আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের মান নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র উদ্বেগ
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএমআপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসঙ্গতি থাকলে তা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে পারে এবং বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে অনেক মামলায় আন্তর্জাতিক মানের ন্যায্য বিচারের মৌলিক নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না।
তার মতে, দুর্বল তদন্ত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের সুযোগ থাকলে বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ট্রাইব্যুনালের একাধিক মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের নেওয়া সাক্ষ্য ও বিবৃতিতে একই ধরনের ভাষা হুবহু পুনরাবৃত্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি বহুল আলোচিত মামলার ৫৫টি সাক্ষ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে একই অভিযোগের ভাষা প্রায় শব্দে-শব্দে মিলে গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তারা বলছে, এমন মিল সাক্ষ্যের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ
গত ১৪ই মে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিহতের ঘটনা আড়াল করতে তারা ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করেছিলেন।
তাদের আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় লিখিতভাবে অভিযোগের কারণ জানানো হয়নি। এইচআরডব্লিউ বলছে, এটি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
২৭এ জুলাই দাখিল করা অভিযোগপত্রে ওই দুই সাংবাদিককেও মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘুষের অভিযোগে পদত্যাগ, তদন্ত এখনো শেষ নয়
চট্টগ্রামের একই মামলায় আটক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবীরা একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেন। সেখানে এক ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ প্রকাশের পর ওই প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। তবে প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এখনো তদন্ত শেষ করেনি। এদিকে মামলার বিচার আগামী ৬ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, বর্তমান ট্রাইব্যুনাল আইনে এখনো এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতের মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার, দীর্ঘ সময় লিখিত কারণ ছাড়া আটক রাখা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সীমিত সময় দেওয়ার মতো বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “বাংলাদেশের উচিত অতীতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বিচারের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়াই ভুক্তভোগী ও দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের মান নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ বলেছে, তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসঙ্গতি থাকলে তা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে পারে এবং বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে অনেক মামলায় আন্তর্জাতিক মানের ন্যায্য বিচারের মৌলিক নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না।
তার মতে, দুর্বল তদন্ত ও ভিত্তিহীন অভিযোগের সুযোগ থাকলে বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ট্রাইব্যুনালের একাধিক মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের নেওয়া সাক্ষ্য ও বিবৃতিতে একই ধরনের ভাষা হুবহু পুনরাবৃত্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি বহুল আলোচিত মামলার ৫৫টি সাক্ষ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে একই অভিযোগের ভাষা প্রায় শব্দে-শব্দে মিলে গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তারা বলছে, এমন মিল সাক্ষ্যের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ
গত ১৪ই মে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিহতের ঘটনা আড়াল করতে তারা ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করেছিলেন।
তাদের আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় লিখিতভাবে অভিযোগের কারণ জানানো হয়নি। এইচআরডব্লিউ বলছে, এটি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
২৭এ জুলাই দাখিল করা অভিযোগপত্রে ওই দুই সাংবাদিককেও মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘুষের অভিযোগে পদত্যাগ, তদন্ত এখনো শেষ নয়
চট্টগ্রামের একই মামলায় আটক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবীরা একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেন। সেখানে এক ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ প্রকাশের পর ওই প্রসিকিউটর পদত্যাগ করেন। তবে প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় এখনো তদন্ত শেষ করেনি। এদিকে মামলার বিচার আগামী ৬ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, বর্তমান ট্রাইব্যুনাল আইনে এখনো এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতের মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার, দীর্ঘ সময় লিখিত কারণ ছাড়া আটক রাখা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সীমিত সময় দেওয়ার মতো বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “বাংলাদেশের উচিত অতীতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বিচারের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়াই ভুক্তভোগী ও দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।”
বিষয়: