই কাজ করতে পারে। এটা সামরিক দুনিয়ায় প্রায়ই হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দুই পাশের গোয়েন্দা তথ্যের সম্মিলন লাগবে।”
মিয়ানমার সরকারের সাথে এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার চিঠি চালাচালি করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত যেখানে নাফনদী একটা বড় অংশজুড়ে আছে, পুরোটার নিয়ন্ত্রণেই আছে আরাকান আর্মি।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলছিলেন, “এখানে মূল প্রশ্ন হচ্ছে কাউন্টার পার্ট কে? মিয়ানমার জান্তা সরকারের সাথে কথা বলেতো লাভ হবে না। কথা বলতে হবে আরাকান আর্মির সাথেও। কিন্তু তারা যেহেতু ননস্টেট অ্যাক্টর, তাই এক্ষেত্রে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হবে।”
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলছেন, “আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত নয়। এটা সুরক্ষিত করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রথম কাজই হলো নাগরিকের নিরাপত্তা।”
মিয়ানমার সীমান্তের মাইন অপসারণের পদ্ধতি কেমন হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলেছেন, “আরাকান আর্মি সাথে কথা বলতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। তবে যেহেতু তারা ননস্টেইট অ্যাক্টর তাই সামনাসামনি না হলেও ব্যাক চ্যানেলে কথা বলার উপায় আছে। সব দেশেই এটা হয়।”
ঝুঁকিতে নাফের জেলেরা
শুধু উড়ে আসা গুলি বা মর্টার শেল নয়, টেকনাফের নাফ নদী সমান ঝুঁকিতে। যে নদীর ওপর নির্ভর করে অসংখ্য জেলের ও তাদের পরিবারের জীবন।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণের নেয় আরাকান আর্মি। এরপর থেকে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় বা আসা যাওয়ার সময় প্রায়ই আরাকান আর্মির হাতে আটক হয় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা।
আটক জেলেদের সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৯৯।
এর মধ্যে বাংলাদেশি ১১৮ জন আর রোহিঙ্গা আছে ৮১ জন। শুধু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায় ৮৩ জনকে। এদের প্রায় সবাইকেই অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে ফেরত আনা গেছে। তবে কয়েকজন এখনও নিখোঁজ।
তথ্য অনুযায়ী আরাকান আর্মি হাতে আটক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জেলের সংখ্যা:
অগাস্ট ২০২৪: ২ জন
সেপ্টেম্বর ২০২৪: ১৬ জন
অক্টোবর ২০২৪: ৫ জন নভেম্বর
২০২৪: ২৪ জন
ডিসেম্বর ২০২৪: ৪ জন
ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ৮৩ জন
মার্চ ২০২৫: ২৭ জন
এপ্রিল ২০২৫: ২৮ জন
মে ২০২৫: ১০ জন
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালালের মতে শুধু জেলে নয় এদের অনেকে বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদক ও পশু চোরাচালানের সাথে জড়িত। এজন্য সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তারা আরাকান আর্মি হাতে ধরা পড়ে।
বান্দরবানের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি কারণ জানিয়েছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
তিনি জানিয়েছেন, আরাকান আর্মি রাখাইনে যুদ্ধাবস্থায় আছে। তাদের যে খাবার বা ঔষধ দরকার হয় তা জোগাড় করতেই জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।
অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় কথা মিললে, জেলেদের ফেরত আনতে যে নৌযান পাঠানো হয় তাতেই পৌঁছে দিতে হয় ওইসব প্রয়োজনীয় রসদ।
রাজনৈতিক সরকারকে ভাবতে হবে
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আর যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশিদের জীবনের শঙ্কা বাড়ছেই। আপাত দৃষ্টিতে এর আশু সমাধানেরও কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলছেন, “আরাকান আর্মির সাথে কথা না বললে এই সমস্যার সমাধান হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সামনে যে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবে তাদের এই আলোচনার উপায় বের করতে হবে। কারণ নাগরিক নিরাপত্তাই এখানে মুখ্য।”
অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলছেন, “প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে যেভাবেই হোক তাদের সাথে কথা বলে মাইন চিহ্নিত করতে হবে। অপসারণের জন্য প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা নিতে হবে। অপসারণের প্রক্রিয়ায় দেরি হলেও অন্তত মাইনের স্থান চিহ্নিত করে নাগরিকদের জানিয়ে দিতে হবে যে কোথায় যাওয়া যাবে কোথায় যাবে না।”
জেনারেল মুনীরুজ্জামানের মতে আরও একটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে সরকারকে। “রোহিঙ্গারা কিভাবে সীমান্ত অঞ্চলে আসা যাওয়া করে কিংবা কিভাবে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অনেকটা সুরক্ষিত করা যাবে সীামন্ত।”