‘তারেক রহমানকে সফল হতেই হবে’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন হিসাব শুরু হতে পারে রাজনীতিতে। একজন নির্ভরযোগ্য নেতা মাঠে থাকলে নতুন আকার পেতে পারে রাজনৈতিক কাঠামো।

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

২০০৮ সালে তারেক রহমান যখন দেশ ছাড়ছিলেন তখন কি জানতেন যে তার প্রত্যাবর্তনের আয়োজন এমন জাঁকালো হবে? দেশজুড়ে থাকবে চাঞ্চল্য? অপেক্ষায় থাকবে সারা দেশ?

কেউ না জানলেও রাজনীতির রাশিফলে হয়তো এমনটাই লেখা ছিল। একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া স্বপ্ন যখন হোঁচট খেতে যাচ্ছে, তখন তারেক রহমানের ফিরে আসা কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলছিলেন, “মানুষের প্রত্যাশায় একটা স্থিতিশীলতা দরকার দেশে এখন। খালেদা জিয়া অসুস্থ, শেখ হাসিনা দেশে নেই। আমাদের দেশে একটা শক্ত নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”

“দীর্ঘদিন দুইজন দেশ শাসন করার ফলে ওইরকম শক্ত নেতৃত্ব গড়েও ওঠেনি, যার সমাজে একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে, নেতৃত্বসুলভ দক্ষতা, গার্ডিয়ানসুলভ প্রভাব এগুলো থাকবে”, এমন মন্তব্যের পর আলতাফ পারভেজের মত ‘এ কারণেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রত্যাশা উঁচুতে’।

সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলছেন, “এই মুহূর্তে রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হচ্ছেন তারেক রহমান। রাজনীতিশূন্যতার মধ্যে তার আসাটা একটা ইতিবাচক দিক।”

তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতো নানা দিক থেকেই একটা শূন্যতার মধ্যে ছিল। নেতৃত্বশূন্য ছিল। তারেক রহমানের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে একটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যেই। যদি তারেক রহমান সঠিক রাজনীতি উপহার দিতে পারেন তাহলে দেশের রাজনীতিতে একটা সুবাতাস বইবে।”

গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “শেষমেষ তিনি আসছেন। তার আসার ফলে প্রত্যক্ষভাবে যে জিনিসটি হবে যে, তার দল বিএনপি আগের তুলনায় অনেক চাঙা হবে।”

মাঠের শোডাউন একটা বার্তা দেবে বলে মনে করেন মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলছেন, “তার আসার পর যে সমাবেশটি হবে সেখানে যদি বড় রকমের শোডাউন হয় এটা আমাদের দেশের মেঠো রাজনীতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক যে বিষয়গুলো আছে তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।”

“মাঠে যে যত বেশি দৃশ্যমান সেই দলের সক্ষমতা ততো বেশি এটাই প্রমাণিত হয়। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন এর পর থেকে রাস্তা এবং মাঠ অনেকটা বিএনপির দখলেই থাকবে”।

বিএনপি ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে শুধু দলীয় রাজনীতির বিবেচনায় ব্যাখ্যা করছেন না রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, রাষ্ট্রক্ষমতা, বিরোধিতাহীন রাজনীতি, নেতৃত্ব শূন্যতা আর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথচলার লেন্সেই এই প্রত্যাবর্তন জরুরি।

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “মানুষ কিন্তু তারেক রহমানকে বিএনপির নেতা হিসাবে দেখছে না। দেশের অনেকটা শেষ ভরসা হিসাবে দেখছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে যে আকাঙ্খা তৈরি হয়েছিল তা ভেস্তে যাওয়ায়, হাল পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফিরে আসাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “একটা উদ্বেগ সমাজে, গ্রামসহ সব জায়গায়। মানুষ এই উদ্বেগ থেকে মুক্তির জায়গা থেকে তারেক রহমানের আগমনটা দেখছেন। এটা শুধু বিএনপির প্রধান নেতা হিসাবে না, একটা লাস্ট হোপ আকারে দেখছে।”

তবে দ্বিমত আছে গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের।  

“তারেক রহমানতো একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজনীতির হিসাব-নিকাশের ব্যাপারতো অনেক পরে।  নির্বাচন যদি সময়মতো হয়, যদি নিজের দলকে জিতিয়ে আনতে পারেন তখন তিনি তার ঘোষিত কর্মসূচি পালন করবেন।”

“বিএনপি অতীতেও ক্ষমতায় ছিল, আবার যদি যায় তারা ওইরকমভাবে সরকার পরিচালনা করবেন। তিনি বিএনপির নেতা, তিনি একটি দল করেন, তাকে বিএনপির নেতা হিসাবেই দেখা উচিত”, বলছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

যেভাবে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান

দেশ পরিচালনার সঙ্গে তারেক রহমানের পরিচয় শৈশবেই। বাবা-মা দুজনই ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপির শাসনামলে দলীয় কাঠামোর ভেতরে থেকেও কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার ছায়াকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা মেনে উত্তরাধিকার সূত্রেই গড়ে উঠেছেন রাজনীতিবিদ তারেক রহমান।

ওয়ান এলেভেন সরকারের জরুরি অবস্থার সময় তারেক রহমানের গ্রেপ্তার এবং দেশত্যাগের মাধ্যমে হঠাৎই মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে যান, কিন্তু দল থেকে নয়।

তার মা দলকে আগলে রেখেছিলেন কয়েক বছর। তবে খালেদা জিয়ার কারাবরণ, সাজা স্থগিত হলেও কার্যত ঘরবন্দি আর  অসুস্থতায় দলে শূন্যতা তৈরি হয়।

নির্বাসনে থেকেও দলের দায়িত্বের জোয়াল তুলে নিয়েছিলেন কাঁধে। দেশে অনুপস্থিত থেকেও দলে অপরিহার্যতা ঠিক রাখেন।

তারেক রহমান ফিরছেন এমন এক সময়ে ফিরছেন যখন একাধিক ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন মানুষের রাজনৈতিক আস্থা নষ্ট করেছে।

আলতাফ পারভেজের মতে, “ওনারতো দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই, যদিও ওনার পরিবারের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে। মা বাবা দুজনই দেশের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। সেই সূত্রে উনি হয়তো কিছু জ্ঞান রাখেন। উনি সরাসরি মন্ত্রীও ছিলেন না। আবার গত ১৭ বছর বাংলাদেশের সাথে নাই। যদিও যোগাযোগের ভেতর ছিলেন। কিন্তু মাঠে থাকা আর দূরে থাকার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। ওই গ্যাপটা আছে ওনার।”

তবে মতিউর রহমান চৌধুরী বলছেন, চ্যালেঞ্জের প্রথম ধাপ তিনি অতিক্রম করেছেন।

“দলকে এক রাখতে পেরেছেন। ১৫ বছরতো লড়াই করেছেন বাইরে থেকে, দলটাকে একত্রে রাখার জন্য এবং রেখেছেন,” বলেন মতিউর রহমান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন হিসাব শুরু হতে পারে রাজনীতিতে। একজন নির্ভরযোগ্য নেতা মাঠে থাকলে নতুন আকার পেতে পারে রাজনৈতিক কাঠামো।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলছিলেন, “এই মুহূর্তে রাজনীতির অবস্থা টালমাটাল। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের আসাটা একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।”

তবে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এই সিনিয়র সাংবাদিক। 

তিনি বলছেন, “তিনি দলকে এক রাখতে পেরেছেন। জনগণের উদ্দেশ্যে যেসব কথা বলেছেন, যেসব বক্তব্য রেখেছেন যেসব ওয়াদা করেছেন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা ‍যদি পালন করেন তাহলে রাজনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।”

মধ্যপন্থার রাজনীতিই সমাধান

হাল রাজনীতিতে যে একটা দক্ষিণপন্থার উত্থান হয়েছে তা মানছেন অনেকেই। আগামীর বাংলাদেশে এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে বলেও মনে করছেন তারা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তারেক রহমানকে।

সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান বলছেন, “দক্ষিণপন্থার উত্থানতো আমরা লক্ষ্য করছি। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি যদি ডান বামের মাঝখানে যদি রাজনীতিটা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন তাহলে সফল হবেন। তাকে ডানেও যেতে হবে না বামেও যেতে হবে না।”

একই মত গবেষক আলতাফ পারভেজের।  

“এই দক্ষিণপন্থার ঐতিহাসিক বিকাশ কিন্তু বিএনপির হাত দিয়েই। বিএনপির পাশাপাশি এটার গ্রুমিং হয়েছে। এমনকি যে দলগুলোর বিরুদ্ধে এখন ভাঙচুর ইত্যাদি বা দক্ষিণপন্থার অভিযোগ তারা কিন্তু বিএনপির সাথে ছিল এক সময়। বিএনপির ভেতরেও এক ধরনের দক্ষিণপন্থার প্রভাব আছে, যদিও এখন একটু নিষ্ক্রিয় মনে হচ্ছে। ফলে তারেক রহমানকে দেশকে দক্ষিণপন্থার প্রভাব থেকে মধ্যপন্থায় আনার যেমন একটা চ্যালেঞ্জ আছে, আবার বিএনপিকে নিউট্রাল রাখারও চাপ আছে,” বলেন আলতাফ পারভেজ।

তবে ডানপন্থা নিয়ে গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের মত, “বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থির উদ্ভব হয়েছে কথাটা আমার কাছে একপেশে মনে হয়। এদেশে সবাই দক্ষিণপন্থি। কোনও বামপন্থা নেই। কেউ একটু বেশি ইসলাম জপে, কেউ একটু কম জপে, এই হলো পার্থক্য।”

তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশে ইসলামী উগ্রবাদী আছে, উগ্রবাদী বিএনপিও আছে। প্রত্যেকেই মনে করে তারা অভ্রান্ত। প্রত্যেকেউ প্রতিপক্ষকে বলে উগ্রবাদ।”

মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, “মধ্যপন্থার রাজনীতি তাকে করতেই হবে। যদি তিনি এখান থেকে বিচ্যুত হন তাহলেতো বিপদ হবে।”

নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ

চলতি বাংলাদেশে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা। মতিউর রহমান চৌধুরী বলছিলেন, “মানুষ নিরাপদ ভাবতে পারছে না নিজেদেরকে। নিরাপত্তা দিতে পারলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সহজ হবে। মানুষ আর কিছু চায় না। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে চায়, শান্তিতে চলাফেরা করতে চায়।” 

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “গত ষোলো মাসে একটা জনপ্রিয় সরকার ক্রমাগত শুধু ব্যর্থই হয়েছে। মানুষ এখন অনিরাপদ বোধ করছে। সংস্কার, বিনিয়োগ, অর্থনীতি এসব বাদ দিয়ে মানুষ জান বাঁচানোর আলাপে চলে আসছে।”

“মানুষ ভাবছে যে আমাদের একটা শক্ত লিডার দরকার। যিনি আপাতত আমাদের ক্রাইসিস থেকে উদ্ধার করবে।”

নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা

তারেক রহমানের ওপর শুধু একটা চাপ না, অনেকগুলো চাপ আছে। এটাকে শুধু সৌভাগ্য না কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকও বলছেন আলতাফ পারভেজ। তার মতে নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক পরিস্থিতি চট করে পাল্টে যাবে না।

তিনি বলছিলেন, “নির্বাচনের পরও দক্ষিণপন্থি ঘটনাগুলো ঘটবে। এটাতো একটা সুনামি শুরু হয়েছে, এটা বন্ধ হয়ে যাবে না”। 

“ওইটা সামাল দিতে হলে প্রশাসনকে যে কঠোরভাবে মাঠে প্রয়োগ করা ব্যাপার, প্রশাসনতো ছত্রখান অবস্থা, উনি কতটা এই পুলিশ প্রশাসন রিবিল্ড করতে পারবেন দ্রুত সেইটা আরেকটা ব্যাপার।”

“মধ্যপন্থি মানুষরা বলছে, ইলেকশন হোক তারেক রহমান আসুক, আমরা এই অস্থিরতা থেকে একটু রেহাই পাই”, যোগ করেন আলতাফ পারভেজ।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলছেন, “বিভাজন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা যদি আবার ওই বিভক্তি, বিভাজনের রাজনীতি যেটা চলছে সেটা আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

নিজের অঙ্গীকার রাখতে পারাই তারেক রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলছেন, “সমাজেতো একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এটা যদি তার নেতৃত্বে প্রশাসন যদি তা সামাল দিতে পারে সেটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

অর্থনীতি-কূটনীতি

চলতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগামী নির্বাচিত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যেতে পারলে সেই চাপ থাকবে তারেক রহমানের ওপর।

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “বাংলাদেশে গত তিন-চার বছর হলো ৫৪ বছরের ভেতর দারিদ্র বাড়ছে। আগে কিন্তু একটু একটু করে দারিদ্র কমতো। এখন দারিদ্র বাড়ছে। অর্থনীতিও রিভাইব করার বিষয় আছে।”

প্রায় একই সুরে মতিউর রহমান চৌধুরী বলছেন, “অর্থনীতি একটা বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায়। বিনিয়োগ নেই। মানুষের আয় নেই। কোটি লোক বেকার। বেকারত্ব দূর করার চ্যালেঞ্জ তাকে মোকাবেলা করতে হবে।”

“আরেকটা হলো কর্মসংস্থানের ব্যাপার। বাংলাদেশে গত তিন-চার বছর হলো ৫৪ বছরের ভেতর দারিদ্র বাড়ছে। আগে কিন্তু একটু একটু করে দারিদ্র কমতো। এখন দারিদ্র বাড়ছে। অর্থনীতিও রিভাইব করার বিষয় আছে”, যোগ করেন গবেষক আলতাফ পারভেজ।

দুই জনই বলছেন, উনি এমন একটা সময় আসছেন, নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জিতলে দেশের দায়িত্ব ওনার কাঁধে পড়বে, এই সময়টা সুখকর নয়। সমস্ত ‍সূচকগুলো নেতিবাচক, সিকিউরিটি থেকে অর্থনীতি পর্যন্ত। তাই চাপে থাকবেন তারেক রহমান।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলছেন, “তারেক রহমান যদি নিজেকে স্টেটসম্যান হিসাবে প্রমাণ করতে পারেন তাহলে মানুষ তাকে সাধুবাদ জানাবে, গ্রহণ করবে।”

কূটনীতি, বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কও একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে থাকবে। 

আলতাফ পারভেজ বলছেন, “বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবটা এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে শান্তশিষ্টভাবে ঠান্ডা মাথায় ভারতের সাথে উইন উইন সম্পর্ক তৈরি করার জন্য যে রাজনৈতিক টাস্ক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি এই দুইটি ওনার সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ আকারে থাকবে।”

‘ইতিহাসের বৃহত্তম’ জনসমাবেশের আশা করছে বিএনপি

লাগবে সবার সহযোগিতা

তারেক রহমান যে পাহাড়সম প্রত্যাশা আর চাপ নিয়ে দেশে আসছে সেখান থেকে উত্তরণে তার সবার সহযোগিতা লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আলতাফ পারভেজের পরামর্শ হলো, “নির্বাচনের পর হলেও বিজয়ী দলের নেতৃত্বে অন্তত পাঁচ বছর একটা জাতীয় সরকার করে, দেশকে স্থিতিশীল করে তারপর দলীয় সরকারের দিকে যাওয়া বেটার। একটা টিম তৈরি করা আর জাতীয় সরকার এই দুটো ইমিডিয়েট টাস্ক। বিএনপির একটা ছায়া সরকার এখনই তৈরি করা দরকার, পরিপক্ক মানুষ নিয়ে যারা সব জায়গায় নেতৃত্ব দিতে পারবে।”

মতিউর রহমান চৌধুরী বলছিলেন, “অর্থনীতিতো হযবরল অবস্থায় আছে। এখানে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটা একাতো পারবেন না, সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”

তরুণদের সামনে আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলছিলেন, “তরুণদের সামনে আনতে হবে। যে সমস্ত মেধাবী ছাত্র বিভিন্ন জায়গায় আছেন তাদের দেশে ফিরে আসার একটা ডাক দিতে পারেন, তাহলে দেশের উপকার হবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্য তারেক রহমানকে সফল হতেই হবে”।