জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্বীকৃতি, গোল্ডম্যান পুরস্কার পেলেন ছয় নারী

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং পরিবেশবিধ্বংসী শিল্পের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল পর্যায়ের ছয় নারী কর্মীকে দেওয়া হয়েছে এ বছরের গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ। ১৯৮৯ সালে পুরস্কারটি চালুর পর এই প্রথম সব বিজয়ীই নারী, যা বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, নাইজেরিয়ার ইরোরো তানশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বোরিম কিম, যুক্তরাজ্যের সারা ফিঞ্চ, পাপুয়া নিউগিনির থিওনিলা রোকা ম্যাটবব, যুক্তরাষ্ট্রের আলান্নাহ আকাক হারলি এবং কলম্বিয়ার ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো।

এই পুরস্কার ১৯৮৯ সালে সমাজসেবী রিচার্ড ও রোডা গোল্ডম্যান চালু করেন। বিশ্বের ছয়টি প্রধান অঞ্চল থেকে একজন করে বিজয়ী বেছে নেওয়া হয়। প্রত্যেকে পান দুই লাখ ডলার করে পুরস্কার। এবারই প্রথম ছয়জন পুরস্কারজয়ীই নারী। 

ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা এবং জীবনরক্ষাকারী জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নের লড়াই এখনও কঠিন। তবে চারপাশেই সত্যিকারের নেতৃত্বের উদাহরণ রয়েছে। 

এ বছরের বিজয়ীরা দেখিয়েছেন, সাহস, কঠোর পরিশ্রম আর আশাবাদই অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারে।

ইউভেলিস মোরালেস - দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা

দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের বিজয়ী ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো কলম্বিয়ায় বাণিজ্যিক ফ্র্যাকিং চালুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল হয়েছেন। ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী মাগদালেনা নদীর তীরে জেলেপরিবারে বড় হয়েছেন। ২০১৮ সালে বড় এক তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বহু পরিবারকে স্থানান্তরিত হতে হয় এবং হাজারো প্রাণী মারা যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তার এই সক্রিয়তা ফ্র্যাকিংবিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনে এবং ২০২২ সালের নির্বাচনে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বোরিম কিম- এশিয়া

এ বছরের পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে আরও দুজন মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে কাজ করে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ী বোরিম কিম ‘ইউথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’ সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে করা এক মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত রায় দেন, দেশটির জলবায়ু নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এটি এশিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রথম সফল জলবায়ু মামলা।

সারা ফিঞ্চ-ইউরোপ

ইউরোপ অঞ্চলের বিজয়ী সারা ফিঞ্চও জীবাশ্ম জ্বালানিবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত নাম। তিনি ওয়াইল্ড অ্যাকশন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে তেল উত্তোলনের বিরুদ্ধে এক দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করেছেন। 

২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আগে বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। এই রায় ‘ফিঞ্চ রুলিং’ নামে পরিচিত।

থিওনিলা রোকা ম্যাটবব 

খনি প্রকল্পের পরিবেশগত ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে পুরস্কার পেয়েছেন আরও দুজন। পাপুয়া নিউগিনির থিওনিলা রোকা ম্যাটবব এমন একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খনি কোম্পানি রিও টিন্টো বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঙ্গুনা তামাখনির কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। খনিটি স্থানীয় বিদ্রোহের পর ৩৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়।

আলান্নাহ আকাক- উত্তর আমেরিকা 

উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের বিজয়ী আলান্নাহ আকাক হারলি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ুপিক নেশনের সদস্য, ১৫টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে আলাস্কার ব্রিস্টল বে অঞ্চলে একটি বিশাল তামা ও সোনার খনি প্রকল্প ঠেকাতে সফল হন। প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এখানেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্য স্যামন মাছের বিচরণক্ষেত্র।

আফ্রিকা অঞ্চলের বিজয়ী নাইজেরিয়ার ইরোরো তানশি হারিয়ে যেতে বসা শর্ট-টেইলড রাউন্ডলিফ প্রজাতির বাদুড়কে আবার খুঁজে বের করেন। এরপর থেকে তিনি এই বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল আফি মাউন্টেন ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি রক্ষায় কাজ করছেন, যা মানবসৃষ্ট দাবানলের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে।