গুম কমিশনের সুপারিশ ধরে নতুন খসড়া, সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

গুমের বিচার কাঠামোয় বড় বদল ও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে খসড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া বিল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মতামতের জন্য খসড়াটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়ায় কাউকে গুম করার পর তার মৃত্যু হলে অথবা পাঁচ বছরেও জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় সন্ধান না পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করেছে সরকার।

একই সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু না হলে অপরাধীকে সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

গণমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত আইনটি তোলা হবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে।

খসড়ায় গুমকে আলাদা ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ, তদন্ত, বিচার, শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের আরেকটি দিক হলো- শুধু যিনি সরাসরি কাউকে ধরে নিয়ে যাবেন, তিনিই অপরাধী হবেন না। গুমের নির্দেশদাতা, অনুমতিদাতা, সহায়তাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীকেও একইভাবে দায়ী করা যাবে। 

কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে জেনেও প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে বা অধীনদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তিনিও মূল অপরাধীর মতো শাস্তি পেতে পারেন।

কোন ঘটনাকে গুম বলা হবে

খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিজে কিংবা তাদের অনুমতি, সমর্থন বা সম্মতিতে অন্য কোনো ব্যক্তি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করার পর তা অস্বীকার করলে ঘটনাটি গুম হিসেবে গণ্য হবে।

একইভাবে আটক ব্যক্তির অবস্থান, শারীরিক অবস্থা বা পরিণতি গোপন রেখে তাকে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলেও তা গুম হবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার, সরকারি গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থা এবং যৌথ বাহিনীকে শৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় রাখা হয়েছে।

তবে কাউকে গ্রেপ্তারের পর সংবিধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে, এর আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তার অবস্থান গোপন রাখাকে গুম বলা হবে না। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আদালতে তোলা হলে শুধু আটকের স্থান না জানানোর কারণে গুমের মামলা হবে না।

ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে গুম সংঘটিত হলে তা এই আইনে সাধারণ গুম হিসেবে বিচার হবে না। এমন ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচার করার কথা বলা হয়েছে। একই ঘটনার বিচার একসঙ্গে দুই আইনে চলবে না।

চলমান অপরাধ

প্রস্তাবিত আইনে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপরাধটি শেষ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

এমনকি ওই ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত হলেও তার দেহাবশেষ শনাক্ত করে আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত অপরাধ চলমান থাকবে। ফলে বহু বছর আগের কোনো গুমের ঘটনার তদন্ত ও বিচার শুরুর সুযোগ থাকবে, যদি নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি এখনো জানা না যায়।

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

সাধারণ গুমের জন্য সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।

গুমের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, তার লাশ পাওয়া গেলে অথবা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে আদালত মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন। সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

গুমের প্রতিবাদে বিগত বছরে একাধিক আন্দোলন হয়েছে

গুমের ঘটনায় অপহরণ, বেআইনি আটক বা হত্যার মতো অন্য অপরাধের বিচার আগে হয়ে থাকলেও গুমের জন্য আলাদা মামলা করা যাবে। গুমের সাক্ষ্য বা প্রমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট, গোপন বা পরিবর্তন করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

কেউ গোপন আটককেন্দ্র তৈরি, স্থাপন বা ব্যবহার করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা হবে। আইন অনুমোদন করে না, এমন কোনো স্থানে কাউকে আটক রেখে তার পরিবার, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবস্থান না জানালে সেটি গোপন আটককেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে। গুমের চেষ্টা, সহায়তা, প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র করলেও মূল অপরাধীর সমান সাজা হতে পারে।

খসড়ায় সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো অধিনায়ক, কর্মকর্তা বা দলনেতা গুমের নির্দেশ, অনুমতি, সমর্থন বা প্ররোচনা দিলে তাকে মূল অপরাধীর মতো সাজা দেওয়া হবে।

অধীন ব্যক্তিরা গুম করছে বা করতে যাচ্ছে, এমন তথ্য থাকার পরও কোনো কর্মকর্তা তা উপেক্ষা করলে কিংবা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তিনিও দায়ী হবেন। শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধ, জরুরি অবস্থা বা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতিকে গুমের পক্ষে অজুহাত হিসেবে দেখানো যাবে না। সরকার, বাহিনীর প্রধান বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করার যুক্তিও দায়মুক্তির কারণ হবে না।

আদালতে মামলা

গুমের শিকার ব্যক্তি নিজে অভিযোগ করতে পারবেন। তিনি ফিরে না এলে পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা ব্যক্তিও থানায় অভিযোগ দিতে পারবেন।

থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করা যাবে। মামলা করার জন্য সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি লাগবে না। সরকারি কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য অভিযুক্ত হলেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। যৌক্তিক কারণে আদালত আরও সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় দিতে পারবেন। বর্ধিত সময়েও তদন্ত শেষ করতে না পারলে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালত গোপন আটককেন্দ্র, সরকারি-বেসরকারি ভবন বা সন্দেহভাজন অন্য স্থানে তল্লাশির পরোয়ানা দিতে পারবেন। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আদালত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদনও চাইতে পারবেন।

অভিযোগ গঠনের পর দায়রা জজ আদালতকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। প্রয়োজন হলে কারণ লিখে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া যাবে। অভিযুক্ত পালিয়ে থাকলে নির্ধারিত নিয়মে নোটিশ দিয়ে তার অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানো যাবে।

জামিন অযোগ্য

প্রস্তাবিত আইনে গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। জামিনের আবেদন হলে অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। তবে অভিযুক্ত নারী, শিশু বা গুরুতর অসুস্থ হলে আদালত বিশেষ বিবেচনায় জামিন দিতে পারবেন।

দায়রা আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করা যাবে। ফোনের তথ্য, ভিডিও, ছবি, ডিজিটাল বার্তা ও অনলাইন যোগাযোগ আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ করা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদালত তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দিতে পারবেন। তবে শুধু অভিযোগ প্রমাণিত না হলেই অভিযোগকারীকে শাস্তি দেওয়া যাবে না; অভিযোগটি জেনেশুনে মিথ্যা ছিলো, তা প্রমাণ করতে হবে।

ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের অধিকার

অপরাধীর কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত। দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ বা নিলাম করেও ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে। তার কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ফল এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার থাকবে। তারা বিনা খরচে সরকারি আইনি সহায়তা পাবেন। অভিযোগকারী, সাক্ষী, সাংবাদিক ও তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা এবং প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে তার সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি বণ্টনের অনুমতি চাইতে পারবেন। আদালত একটি ‘গুম সনদ’ দিতে পারবেন, তবে সেটি মৃত্যুসনদ হিসেবে গণ্য হবে না।

গুমে স্বজনহারাদের আহাজারি

ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করবে সরকার। একই সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারকে গুমসংক্রান্ত তথ্য ও বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।

গুম কমিশনের রিপোর্টে যা ছিলো

জানুয়ারিতে প্রকাশিতত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে গুমের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মকর্তার অপরাধ ছিলো না; বরং এটি ছিলো একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি সংগঠিত ব্যবস্থা। 

অন্তবর্তী সরকারের সময় গঠিত এই কমিশনের কাছে ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সম্ভাব্য গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কমিশনের হিসাবে প্রকৃত গুমের সংখ্যা চার হাজার থেকে ছয় হাজার হতে পারে।

কমিশনের মতে, দীর্ঘ সময় গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা, বিভিন্ন বাহিনীর যৌথ অভিযান এবং একই কৌশলে ভুক্তভোগীদের তুলে নেওয়া ও পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রমাণ করে যে এটি ব্যক্তিগত বা আকস্মিক অপরাধ ছিলো না। সরাসরি জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আটককেন্দ্র ও বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রয়োগের কথা বলেছে কমিশন।

গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কমিশন গুমকে আলাদা ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ এবং স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা তৈরির সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি র‌্যাব বিলুপ্ত করা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা আইনে নির্দিষ্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

কমিশনের সব সুপারিশ খসড়া বিলে আসেনি। কমিশন র‌্যাব বিলুপ্ত করা, সশস্ত্র বাহিনীকে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সরানো, গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা আইনে নির্দিষ্ট করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চেয়েছে। খসড়া বিল মূলত গুমের সংজ্ঞা, শাস্তি, তদন্ত, বিচার ও ক্ষতিপূরণের কাঠামো দিয়েছে; বাহিনীগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের বিষয় এতে নেই। 

কমিশন গুমকে আলাদা ও চলমান অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি, নির্দেশদাতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ এবং স্বাধীন তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার সুপারিশ করেছিলো। খসড়া বিলেও নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানা না যাওয়া পর্যন্ত গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। সরাসরি জড়িত ব্যক্তির পাশাপাশি নির্দেশদাতা, সহায়তাকারী এবং ঘটনা জেনেও প্রতিরোধ না করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একই অপরাধে দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে।