১৯৭৫ সালে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে তিনটি অভ্যুত্থান ঘটে। শেষ দুইটি ছিল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, ৩ ও ৭ তারিখে। সাতই নভেম্বরের পর কয়েক দিন সেনাবাহিনীতে কার্যত কোনো কমান্ড ছিল না।
সৈনিকেরা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন, অনেক অফিসার সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ কেউ নিরাপত্তা হেফাজতে। শুধু ৭ই নভেম্বর রাতেই নিহত হন ১২ জন অফিসার। কে জ্যেষ্ঠ আর কে অধস্তন, সেই ভেদও তখন আর মানা হচ্ছিল না।
ছয়ই নভেম্বরের রাত
ঢাকায় তখন গুজবের শেষ নেই। আবার অভ্যুত্থান হবে, পাল্টা অভ্যুত্থান হবে, এমন আশঙ্কায় রাজনীতিবিদ থেকে সেনা কর্মকর্তারা, কেউই স্বস্তিতে ছিলেন না।
ছয়ই নভেম্বর সন্ধ্যায় সেনানিবাসে কিছু লিফলেট ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে বিবিসি বাংলাকে মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছিলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার হাতে একটি লিফলেট আসে। তাতে অফিসারদের হত্যার ইঙ্গিত ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রাতে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তখন তার মনে হয়েছিল, আগে নিজের জীবন বাঁচাতে হবে, তারপর সেনাবাহিনীর কথা ভাবা যাবে।
এর আগে ৩রা নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানউর রহমানকে বন্দি করেন। নিজেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকেই পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি চলছিল।
ছয়ই নভেম্বর রাত ১২টার পর সেনানিবাসে গোলাগুলি শুরু হয়। ব্যারাক ছেড়ে সৈনিকেরা দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন। মেজর জেনারেল ইব্রাহিম বলেছেন, তার ইচ্ছা ছিল গোলাগুলির মধ্যেই নিজের ব্যাটালিয়নে পৌঁছাবেন। কিন্তু চারদিক থেকে গুলি আসছিল। কোন দিক থেকে কে গুলি করছে, বোঝার উপায় ছিল না। গোলাগুলির শব্দে কারও কথাও তিনি শুনতে পারছিলেন না ।
তখন সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন এম সাখাওয়াত হোসেন, যিনি পরে নির্বাচন কমিশনার ও প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন। তার ‘রক্তাক্ত দিনগুলো ১৯৭৫-৮১’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, ঘুম ভেঙে বাসার পেছনের বারান্দায় গিয়ে দেখেন, গাড়িভর্তি সৈনিকরা গুলি করতে করতে যাচ্ছে। কয়েকটি ট্যাংক ছুটছে দক্ষিণ দিকে। বিমানবিধ্বংসী কামানের ট্রেসার রাউন্ডে আকাশ লাল হয়ে উঠেছে।
সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, ভোরে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের দিকে যাওয়ার সময় তিনি সৈনিকদের স্লোগান শুনতে পান। এর মধ্যে একটি ছিল, “অফিসারের রক্ত চাই।“ তখন তার মনে হয়েছিল, সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামো বলতে যা কিছু ছিল, তাও ভেঙে পড়েছে।
পালটা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা
পালটা অভ্যুত্থানের পেছনে ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্নেল আবু তাহের ও জাসদ। কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন তখন ঢাকায় জাসদের গণবাহিনীর প্রধান। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। বিবিসি বাংলাকে ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়া।
তেসরা থেকে ছয়ই নভেম্বরের মধ্যে সৈনিকদের সঙ্গে জাসদের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। এসব বৈঠক থেকেই সৈনিকেরা ১২ দফা দাবি তৈরি করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল খালেদ মোশাররফকে সরানো।
তাহেরের পরিকল্পনা ছিল, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সৈনিকেরা কিছু বাড়তি অস্ত্র নিয়ে সেনানিবাসের বাইরে বের হবেন। বাইরে অপেক্ষায় থাকা শ্রমিক ও ছাত্রদের হাতে সেসব অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।
আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একটি বিপ্লবী কমান্ড কাউন্সিল গঠন, রাজবন্দিদের মুক্তি এবং সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
এই পরিকল্পনায় জিয়াউর রহমানউর রহমানকেও পাশে চেয়েছিল জাসদ।
সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমানর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই তাকে সঙ্গে পেলে অভ্যুত্থান সফল করা সহজ হবে বলে ধারণা করেছিল জাসদ ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জিয়াউর রহমান ও তাহের পরিচিত ছিলেন।
এম সাখাওয়াত হোসেনের তার বইয়ে লিখেছেন, দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্টের মেজর মুহিউদ্দিন ও সুবেদার মেজর আনিস জিয়াউর রহমানকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিজেদের ইউনিটে নিয়ে যান। জিয়াউর রহমান সেখানে পৌঁছানোর পর তাহেরের পরিকল্পনা আর এগোয়নি।
সাতই নভেম্বর সকালে বেতারে জিয়াউর রহমানর সেই ভাষণ প্রচারিত হয়।
সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, ভাষণে জিয়াউর রহমান সৈনিকদের শান্ত থাকতে ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে বলেন। দেশবাসীকেও যার যার কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কর্নেল এম এ হামিদ তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ বইয়ে লিখেছেন, ভাষণে জিয়াউর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর অনুরোধে তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন।
এরপর অভ্যুত্থানে গণবাহিনীর ভূমিকা অনেকটাই আড়ালে চলে যায়।
রক্তাক্ত দুই দিন
সাতই নভেম্বর সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। এম এ হামিদ লিখেছেন, সৈনিকদের সব দাবি মেনে নিতে রাজি ছিলেন না জিয়াউর রহমান। একপর্যায়ে সৈনিকেরা অফিসারদের বিরুদ্ধে পাল্টা-বিপ্লবের প্রস্তুতি নেন। ওই রাতেই ঢাকা সেনানিবাসে বিপ্লবী সৈনিকদের গুলিতে ১২ জন অফিসার নিহত হন। ইব্রাহিম এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ও জাসদকে দায়ী করেছেন।
সাখাওয়াত হোসেনের বর্ণনায়, কিছু অফিসারের আচরণে ক্ষুব্ধ সৈনিকেরা তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালান। প্রাণ বাঁচাতে অনেক অফিসার পরিবার ফেলে পালিয়ে যান। যাদের পাওয়া যাচ্ছিল, তাদের নিরাপত্তার জন্য ইউনিটের কোয়ার্টার গার্ডে আটকে রাখা হচ্ছিল। দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্টের লকআপে লেফটেন্যান্ট কর্নেল বাহারের মতো একজন জ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে দেখে অবাক হয়েছিলেন সাখাওয়াত।
সাতই নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে খালেদ মোশাররফ ও তার দুই সহযোগী কর্নেল নাজমুল হুদা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল এটিএম হায়দারও নিহত হন।
ঘটনাটি সাখাওয়াত পরে শুনেছিলেন দশম ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নওয়াজিশ আহমেদের কাছে।
নওয়াজিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন তার অফিসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভোরে জিয়াউর রহমান খালেদের খোঁজ পেয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর জিয়াউর রহমান নওয়াজিশকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেন। পরে ফোন করেও একই নির্দেশ দেন। কিন্তু সেনানিবাস থেকে আসা বিপ্লবী সৈনিকেরা নওয়াজিশের ইউনিটের সৈনিকদের উত্তেজিত করে তোলেন। তিনজনকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অধিনায়কের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
নওয়াজিশ তাদের ঠেকাতে পারেননি। সৈনিকেরা প্রায় দরজা ভেঙে অধিনায়কের অফিসে ঢুকে তিনজনকে নিচের গ্যারেজে নিয়ে যান। সেখানেই তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
পরদিন, ৮ই নভেম্বর সকালেও একের পর এক হত্যার খবর আসতে থাকে।
সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, সেদিন চারজন অফিসার নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন নারী চিকিৎসক হামিদা ও ডেন্টাল সার্জন করিম।
হকি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত ক্যাপ্টেন আনোয়ার ও লেফটেন্যান্ট মোস্তাফিজকে টেলিভিশন স্টেশনের কাছে ধাওয়া করে হত্যা করা হয়।
বিমানবন্দরে নিহত হন মেজর আজিম। তিনি চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেনের মতে, এসব হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অভ্যুত্থান নিয়ে আগ্রহ কমে যায়।
যেসব সৈনিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে 'সিপাহি-জনতার বিপ্লবে' যোগ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়। অনেকে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা থেকে সরে আসতে থাকেন।
সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানো
আটই নভেম্বর জিয়াউর রহমানের দিন কেটেছিল ব্যস্ততায়।
এম এ হামিদের বই অনুযায়ী, জাসদ নেতাদের সঙ্গে ১২ দফা দাবি নিয়ে তার একাধিক বৈঠক হয়। সিনিয়র-জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
একই সঙ্গে সৈনিকদের আর রক্তপাত না করার আহ্বান জানান। বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে অস্ত্র জমা দিতেও বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, সেদিন বিকেলে চতুর্থ বেঙ্গলের লাইনের কাছে সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলেন জিয়াউর রহমান। তখন ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার ছিলেন মাত্র ৪০-৫০ জন। বাকি প্রায় সবাই ছিলেন সশস্ত্র সৈনিক।
জিয়াউর রহমান তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যেতে বলেন। সৈনিকদের ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাসও দেন।
তিনি সরকারের পক্ষ থেকেই এ কথা বলছিলেন, যদিও তখনও রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। জিয়াউর রহমানের বক্তব্যের পর সৈনিকেরা অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার উল আলম তখন রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক ছিলেন।
তার ‘রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা’ বইয়ে বলা হয়েছে, ৯ই নভেম্বর থেকে জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে বিভিন্ন সেনানিবাসে যাতায়াত শুরু করেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই দিন সকালে সেনাসদরে প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে বসে অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করেন।
১০ই নভেম্বর দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্ট ছেড়ে সেনাসদরে অফিস শুরু করেন জিয়াউর রহমান। সেখানে তার মূল কাজ ছিল সৈনিকদের কাছ থেকে অস্ত্র ফেরত আনা এবং সেনাবাহিনীতে আবার কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা।
মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীও তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য-স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে লিখেছেন, সেনাসদরে জিয়াউর রহমান ক্ষুব্ধ সৈনিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।
ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদের মতে, দুই-তিন দিনের মধ্যেই জিয়াউর রহমান পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন।
আর এম এ হামিদের বইয়ে বলা হয়েছে, ১৪ই ও ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাস প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। সৈনিকেরা ব্যারাকে ফিরে যান, লুট করা অস্ত্রও জমা দিতে শুরু করেন।
তখনকার মেজর মাহবুবুর রহমান পরে সেনাপ্রধান হন এবং অবসরের পর বিএনপিতে যোগ দেন।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তার বর্ণনায়, জিয়াউর রহমান এক সেনানিবাস থেকে আরেক সেনানিবাসে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। কোথাও সৈনিকেরা অস্ত্র জমা দিচ্ছিলেন না, কোথাও কেউ কারও কথা শুনছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কমান্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।
১৯৭৫ সালের নভেম্বরের ঘটনাগুলো নিয়ে যারা লিখেছেন বা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, তাদের বর্ণনায় কিছু জায়গায় অমিল থাকলেও সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানর ভূমিকা নিয়ে মিল পাওয়া যায়।
সৈনিকদের অস্ত্র জমা দিতে বলা, বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা, সেনা কর্মকর্তাদের এক জায়গায় এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা; এসবই ছিল সেই সময়ের কাজ।
এই সময়ের হিসাব অবশ্য শুধু সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরের তিন বছরে আরও ১৮টি বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিল।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামো যে ভেঙে পড়েছিল, তা আবার দাঁড় করিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান । সাতই নভেম্বরকে কেউ বিপ্লব বলেন, কেউ অভ্যুত্থান। কিন্তু ওই দিনের পর সেনাবাহিনীতে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, সেটিও বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।