ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জাতিগত বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিমদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বহু মানুষ সীমান্তের ‘জিরো লাইন’-এ আটকে পড়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিজিবির সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি মাসের ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি পুশব্যাকের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এসব ঘটনার মাধ্যমে নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউ জানায়, অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে সাধারণ মানুষকে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় একাধিক ঘটনায় ৪৮ থেকে ৭৫ ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষকে জিরো লাইনে আটকে থাকতে দেখা গেছে। অবশ্য পরে দুই দেশের সীমান্ত কর্মকর্তাদের আলোচনার মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়া এবং নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার কঠোরতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য ও নীতিকে এর জন্য দায়ী করে সংস্থাটি বলেছে, এই ধরণের পদক্ষেপ সীমান্ত এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু দাবি করেছিলেন, “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নীতির আওতায় শত শত কথিত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী”কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ মানুষকে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কাউকে বাংলাদেশে গ্রহণ করা হবে না।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অজুহাতে কোনো মানুষকে এভাবে দুটি সশস্ত্র বাহিনীর মাঝখানে ফেলে রেখে অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।