মাঝ আকাশে খুলে গিয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা, ঢাকায় জরুরি অবতরণ ও রোগীর মৃত্যু

বাংলাদেশের আকাশসীমার ১২ হাজার ফুট ওপর দিয়ে রবিবার উড়ে যাচ্ছিল একটি ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। ওই সময় হঠাৎ বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং এর একটি দরজা খুলে যায়। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে এক মরণাপন্ন রোগী ও তার স্বজনেরা ছিলেন। পরে বিমানটি ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে।

এরপর বিমানে থাকা ওই রোগীকে দ্রুত ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পাইলটের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকাশেই উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন জরুরি অবতরণ ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ ছিল না।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিমানটি ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা থেকে যাত্রা শুরু করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানের দরজা খুলে যায়।

তখন কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি ঢাকায় জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়। অনুমতি পাওয়ার পর এটি অবতরণ করে।

“আমরা জানতে পেরেছি, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান”, বলেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি আলাপ-কে জানান, ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দুই জন ক্রু, রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক এবং রোগীর দুইজন অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন।

ঘটনার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতীয় সময় রবিবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

১২ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উড়োজাহাজের প্রধান দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিকভাবে খুলে যায়।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ঢাকায় অবতরণের আগেই শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উড়োজাহাজের আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়।

পরে উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা সব ক্রু ও অন্যান্য আরোহী নিরাপদ থাকলেও, রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ওই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, যাত্রীতালিকায় ভারতের নাগরিক নিহত অঞ্জনা ভৌমিকের নাম ছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আরও ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং রোগীর দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। সবাই ভারতীয় নাগরিক।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করছিল ভারতের এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। উড়োজাহাজটির মডেল সি৯০এ। নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ।

উড়োজাহাজটির পাইলট-ইন-কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন।